kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

স্পেনে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরাদের মুখে হাসি

মমতা আর মানবতায় ‘দশে দশ’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মমতা আর মানবতায় ‘দশে দশ’

স্পেনের মাদ্রিদে ইফেমা সম্মেলন কেন্দ্র এখন অস্থায়ী হাসপাতাল। সেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবায় সারাক্ষণ ব্যস্ত সময় কাটে ডাক্তার-চিকিৎসাকর্মীদের। এর মধ্যেও তাঁরা সবাই মাঝেমধ্যে একসঙ্গে হাততালি দিয়ে ওঠেন। করোনাভাইরাসমুক্ত হয়ে বাড়ির পথ ধরা মানুষদের এভাবেই বিদায় জানান তাঁরা।

মাদ্রিদের বিমানবন্দর থেকে গাড়ির যাত্রায় অল্প দূরত্বে ইফেমা সম্মেলন কেন্দ্রের অবস্থান। বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনী আর কনসার্টের আয়োজন হয় সেখানে। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। দুর্যোগ সামাল দিতে ওই সম্মেলন কেন্দ্রকে হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়। গত ২১ মার্চ অস্থায়ী হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যন্ত সেখানে দুই হাজার রোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে রোগীর সংখ্যা এক হাজারের ওপরে। আশার কথা হলো, প্রায় ৯০০ রোগী এ হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে আর মারা গেছে মাত্র আটজন।

গতকাল শনিবারও সুস্থ হয়ে ওঠা বেশ কয়েকজনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। হাসপাতালের জেনারেল কো-অর্ডিটেনর ফারনান্দো প্রাদোস বলেন, ‘দিনটা আমাদের জন্য শুভ। কারণ আমরা আরো অনেক রোগীকে ছেড়ে দিচ্ছি।’

হাসপাতালের ব্যাপারে প্রাদোস জানান, ইফেমা সম্মেলন কেন্দ্রকে সাড়ে পাঁচ হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু দেড় হাজার শয্যার ব্যবস্থা করার পর আপাতত ক্ষান্ত দেওয়া হয়েছে। কারণ মাদ্রিদে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজনের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

তাই বলে সতর্কতায় কোনো ঘাটতি রাখতে রাজি নন চিকিৎসাকর্মীরা। ২৯ বছর বয়সী নার্স মারিয়া সানচেজ ফার্নান্দেজ বলেন, ‘শুরুতে আমাদের চার জোড়া করে গ্লাভস দেওয়া হয়েছিল। এখন বলা হচ্ছে, দুই জোড়াই যথেষ্ট। আমি তিন জোড়া ব্যবহার করি। কারণ এটা আমার স্বাস্থ্যের বিষয়।’

আরেক নার্সকে দেখা গেল, হাসপাতালে হলুদ দাগে ঘেরা এলাকার কাছে এসে হঠাৎই যেন থমকে গেলেন। কারণ হলুদ দাগে ঘেরা এলাকার ভেতরেই রয়েছে রোগীদের বিছানাগুলো। সেগুলো আগের মতোই দুই ফুট করে দূরত্বে রাখা আছে। হলুদ দাগ পেরিয়ে রোগীদের কাছে যাওয়ার আগে চিকিৎসায় জড়িত প্রত্যেকের জন্য পারসোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট পরা বাধ্যতামূলক।

সব সময় সতর্ক থাকার কারণটা স্পষ্ট। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে বটে, তবে মাঝেমধ্যেই কারো কারো অবস্থার চরম অবনতি হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার ঘটে তেমন ঘটনা। ৬৩ বছর বয়সী এক পুরুষের অবস্থা হঠাৎ করে মারাত্মক খারাপ হয়ে যাওয়ায় তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। তাঁর অবস্থা এখনো ভালো নয়।

এসবের মধ্যে যাঁরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন, তাঁদের মধ্যে দুই রকম অনুভূতি কাজ করছে। ৫৯ বছর বয়সী এদুয়ার্দো লোপেজ গতকাল হাসপাতাল থেকে বাড়ির দিকে রওনা হন। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও আবেগতাড়িত হয়ে তিনি বলেন, যাঁদের সেবায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাঁদের মূল্যায়ন করতে গিয়ে দশে দশ দিতে চান তিনি। কারণ তাঁদের ‘মমতা আর মানবতা’ তাঁকে মুগ্ধ করেছে। সেই সঙ্গে তিনি আরো বলেন, করোনাভাইরাস মহামারি যে ‘দুর্ভোগ আর অনিশ্চয়তা’ তৈরি করেছে, সেটা তিনি কখনো ভুলবেন না। ‘মানুষ মরছে, এটাই বাস্তবতা, এটা টেলিভিশনে দেখতে থাকা কোনো ধারাবাহিক নাটক না—এসব জানার কারণে মনের ওপর বিশাল চাপ পড়ে।’ এমনটাই বলেন লোপেজ। করোনাভাইরাস এরই মধ্যে স্পেনে কেড়ে নিয়েছে সাড়ে ১১ হাজারের বেশি প্রাণ। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা