kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

প্রকাশকদের প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে

শামসুজ্জামান খান   

১৫ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকাশকদের প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে নানা ক্ষেত্রে যে সংকট তৈরি হয়েছে প্রকাশনা শিল্পও তার বাইরে নয়। বিশেষ করে সৃজনশীল বইয়ের প্রকাশনার ক্ষেত্রে সংকটটা বহুস্তরের। করোনা সমস্যা যেহেতু খুব দ্রুত যাচ্ছে না, তাই সৃজনশীল প্রকাশনার ক্ষেত্রেও এ সংকট সহজে যাবে বলে মনে হয় না।

কারণ, প্রকাশনা শিল্পের যে কাজ সেটা মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোজন। খুব অগ্রসর প্রযুক্তি যদি থাকত, যদি সব কিছু মেশিনে করা যেত, তাহলেও হয়তো সমস্যা হতো না। কিন্তু আমাদের তো মাঝামাঝি অবস্থা। প্রযুক্তি এসেছে, কিন্তু সেটা মানব সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন নয়। মানব সম্পর্কযুক্ত। প্রকাশনার কাজটা অনেক বড় আকারে হয়। অনেক মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত। একজন লেখক একটি পাণ্ডুলিপি দেওয়ার পর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সেটা পর্যালোচনা করে মনোনীত করে। পরে কম্পোজ হয়, প্রুফ দেখা হয়। তারপর ডিজাইন ও মেকাপ দেওয়া হয়। এরপর প্লেট তৈরি হয়। কাগজ কেনা হয়। ছাপাখানায় মুদ্রণ হয়। তারপর লেমিনেটিং ও বাঁধাইখানায় যায়। এরপর বিপণন হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় অনেক মানুষের ছোঁয়ায় একটি বই তৈরি হয়। অনেক মানুষ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার কারণে করোনা পরিস্থিতিতে বড় সমস্যা দেখা দেবে। এর কোনো সহজ সমাধান আপাতত আমি দেখছি না। করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট সব কিছুই বর্তমানে বন্ধ। একজন প্রেস মালিক সেদিন জানালেন, তাঁর প্রতি মাসে ভাড়া, বেতন-ভাতা বাবদ ১৩ লাখ টাকা দিতে হয়। এখন তো মোটেও আয় নেই। সব কিছু বন্ধ। ফলে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রেও প্রচণ্ড অভিঘাত পড়তে যাচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য তো কয়েক কোটি বই ছাপতে হয়। এই বই এবার কিভাবে ছাপা হবে তা ভেবে পাচ্ছি না। ধনী ব্যক্তির সন্তানরা হয়তো অনলাইনে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে, কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ, দুস্থ ও গরিবরা তো সে সুযোগ পাবে না।

আমাদের সৃজনশীল প্রকাশকদের অনেকে পাঠ্যপুস্তক ছাপার সঙ্গে জড়িত। এ কাজ করে তাঁরা কিছুটা আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করেন। পাঠ্যপুস্তক ছাপার কাজটি করতে পারলে হয়তো তাঁদের জন্য সহায়ক হতো।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার এগিয়ে আসতে পারে। বই কেনা ও প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি ভাবতে পারে। যাঁরা খুব ভালো, মানসম্মত বই প্রকাশ করেন তাঁদের জন্য একটা প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। যাঁরা ভালো, রুচিসম্মত বই প্রকাশ করেন তাঁদের জন্য প্রণোদনা, সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। প্রকৃত প্রকাশকরা যাতে পান তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে মাঝারি ও ছোট প্রকাশকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

লেখক : সাবেক মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা