kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টা কাজ করিয়ে বলল ‘গার্মেন্ট বন্ধ’!

লায়েকুজ্জামান   

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টা কাজ করিয়ে বলল ‘গার্মেন্ট বন্ধ’!

মনোয়ার এ্যাপারেলস। প্রায় ৭০০ শ্রমিক কাজ করে এ পোশাক কারখানায়। মিরপুর-১০ নম্বরের ডি-ব্লকের ৩৫ নম্বর সড়কে কারখানাটির অবস্থান। গতকাল সোমবার দুপুর ১টায় গিয়ে দেখা যায়, কারখানাটিতে কাজ করছে শ্রমিকরা। ওই কারখানা থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাড়িতে তিনজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় লকডাউন করা হয়েছে ওই বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি। এলাকা লকডাউন থাকা অবস্থায় গার্মেন্ট খোলা দেখে ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ। ম্যানেজার জিহাদ আলীর কাছে কারখানা বন্ধ রাখার দাবি জানায় এলাকাবাসী। এ সময় কিছু শ্রমিক কারখানা থেকে বেরিয়ে বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। অন্যরা ভেতরে কাজ করছিল। রফিকুল ইসলাম নামে ওই কারখানার একজন শ্রমিক জানান, ম্যানেজার জিহাদ আলী সব শ্রমিককে ফোন করে ঢাকায় আসতে বাধ্য করেন। সকাল ৯টা থেকে তাঁরা কাজে যোগ দিয়েছেন।

দুপুর ১টার দিকে ম্যানেজার জিহাদ আলীর কাছে কারখানা খোলা রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন বাংলাদেশ ব্যাংক, পরে আবার বলেন, সরকার খোলা রাখতে বলেছে, তাই আমরা কারখানা চালু করেছি।

বিকেল ৫টার দিকে জিহাদ আলী ফোন করে এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি কারখানাটি বন্ধ করে দিয়েছেন। আগামী ১৮ এপ্রিল ফের চালু করবেন। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় শ্রমিকদের বেতন দিয়েছেন কি? এ প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে কারখানা বন্ধের নির্দেশ পেয়ে বেতনের দাবিতে আবারও বিক্ষোভ শুরু করে শ্রমিকরা। শ্রমিকরা বলে, ‘আমাদের ঢাকায় আসতে বাধ্য করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমরা হেঁটে, অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ফেরিতে, ট্রাকে করে ঢাকায় এসেছি। এখন আবার ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কোনো সুযোগ

নেই। বেতন না দিলে আমরা ঢাকায় বসে খাব কী? কেন আমাদের এমন বিপদে ফেলা হলো?’ 

অন্যদিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর থেকে সামান্য পশ্চিমে সিরাজ গার্মেন্ট নামের একটি পোশাক কারখানা চালু রাখা হয়েছে। ভবনের নিচের গেট বন্ধ। দারোয়ান নেই। তবে ওপরে কারখানা চলছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা