kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

ঢাকায় ঢোকা ও বের হওয়া বন্ধ

► প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় থাকলে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
► শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটিও ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ঢাকায় ঢোকা ও বের হওয়া বন্ধ

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সর্বোচ্চ ১৮ জন শনাক্ত হয়েছে গতকাল রবিবার। সাধারণ ছুটিও ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ অবস্থায় মানুষের স্থানান্তর বন্ধ, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সরকারি নির্দেশনা মানতে কড়াকড়ি বেড়েছে। এমনকি কেউ যাতে ঢাকায় ঢুকতে এবং ঢাকা থেকে বেরোতে না পারে সে বিষয়েও পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মূলত যেসব এলাকায় করোনা রোগী বেশি শনাক্ত হচ্ছে ওই সব এলাকায়ই কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। একদিকে রোগী বাড়া অন্যদিকে ছুটি বাড়ানোয় সাধারণ মানুষ পড়েছে দুশ্চিন্তায়।

আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি বাড়ানোয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সময়সীমাও একই দিন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, প্রয়োজন ছাড়া কেউ রাস্তায় বের হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল দুুপুরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, হোম কোয়ারেন্টিন না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যাঁরা বিদেশ থেকে আসছেন এবং কোয়ারেন্টিন মানছেন না, তাঁদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কী ইতালি বা স্পেনের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখতে চান? যদি না দেখতে চান তাহলে আমাদের দেওয়া দিকনির্দেশনাগুলো মেনে চলুন। আপনারা বাসায় থাকুন। দেশের প্রতি মমতা থাকলে আপনারা ঘর থেকে বের হবেন না। আইসোলেশন থেকে বের হবেন না।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেহেতু সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয়েছে, তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানোর নতুন কোনো নির্দেশনার প্রয়োজন নেই। আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সাধারণ ছুটি আর না বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির ব্যাপারে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

করোনাভাইরাসের দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে জরুরি সেবার সঙ্গে নিয়োজিত লোকজন ছাড়া রাজধানী ঘিরে মানুষের আগমন-বহির্গমন ঠেকাতে পুলিশকে কঠোর হতে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জাবেদ পাটোয়ারী। শনিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৈরি পোশাক শ্রমিকসহ মানুষের ঢাকামুখী ঢল নামার পর তিনি ওই নির্দেশনা দেন।

গতকাল বিকেল থেকে ঢাকার রাস্তায় বাড়তে থাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়াকড়ি। মূলত নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘোষণা এবং যেসব গার্মেন্টকর্মী ঢাকায় এসেছিলেন তাঁদের অনেকেই ফিরে যেতে শুরু করলে কড়াকড়ি বাড়তে থাকে।

তবে গতকাল সকালে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার রাস্তায় ছিল বেশ ভিড়। কারণ যেসব গার্মেন্টকর্মী ঢাকায় এসেছিলেন তাঁরা সকালে কারখানায় যান। এরপর বন্ধ ঘোষণার নোটিশ পান। এ জন্য যেসব জায়গায় গার্মেন্ট আছে সেসব এলাকা ছিল লোকে লোকারণ্য। এ ছাড়া সকাল থেকেই রাজধানীর প্রধান সড়কে ছিল ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ।

দুপুরে কুর্মিটোলা হাসপাতালের বিপরীত পাশের রাস্তায় পুলিশের চেকপোস্টে দেখা যায়, তিন-চার মিনিট গাড়ি বন্ধ রাখায় শতাধিক গাড়ির আটকে পড়ে। গাড়িচালকরা রাস্তায় বেরোনোর কোনো না কোনো অজুহাত দিচ্ছিলেন। প্রধান সড়কগুলোতে খুব বেশি লোক না থাকলেও রাজধানীর অলিগলিতে ছিল ভিড়। অনেক দোকানপাটই খোলা ছিল। অনেক মানুষ গলি-রাস্তায় ঘোরাফেরাও করে।

রংপুরে ফার্মেসি ছাড়া সব ধরনের দোকান বিকেল ৫টার পর বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কৃষিপণ্য পরিবহন ও বিপণনজনিত কেনাবেচা ওই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে।

সাতক্ষীরায় করোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব না মেনে অহেতুক ঘোরাঘুরি করায় ৫৪ জনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে টহল জোরদার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এ ছাড়া জনসমাগম কমাতে সন্ধ্যা ৬টার পরে ওষুধের দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকান বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসারের সহযোগিতায় ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে দিন-রাত কাজ করছেন।

সরকারি নির্দেশনা না মেনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখায় ঝালকাঠিতে ১১ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সকালে নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দোকান খোলা থাকায় দুই ব্যবসায়ীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার রাতে রাজাপুরে দোকান খুলে পণ্য বিক্রির সময় ৯ ব্যবসায়ীকে ২১ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় কোনো কারণ ছাড়াই হাটবাজারে ঘোরাফেরা করায় গত শনিবার ২২ ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পৌরসভা, কাননগো বাজার ও দাসের বাজার এলাকায় তাঁদের জরিমানা করা হয়। আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত লায়লা নীরা।

নাটোরের সিংড়ায় মানুষকে ঘরমুখী করার লক্ষ্যে পুলিশ গত তিন দিনে শতাধিক মোটরসাইকেল আটক করে মামলা দিয়েছে। গতকাল সিংড়া বাসস্ট্যান্ড, বাজার, বামিহাল, জামতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

(এই প্রতিবেদনের জন্য তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন ঢাকা ও ঢাকার বাইরের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা