kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

তানোরে ত্রাণের জন্য টাকা সংগ্রহে এমপি!

রীতিমতো সভা করে ব্যবসায়ী, শিক্ষক সমিতি, দলিল লেখক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের কাছেও টাকা চাওয়া হয়েছে

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তানোরে ত্রাণের জন্য টাকা সংগ্রহে এমপি!

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে রাজশাহীর তানোরে ত্রাণ দেওয়ার জন্য স্থানীয় (রাজশাহী-১) সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের সংগঠনকে টাকা দিতে বলেছেন। জানা গেছে, গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ব্যবসায়ী, শিক্ষক সমিতি, দলিল লেখক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি টাকা দাবি করেন।

এ ছাড়া সরকারি ত্রাণ উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিতরণেরও নির্দেশ দিয়েছেন সংসদ সদস্য। তবে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, তিনি নিজে চাননি। পেশাজীবীরাই নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী চাঁদা দিতে চেয়েছেন। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি যৌথ ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক আহ্বান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফারুক চৌধুরী প্রধান অতিথি ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের কাছে সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে টাকা দাবি করেন। সেই টাকা তিনি কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক তানোর শাখায় ব্যক্তিগত হিসাব নম্বরে (চলতি হিসাব নম্বর-৬১৯) জমা দিতে বলেছেন। প্রথমে সংসদ সদস্য ঘোষণা দেন প্রয়োজনে তিনিও এক লাখ টাকা জমা দেবেন ওই ব্যাংক হিসাবে। এরপর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির কাছে দুই লাখ টাকা চান। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি জিল্লুর রহমান প্রথমে এক লাখ টাকা দিতে রাজি হন; কিন্তু সংসদ সদস্য তাঁকে ধমক দেন। পরে তিনি দুই লাখ টাকাই দিতে রাজি হন। এরপর প্রাথমিক বিদ্যালয় সমিতির কাছে আড়াই লাখ টাকা, চালকল মালিক সমিতির কাছে এক লাখ টাকা, আলুর হিমাগারপ্রতি এক লাখ টাকা, উপজেলার প্রায় ৫৫৩টি বরেন্দ্র গভীর নলকূপ অপারেটরপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য। তানোর দলিল লেখক সমিতিকে টাকা দেওয়ার কথা বললে সমিতির নেতারা অস্বীকৃতি জানান। এতে ওমর ফারুক চৌধুরী তাঁদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

বৈঠকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লুত্ফর হায়দার রশিদ ময়না, ইউএনও সুশান্ত কুমার মাহাতো, তানোর থানার ওসি রাকিবুল হাসান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

তানোর উপজেলায় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ চাল সরকারি নিয়মমাফিক ইউএনও বিতরণ করার কথা থাকলেও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিতরণের নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য ওমর ফারুক। এ ছাড়া এখন থেকে তানোর উপজেলায় ত্রাণসামগ্রী সংসদ সদস্যের ছবিসংবলিত চটের বস্তায় বিতরণ করা জন্য বলেন তিনি। ওই বস্তার ওপরের দিকের কোনায় থাকবে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি।

তানোর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির এক নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, সংসদ সদস্যের দাবীকৃত অর্থ দিতে হলে উপজেলার সব প্রাথমিক শিক্ষকদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নিতে হবে। সেটা তাঁরা কিভাবে দেবেন এ নিয়ে চিন্তিত তিনি।

একটি হিমাগারের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ বছর এমনিতেই ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। তার ওপর প্রতিটি হিমাগার থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা তাঁরা কিভাবে দেবেন? তাঁর ভাষায়, ‘এটি অন্যায় হবে।’

তানোর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কাছে যথেষ্ট ত্রাণ আছে; কিন্তু এমপি কেন চাঁদা দাবি করলেন সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।’

ইউএনও সুশান্ত মাহাতো বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সভা ডেকেছি আমি। উপজেলা প্রশাসন থেকে কোনো চাঁদা কারো নিকট থেকে দাবি করা হয়নি। তবে এমপি মহোদয় কী কারণে চাঁদা উঠানোর কথা বলেছেন সে প্রসঙ্গে তিনিই বলবেন। এটা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

উপজেলা চেয়ারম্যান লুত্ফর হায়দার রশিদ ময়না দাবি করেন, সংসদ সদস্য কারো কাছে চাঁদা চাননি। দুস্থদের সহায়তায় যে যা পারবে, সেটি ওই ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা দেবে। সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ হবে। ছবিসংবলিত ব্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব জায়গাতেই এমন ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানেও সেটি বলা হয়েছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা