kalerkantho

সোমবার । ২৯ আষাঢ় ১৪২৭। ১৩ জুলাই ২০২০। ২১ জিলকদ ১৪৪১

করোনা উপসর্গ

আইসোলেশনে থাকা পাঁচজনসহ মৃত ৭

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আইসোলেশনে থাকা পাঁচজনসহ মৃত ৭

করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে খুলনা, ভোলা, মৌলভীবাজার ও ফরিদপুরে আইসোলেশনে থাকা একটি শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা ও হবিগঞ্জে মারা গেছেন দুই যুবক। গতকাল শনিবার তাদের মৃত্যু হয়।

আমাদের খুলনা অফিস জানায়, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া কন্যাশিশুটির বয়স ১৬ মাস। সে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (মেডিসিন) ও করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডের মুখপাত্র ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, শিশুটির করোনা উপসর্গ ছিল। সে কারণে শুক্রবার তাকে খুলনা হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি জানান, ঢাকা থেকে ফেরার পর হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়া এক যুবক সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর বয়স ২৭ বছর। এ ঘটনায় তাঁকে যেখানে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল সে বাড়িসহ ছয়টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ওই যুবক রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। গত ২০ এপ্রিল আরো কয়েকজনের সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে তিনি গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। অন্যদের সঙ্গে তাঁকেও কামারগাতির ছোট মিয়ার মাজারের একটি কক্ষে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এ অবস্থায় জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে কয়েক দিন স্থানীয় চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন, কিন্তু শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার রাতে পাশের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন তিনি। অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল ভোর পৌনে ৪টায় তাঁকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোয়া ৬টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

সাতক্ষীরার সি?ভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফা?য়েত সাংবাদিকদের জানান, মিথ্যা তথ্য দিয়ে ওই যুবক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রকৃত তথ্য পেলে তাঁকে করোনার জন্য নির্দিষ্ট সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা যেত। তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

ভোলা প্রতিনিধি জানান, ভোলা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা গেছেন। জেলার সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালী এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, দৌলতখান উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি বৃহস্পতিবার জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে সদর হাসপাতালে আসার পর তাঁকে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। গতকাল সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে বরিশালে পাঠানো হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার জানান, ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা ৬১ বছরের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের রামনগর মনিপুরিপাড়া থেকে গত শুক্রবার রাত ১০টায় হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে তাঁর মৃত্যু হয়।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. তাওহীদ আহমদ জানান, ওই নারী করোনা আক্রান্ত ছিলেন কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সতর্কতার জন্য তাঁর বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর জানান, গতকাল দুপুর পৌনে ১২টা থেকে ১২টার মধ্যে ফরিদপুরে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন এক নারী ও এক কিশোরী।

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে একজন এবং রাতে আরেকজন শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতলে ভর্তি হয়। গতকাল সকালে তাদের মৃত্যু হয়। দুজনের মধ্যে কিশোরী (১৭) সালথা উপজেলার আটঘর এলাকার বাসিন্দা। আর ৩০ বছর বয়সী নারী চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, দুজনের মধ্যে একজন আগে পরীক্ষায় নেগেটিভ হয়েছিল। পরীক্ষার জন্য দুজনের নমুনাই সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) রয়েছে, কিন্তু দুই রোগীর শ্বাসকষ্ট বেশি তীব্র ছিল না বলে রাতে তাদের আইসিইউয়ে নেওয়া হয়নি।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার সদর উপজেলার নিজামপুর এলাকার এক যুবক (৩২) গতকাল ভোরে সিলেটের শহীদ সামছুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মৃত ব্যক্তির করোনা উপসর্গ ছিল। ইতিমধ্যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত করে বলা যাবে তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন কি না।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজউদ্দিন আহমেদ জানান, পেশায় অটোরিকশাচালক ওই যুবককে গত ২১ এপ্রিল শ্বাসকষ্টের সমস্যায় হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যার আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এরপর নেওয়া হয় শহীদ সামছুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা