kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

নারায়ণগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা

যে কারণে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা

দিলীপ কুমার মণ্ডল, নারায়ণগঞ্জ   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা

করোনাভাইরাসজনিত কভিড-১৯ রোগী বাড়তে থাকায় নারায়ণগঞ্জ জেলাকে আজ বুধবার থেকে লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ এই জেলা থেকে এখন আর কেউ বের হতে পারবে না, কেউ এই জেলায় যেতেও পারবে না। জেলার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে হবে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

নারায়ণগঞ্জে হু হু করে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। প্রথম দিকে বিদেশফেরতদের মাধ্যমে রোগটি ছড়ালেও এখন স্থানীয়দের মাধ্যমেই সামাজিকভাবে সবার অজ্ঞাতসারে ছড়িয়ে পড়ছে। কোয়ারেন্টাইন না মানা, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, প্রথম দিকে প্রশাসনের ঢিলেঢালাভাব, সচেতনতার অভাব, ওই এলাকা পরিদর্শন করেন ৭১ মেকানাইজড ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম ইমরান হামিদ (এএফডাব্লিউসি, পিএসসি)। পরে তিনি নগরীর কয়েকটি স্থানে বেসামরিক প্রশাসনের জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

সিটি মেয়র জানান, গাজীপুরে একজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। রাজধানীতেও হু হু করে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। তাই নিরাপত্তার স্বার্থেই গাজীপুর মহানগরীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রধান ১০টি সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নগরীর ভেতরে থাকা সব গার্মেন্ট ও কলকারখানা বন্ধ থাকবে। ওষুধ, খাদ্য, জ্বালানি ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার গাড়ি ছাড়া অন্য গাড়ি চলতে দেওয়া হচ্ছে না।

গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, অনুমোদন ছাড়া কাউকে শহরে ঢুকতে ও বের হতে দেওয়া হবে না।

ময়মনসিংহে স্বেচ্ছায় লকডাউন : গতকাল বিকেল থেকে ময়মনসিংহ জেলাজুড়ে স্বেচ্ছায় লকডাউন শুরু হয়েছে। গ্রাম থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে এলাকাবাসী নিজেরাই লকডাউন করে দিচ্ছে। জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান এলাকাবাসীর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটুও নগরে এমন উদ্যোগের জন্য বিভিন্ন মহল্লাবাসীকে অভিনন্দন জানান।

পাড়া-মহল্লা নিজেরাই বন্ধ করে দিচ্ছে এলাকাবাসী : করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে নানা পদক্ষেপ নিয়েও সরকার মানুষের চলাচল বন্ধ করতে পারছে না। ফলে প্রতিদিনই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় সচেতন এলাকাবাসী নিজেরাই নিজেদের পাড়া-মহল্লা বন্ধ করে দিচ্ছে। খুব বেশি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে এলাকা থেকে বের হতে দিচ্ছে না। বাইরের কাউকে এলাকায় ঢুকতেও দিচ্ছে না।

গত সোমবার থেকে সারা দেশে দুপুর ২টার পর ওষুধের দোকান ছাড়া সব মুদি দোকান ও কাঁচাবাজার বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুপারশপগুলো সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে কাঁচাবাজার ও অলিগলিতে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। মূলত দুপুর ২টার পর থেকে মানুষের চলাচল বন্ধ হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে জরুরি সার্ভিসের আওতাভুক্ত গাড়ি ছাড়া কোনো ধরনের যানবাহন চলছে না। খুব অল্পসংখ্যক প্রাইভেট কার চলাচল করতে দেখা গেলেও জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যাচ্ছে, এগুলোয় চিকিৎসক, ব্যাংকার কিংবা যেসব কারখানা এখনো অনুমোদিতভাবে উৎপাদনে আছে সেগুলোর কর্মকর্তারা যাতায়াত করছেন। এর বাইরে গণপরিবহন বলতে গেলে শূন্য হয়ে গেছে। অল্প কিছু রিকশা আছে সড়কে।

গতকাল বিকেলে নগরী ঘুরে কোথাও গণপরিবহন, অটোরিকশা, সিএনজি কিংবা অন্য গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়নি। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনা সদস্য ও পুলিশ সদস্যদের টহল টিমের গাড়িগুলো চলাচল করছে। গাড়ির বহর থেকে নগরবাসীকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়ে সতর্কতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে।

শেরপুরে রাস্তায় বাঁশ বেঁধে সৃষ্টি করা হয়েছে ব্যারিকেড। সেই বাঁশে ‘গ্রামটা আমাদের, তাই দায়িত্বটাও আমাদের’—এমন স্লোগান লেখা কাগজ ঝুলানো হয়েছে। গ্রামের প্রবেশপথগুলোতে কড়া নজরদারি করতে বসানো হয়েছে তল্লাশিচৌকি। সেখানে দায়িত্ব পালন করছে এলাকার তিন-চারজন করে যুবক। যারা গ্রামে ঢুকছে নেওয়া হচ্ছে তাদের পরিচয়, জানতে চাওয়া হচ্ছে প্রবেশের কারণ। আগতদের জীবাণুমুক্ত করতে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। গতকাল এমন চিত্র দেখা গেছে শেরপুর সদরের লছমনপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে।

সাতক্ষীরায় অকারণে বাইরে ঘোরাফেরা করা ও মোটরসাইকেল নিয়ে বেরোনোয় শ্যামনগরে চারজনকে এক হাজার টাকা, কালীগঞ্জে দুজনকে দেড় হাজার টাকা, আশাশুনীতে ৯ জনকে সাড়ে সাত হাজার টাকা ও অবৈধভাবে ইট পোড়ানোর জন্য বড়দল ইউনিয়নে মইনুল সরদারকে পাঁচ হাজার টাকা, তালায় সাতজনকে তিন হাজার ৮০০ টাকা ও কলারোয়ায় ৯ জনকে তিন হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বরিশাল জেলায় বাইরে থেকে মানুষ ও যানবাহন প্রবেশ এবং বরিশাল থেকেও বাইরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবত থাকবে বলে জানানো হয়।

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার পাড়ায় পাড়ায় স্ব-উদ্যোগে চলছে লকডাউন। উপজেলার পুরান তোপখানা, দত্তপাড়া, নাগেরখানা, চতুরঙ্গ, রায়েরপাড়া, নন্দীপাড়া, মজলিসপুর, সাগরদীঘির উত্তর পার, ঈনাথখালী, খন্দকার মহল্লা, দক্ষিণ নন্দীপাড়া, দাসপাড়া, শেখের মহল্লা, পুরানবাগ, পূর্বগড়সহ ২০টির মতো গ্রাম স্ব-উদ্যোগে লকডাউন করা হয়েছে। প্রত্যেক পাড়ার প্রবেশমুখে বাঁশের খুঁটি পুঁতে লোকজন ও যানবাহনের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খন্দকার বলেন, জনগণ যদি নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরা নিশ্চিত করতে পারে তাহলে তাদের সাধুবাদ জানাই।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসন থেকে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের যানবাহন জেলার বাইরে যাবে না, আবার ঢুকতেও পারবে না। আর সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মুদি দোকান ও কাঁচাবাজার খোলা রাখা যাবে বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা