kalerkantho

সোমবার । ২৯ আষাঢ় ১৪২৭। ১৩ জুলাই ২০২০। ২১ জিলকদ ১৪৪১

বাঁশখালী ও টেকনাফ

‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা মামলার দুই আসামি নিহত

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) ও টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৭ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা মামলার দুই আসামি নিহত

পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে দুই মাদরাসাছাত্র হত্যা মামলার এক আসামি এবং কক্সবাজারের টেকনাফে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে এসব ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্যমতে, বাঁশখালীর ঘটনায় থানার ওসিসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন; নিহতের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক কারবার ইত্যাদি অভিযোগে বাঁশখালীসহ বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা রয়েছে। আর টেকনাফে নিহত যুবক চিহ্নিত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী। হত্যাসহ অন্তত ছয়টি মামলার আসামি তিনি।

বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা গ্রামে নিহত নুরুল আনচার ওরফে কালু (৪০) গ্রামটির দলিলুর রহমানের ছেলে। তিনি দুই মাদরাসাছাত্র হত্যা মামলার প্রধান আসামি মদিনা ব্রিকফিল্ডের মালিক নুরুল আবছারের ছোট ভাই এবং মামলাটির ৩ নম্বর আসামি। আহত পুলিশ সদস্যদের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক রাসেদুল করিম বলেন, ছয় পুলিশকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া গেলেও ওসি ও এসআই নাজমুল হক ছররা গুলিতে বেশি জখম হয়েছেন।

জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বাঁশখালী থানার ওসি মো. রেজাউল করিম মজুমদার ও পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে অন্তত ৪০ জনের পুলিশদল ইলশা গ্রামে অভিযানে যায়। রাত ২টা নাগাদ তারা ইলশা গ্রামে মদিনা ব্রিকফিল্ডে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পুলিশ পাল্টা গুলি ছোড়ে। পুলিশ ২৭টিসহ উভয় পক্ষ অন্তত ৪৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে গোলাগুলি বন্ধ হলে ব্রিকফিল্ডের ভেতরে নুরুল আনচার প্রকাশ কালুর লাশ পাওয়া যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও চারটি কিরিচ।

ওসি বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হবে। ইলশা গ্রামে পুলিশের পাহারা বসানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইলশা গ্রামে দুই ব্রিকফিল্ডের মালিকদের দীর্ঘদিনের বিরোধে গত মঙ্গলবার রাতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন দুই মাদরাসাছাত্র মাওলানা মো. খালেদ বিন ওয়ালিদ (২৩) ও মাওলানা হাফেজ ইব্রাহিম (২২)। এ ঘটনায় এমবিএম ব্রিকফিল্ডের মালিক জয়নাল আবেদীন ঝুন্টু মামলা করেছেন।

টেকনাফে নিহত আরিফুল ইসলাম (২২) টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেষখালীয়াপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ‘সন্ত্রাসী’ আরিফুল দলবল নিয়ে মহেষখালীয়াপাড়া মৎস্যঘাট এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযানে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটলে ঘটনাস্থল থেকে আরিফুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক আরিফুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা