kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

বৈশ্বিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমেছে

ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে যুক্তরাষ্ট্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



বৈশ্বিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমেছে

করোনাভাইরাসের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপটা যুক্তরাষ্ট্র এখনো দেখেনি বলে সতর্ক করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চলতি সপ্তাহ পার করাই হবে সবচেয়ে কঠিন। এই সপ্তাহে আরো বহু মানুষের মৃত্যু হবে যুক্তরাষ্ট্রে। দৈনিক আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকার মধ্যেই গত শনিবার মার্কিনিদের এই সতর্কবার্তা শোনান ট্রাম্প।

তবে করোনাভাইরাস ডিজিজ-২০১৯ (কভিড-১৯)-এ বৈশ্বিক আক্রান্তের হার কিছুটা কমেছে। কমেছে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও। আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চলের সংখ্যা ২০৭। মৃত্যুর সংখ্যা ৬৮ হাজার ছাড়িয়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ ছাড়িয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালি ও স্পেনের জন্য স্বস্তির খবর হলো—উভয় দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমতে শুরু করেছে। মৃত্যুর হার

কমেছে ফ্রান্সেও। এদিকে মাস্কের ব্যবহার নিয়ে নিজেদের অবস্থান পাল্টিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এসব দেশ এখন সবাইকে মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে। মাস্ক নিয়ে পরিবর্তন আসতে পারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায়ও।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ইরানের পরিস্থিতি সবচেয়ে শোচনীয়। গতকাল দেশটিতে দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। চীনে আক্রান্তের হার বাড়েনি। পাশের দেশ ভারতে আক্রান্তের হার বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে।

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা : কয়েক দিন ধরেই সর্বোচ্চ আক্রান্তের তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ ২৮ হাজার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও কম। দেশ হিসেবে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুও ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। গত শনিবার দেশটিতে ১৩৪৪ জনের মৃত্যু হয়। মোট মৃতের সংখ্যা ৯ হাজারের ওপরে। এত কিছুর পরও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরো খারাপ সময় অপেক্ষা করছে বলে আভাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত চলতি সপ্তাহ হবে সবচেয়ে ভয়াবহ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এই সপ্তাহে বহু মানুষের মৃত্যু হবে।’

গতকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ লাখ সাত হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। দেশটির সব অঙ্গরাজ্যই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। কিন্তু সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি নিউ ইয়র্কে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ২২ হাজার; যা ইতালির মোট আক্রান্তের সংখ্যার কাছাকাছি। নিউ ইয়র্কে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে চার হাজার। সেখানকার গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোও কথা বলেছেন ট্রাম্পের সুরে। সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি এখনো দেখিনি।’ তিনি জানান, নিউ ইয়র্কের হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি করানোর সক্ষমতা অনেক আগেই ফুরিয়ে গেছে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি : বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, বৈশ্বিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার খানিকটা কমেছে। গত তিন মাসের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের ঘটনা ঘটে গত শুক্রবার। ওই দিন বিশ্বের এক লাখ এক হাজার ৫৬৬ জনের মধ্যে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। কিন্তু পরের দিন এই সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার কমে দাঁড়ায় ৮৪ হাজার ৮২১ জনে। অন্যদিকে কভিড-১৯-এ সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় গত বৃহস্পতিবার, ৫৯৭৯ জনের। পরের দুই দিন এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৭১৪ ও ৫৮০০ জন।

গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৫৩ হাজার ১০ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬৮ হাজার ১৫০ জনের। সেরে উঠেছেন দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৭৫ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯ লাখ ২৭ হাজার ৬৮৫ জন। এদের মধ্যে আট লাখ ৮২ হাজার ৩০৫ জনের (৯৫ শতাংশ) মৃদু উপসর্গ রয়েছে। বাকি ৪৫ হাজার ৩৮০ জনের (৫ শতাংশ) অবস্থা গুরুতর। বৈশ্বিক মৃত্যুর হার ৫.৪০ শতাংশ।

ইতালি ও স্পেনে ‘স্বস্তি’ : মোট মৃত্যুর মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি ঘটেছে ইউরোপে। কিন্তু ইউরোপের জন্য স্বস্তির খবর হলো—ইতালিতে মৃত্যু ও আক্রান্তের হার কমতে শুরু করেছে। দেশটিতে প্রথমবারের মতো কমেছে নিবিড় পরিচর্চাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রোগীর সংখ্যাও। গত শুক্রবারও আইসিইউতে রোগীর সংখ্যা ছিল চার হাজার ৬৮ জন। পরের দিন দাঁড়ায় তিন হাজার ৯৯৪ জনে। দেশটির নাগরিক সুরক্ষা সার্ভিসের প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেল্লি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য খুবই স্বস্তির একটা খবর।’ ইতালিতে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে। গত শনিবার দেশটিতে ৬৮১ জনের মৃত্যু হয়, যা গত ১২ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। সর্বোচ্চ মৃত্যু ঘটে ২৭ মার্চ; ৯১৯ জনের। ইতালিতে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যাও কমে পাঁচ হাজারের নিচে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে গতকাল দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক লাখ ২৮ হাজার ৯৪৮ এবং ১৫ হাজার ৮৮৭ জনে।

স্পেনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার দুইই কমেছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭৯৪৭ এবং ৯৬১ জন। পরের দিন (শুক্রবার) এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭১৩৪ এবং ৮৫০। গত শনিবার আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরো কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৬৯৬৯ এবং ৭৪৯ জনে। সব মিলিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৩০ হাজার ৭৫৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৪১৮ জনের।

ফ্রান্সে মৃত্যু ও আক্রান্তের হার কমলেও ইউরোপের আরেক দেশ যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর হার বেড়েছে। গত শনিবার এক দিনে সর্বোচ্চ মানুষের মৃত্যু হয় সেখানে, ৭০৮ জনের। গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশটিতে মোট আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৪৭ হাজার ৮০৬ এবং চার হাজার ৯৩৪ জন। এদিকে গতকাল রবিবার ব্রিটিশদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের।

এশিয়ার পরিস্থিতি : এই অঞ্চলের মধ্যে ইরানকে সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে করোনাভাইরাস। গতকালও কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৪৮৩ জন। এ নিয়ে দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৮ হাজার ২২৬ এবং তিন হাজার ৬০৩ জনে। চীনে গতকাল নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩০ জন। এঁদের মধ্যে ২৫ জনই বিদেশ থেকে আসা। এ ছাড়া চীনে গতকাল মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। পাশের দেশ ভারতে গতকাল প্রায় ৩০০ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল তিন হাজার ৫৮৮ জনে। মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের। দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন ৮১ জনসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২৩৭ জনে। মৃত্যু হয়েছে ১৮৩ জনের। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে দেশটিতে; চার লাখ ৬১ হাজার ২৩৩ জনের।

মাস্ক নিয়ে অবস্থান পাল্টাল ইউরোপ : যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ শুরু থেকে বলে আসছিল যে সুস্থদের মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সেই অবস্থান থেকে ক্রমে সরে আসছে অনেক দেশ। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ফ্রান্স সম্প্রতি তাদের সব নাগরিককে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে। এত দিন পরে এসে অবস্থান পাল্টানোয় ইউরোপের অনেক মানুষ নিজ নিজ সরকারের সমালোচনা করেছে। সম্প্রতি কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার গতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা সবাইকে মাস্ক পরায় উৎসাহ দেবে। তবে মাস্ক পরার কারণে কারো মধ্যে যেন অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস না জন্মায়, সেদিকেও নজর রাখতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা