kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

বাংলাদেশে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ

সেবাদানকারীদের সম্মানে ‘ক্ল্যাপ ফর দ্য হিরো’ ১০ এপ্রিল

জুয়েল রাজ, লন্ডন   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেবাদানকারীদের সম্মানে ‘ক্ল্যাপ ফর দ্য হিরো’ ১০ এপ্রিল

করোনাভাইরাস থেকে জীবন বাঁচাতে বিশ্বজুড়েই মানুষ এখন ঘরে স্বেচ্ছাবন্দি। এর মধ্যেও কিছু মানুষ ভয়কে জয় করে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, জনগণকে জরুরি সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের বলা হচ্ছে জাতীয় বীর।

করোনার এই সংকটকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া বাংলাদেশের এই বীরদের আগামী ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় যুক্তরাজ্যসহ সারা বিশ্ব থেকে করতালি দিয়ে সম্মান জানানো হবে। এই আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্ল্যাপ ফর দ্য হিরো’। সোশ্যাল ল্যাব নামের ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ এবং লন্ডন থেকে শাফি মোদ্দাসের খান, জ্যোতি, স্মৃতি আজাদ এবং সুজন ঢালী সমন্ব্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন।

আয়োজকরা বলেন, ‘আমরা জানালার পাশে অথবা বারান্দায় নিরাপদ অবস্থানে থেকে দেশের সব ডাক্তার, নার্স, গবেষক, পুলিশ, সেনাবাহিনী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিককর্মী, ব্যাংকার, সেবাদানকারী কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্দেশে করতালি দিয়ে সম্মান জানাব। তাঁদের জানিয়ে দেব, আমরাও আছি তোমাদের পাশে।’

‘ক্ল্যাপ ফর বাংলাদেশ’ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশি তারকা, সাংবাদিকসহ অনেকেই ভিডিও বার্তা দিয়ে উদ্যোগটি সফল করার অনুরোধ জানিয়েছে।

উদ্যোক্তাদের একজন লন্ডনপ্রবাসী স্মৃতি আজাদ বলেন, ‘এই পৃথিবীটা আমাদের। পৃথিবীর অসুখে এখন আমরা সবাই অসুখী। আপনার, আমার শহরের মতোই পৃথিবীর প্রতিটা শহর এখন নিস্তব্ধ। এই নিস্তব্ধতা মৃত্যুর মতোই কঠিন। আশা করছি, এই মুহূর্তে সবাই যে যাঁর জায়গায় নিরাপদে আছেন। যাঁরা বাসায় অবস্থান করে নিজ নিজ মাতৃভূমির প্রতি কর্তব্য পালন করছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রইলো। আর যাঁরা এই দুঃসময়ে সামনে থেকে যুদ্ধ করছেন তাঁদের জন্য কি আমাদের কিছুই করার নেই? আশা করি, দেশে-বিদেশে বাঙালি যাঁরা আছেন তাঁরা একযোগে তাঁদের বীরদের সম্মান জানাবেন।’

আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁদের যোগাযোগ মাধ্যমের বার্তায় বলা হয়, পৃথিবীর অনেক কঠিন একটা সময় এটি। ভাইরাস কোনো দেশের সীমানা চিনে না, কোনো ধর্ম বোঝে না, কোনো জাতি মানে না। পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে একের পর এক চালিয়ে যাচ্ছে এর মৃত্যুর তাণ্ডবলীলা। এর মাঝেই অকুতোভয় কিছু যোদ্ধা যুদ্ধ করে চলছেন প্রতিনিয়ত, তাঁরা জানেন না এই যুদ্ধের শেষ কোথায়? যুদ্ধ করে চলছেন পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে। এই যুদ্ধে আপনিও আছেন, যাঁর যাঁর ঘরে অবস্থান নেওয়াটা এই যুদ্ধের কৌশল। এখন সময় হয়েছে এক হওয়ার। সব দোষ-ত্রুটি একটু দূরে রেখে দল-মত-নির্বিশেষে যাঁরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন, আসুন, তাঁদের উৎসাহ দিই। আসুন আমরা একসঙ্গে যুদ্ধটা করি। আসুন যাঁরা সামনে থেকে যুদ্ধ করছেন, তাঁদের ঠিক পেছনে দাঁড়াই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা