kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

চিকিৎসক নার্স পাঠাতে চায় ওইসিডি

দ্রুত ফ্লাইট চালু করতে বাংলাদেশকে চাপ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চিকিৎসক নার্স পাঠাতে চায় ওইসিডি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় বাংলাদেশে চিকিৎসক, নার্স, মেডিক্যাল স্টাফ ও চিকিৎসাসামগ্রী পাঠাতে চায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) সদস্য রাষ্ট্রগুলো। এ কারণে তারা লন্ডন ও ম্যানচেস্টারের সঙ্গে বাংলাদেশের ফ্লাইট চালুর তাগিদ দিচ্ছে। ওই দেশগুলোর অনেকে আবার নিজ দেশে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রেখেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে কয়েক লাখ মৃত্যুর পূর্বাভাসকে অনুমাননির্ভর হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি খুব দুঃখজনক। অনুমান থেকে একজন বলেছে, করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে নাকি অনেক লোক মারা যাবে। ইমপেরিয়েল কলেজের যে মডেলের ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে, সেই কলেজ পর পর ১০টি প্রতিবেদন তৈরি করেছে, ভিন্ন ধারণা নিয়ে। সবচেয়ে খারাপটা নিয়ে এখানে প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে বিবিসির প্রতিবেদনে বন্যায় ৩০ লাখ লোক মারা যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে দেখা গেল মাত্র ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘আতঙ্ক ও  গুজবে কান দেওয়া উচিত নয়। যাঁরা এটিকে খুব বড় করে ফলাও করে বলছেন তাঁদের অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওইসিডি দেশ, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য পীড়াপীড়ি করছে লন্ডন, ম্যানচেস্টার, সিলেট, ঢাকা এসব রুটের ফ্লাইট বন্ধ না করে চালু রাখতে। তারা আমাদের বলেছে যেন আমরা তাড়াতাড়ি ফ্লাইট চালু করি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের (ওইসিডি দেশগুলোর) বক্তব্য হলো করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের দেশে অনেক চিকিৎসক, নার্স, মেডিক্যাল স্টাফ দরকার হবে। আমাদের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ইউরোপীয়রা সেগুলো সরবরাহ করতে পারবে। বিমানবন্দর বন্ধ থাকলে তারা আসতে পারবে না।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই দেশগুলো ফ্লাইট চালুর দাবি করেছে। তারা বলছে, ফ্লাইটগুলো বন্ধ করা ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করেছে। বিশেষ করে, প্রথম দিকে বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে এ দেশে করোনাভাইরাস ঢুকেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আরো আগে ফ্লাইট বন্ধ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওদের পীড়াপীড়িতে একটু দেরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে সরকারকে ওরা (বিদেশিরা) তাগিদ দিচ্ছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কমিটিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন।’

বিদেশে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরত আনা ও বিদেশিদের বাংলাদেশ ছাড়া প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতে আড়াই হাজার বাংলাদেশি আছে। এমনকি অনেকে গেছেন ফ্লাইট যখন বন্ধ হচ্ছিল তখন। অনেকে টাকা খরচ করেও আসতে চায়। ভারত বলেছে, ১৪ তারিখ পর্যন্ত সম্পূর্ণ লকডাউন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘থাইল্যান্ড খুব কড়া। ফ্লাইট গেলে ১৪ দিন বসে থাকতে হবে। কারো ভাইরাস ধরা পড়লে বিপুল পরিমাণ জরিমানা দিতে হবে। আমেরিকানদের মধ্যে যাঁরা গেছেন তাঁরা কূটনীতিক খুব কম। বেশির ভাগই বাংলাদেশি। জাপানিজরা যাঁরা গেছেন তাঁরা এ দেশে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেন।’

উল্লেখ্য, আজ রবিবার বিশেষ ফ্লাইটে আমেরিকানদের আরেকটি দলের যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন বলেছে যে তারা বাংলাদেশকে আরো সাহায্য দিতে প্রস্তুত। করোনাভাইরাসের কারণে বড় প্রকল্পগুলোর কাজে সমস্যা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, চীন ও জাপান বলেছে যে ভাইরাস চলে গেলে অধিকতর লোক দিয়ে যথাসময়ে কাজ শেষ করব।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আমরা কোনো কোনো দেশকে সাহায্য করেছি। আরো করব।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা