kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনাভাইরাস সতর্কতা

জেলায় জেলায় লকডাউন হচ্ছে বাড়ি-মহল্লা

হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



জেলায় জেলায় লকডাউন হচ্ছে বাড়ি-মহল্লা

দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ নিয়ে একের পর এক ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ার খবর আসছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততার সঙ্গেই সেসব রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার উদ্যোগ চলছে। কোনো কোনো রোগীকে আইসোলেশনে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ সতর্কতার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট রোগী ও তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ঘর ও বাড়ি লকডাউন করা হচ্ছে। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশ থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা এসব খবর পাঠিয়েছেন।

ভারত থেকে ফিরেছে ১১৬ জন, আইসোলেশনে ৫ : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভারত সরকারের ঘোষিত ‘লকডাউনে’ কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়া ১১৬ বাংলাদেশি বিশেষ ব্যবস্থায় দেশে ফিরেছে। গত দুই দিনে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তারা ভারতের পেট্রাপোলের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে আসে।

চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি আহসান হাবীব জানান, ফেরত আসা যাত্রীদের মধ্যে পাঁচজনকে আইসোলেশনে পাঠানো ছাড়াও অন্যদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও ফোন নম্বর রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ভারতের বিভিন্ন স্থানে এখনো আড়াই হাজার বাংলাদেশি আটকা পড়ে আছে। তাদের মধ্যে এক হাজারই ছাত্র-ছাত্রী।

রাজশাহীতে করোনা সন্দেহে নার্স হাসপাতালে ভর্তি : রাজশাহী রোগ সংক্রমণ হাসপাতালে (আইডি) করোনা উপসর্গ নিয়ে এক নার্স ভর্তি হয়েছেন। বেসরকারি একটি হাসপাতালের এই নার্স জ্বর-সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত শুক্রবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হন। সেখান থেকে গতকাল তাঁকে আইডি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রামেক হাসপাতালের করোনা চিকিৎসা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজিজুল হক আজাদ জানান, ওই নার্সের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে পাঠানো হবে।

বাগেরহাটে দুই পুলিশ আইসোলেশনে, হোম কোয়ারেন্টিনে ১,৬৮৩ : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে বাগেরহাটে পুলিশের দুই কনস্টেবলকে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এদের একজন সদর হাসপাতাল ও অপরজন কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছেন। সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির গতকাল এই তথ্য জানান।

নীলফামারীতে ১২ জনের নমুনা সংগ্রহ : জেলার ছয় উপজেলা থেকে সন্দেহভাজন ১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সিভিল সার্জন রণজিৎ কুমার বর্মণ বলেন, গতকাল বিকেল ৪টা পর্যন্ত ওই সব পরীক্ষার ফল জানা যায়নি।

এদিকে গত ১ ডিসেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত জেলায় বিদেশফেরত ব্যক্তির সংখ্যা ৩৪৪ জন। এর মধ্যে হোম কোয়ারেন্টিনে আছে ৬০ জন। হোম কোয়ারেন্টিন শেষ হওয়া ২৮৪ জন সুস্থ আছে।

শেরপুরে দুই বাড়ি লকডাউন : করোনা সংক্রমণ পরীক্ষার জন্য গতকাল শেরপুরে আরো দুজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আর সতর্কতার অংশ হিসেবে কুসুমহাটি এলাকার দুই বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আনওয়ারুর রউফ জানান, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তাসহ ১০ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনার অস্তিত্ব মেলেনি। সে সুবাদে নকলা উপজেলার ধনাকুশা গ্রামের দুই বাড়ির লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় হোম কোয়ারেন্টিনে ২,৯৩৪ : সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিদেশফেরত ৪২ জনসহ মোট দুই হাজার ৯৩৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে আরো ৭৬০ জনকে।

এদিকে সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের নারায়ণপুরে জ্বর, ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে কলেজছাত্র হাসান আলী মারা যাওয়ার পর তার বাড়িসহ আশপাশের পাঁচটি বাড়ির ১৮ জনকে লকডাউন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। হাসানের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।

কুড়িগ্রামে দুজনের নমুনা সংগ্রহ : সদর ও রাজারহাট উপজেলায় দুই ব্যক্তির নমুনা নিয়ে রংপুর মে?ডি?ক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে কুড়িগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগ। তাদের পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। এ দুজন কয়েক দিন ধরে জ্বর, মাথা ব্যথা ও সর্দি?-কাশিতে ভুগছে।

সি?ভিল সার্জন ডা. হা?বিবুর রহমান জানান, নমুনা পরীক্ষায় করোনার অস্তিত্ব প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্টদের বসবাসের এলাকা লকডাউন করার ব?্যাপা?রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হ?বে।

চুয়াডাঙ্গায় হোম কোয়ারেন্টিনে ৭১, নমুনা সংগ্রহ ১০ : জেলায় হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে ৭১ জন। তবে হাসপাতালের আইসোলেশনে কিংবা কোয়ারেন্টিনে কেউ নেই। এদিকে ১ মার্চের পর থেকে বিদেশ থেকে আসা ৮২৬ জনের মধ্যে ৩০৪ জনের খোঁজ পাচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এ ছাড়া গত দুই দিনে ১০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান এই তথ্য জানান।

বালিয়াডাঙ্গীতে ২৫ পরিবার হোম কোয়ারেন্টিনে : ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সিঙ্গাপুরফেরত এক ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রংপুরে পাঠানোর পর ওই গ্রামের ২৫টি পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। ইউএনও খায়রুল আলম সুমন গতকাল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল কাশেম জানান, এক মাস আগে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আসা ওই ব্যক্তি জ্বর, সর্দি, গলা ব্যথা ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

বারহাট্টায় এক নারী হোম কোয়ারেন্টিনে : জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত এক নারী নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য প্রকল্পের হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে আছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওই নারীর অ্যাজমা ও ডায়াবেটিসের উপসর্গ রয়েছে। তাঁর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ইউএনও গোলাম মোরশেদ বলেন, ওই নারী মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। অসুস্থ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। হাসপাতালে প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে তাঁকে নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

ময়মনসিংহে ৬৯ নমুনা পরীক্ষায় করোনা ধরা পড়েনি : ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে গত শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনে ৬৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব নমুনার কোনোটিতেই করোনাভাইরাস মেলেনি। মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ চিত্ত রঞ্জন দেবনাথ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাদুল্যাপুরে একটি পাড়া লকডাউন : গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে আরো একজনের দেহে করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর উপজেলার হবিবুল্যাপুর গ্রামের পশ্চিম (হিন্দু) পাড়া লকডাউন করা হয়েছে। গতকাল ইউএনও মো. নবীনেওয়াজ এই আদেশ জারি করেন।

রাজবাড়ীর ছয়জনের নমুনা ঢাকায় : করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে গতকাল রাজবাড়ীর ছয়জনের শরীরের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. নুরুল ইসলাম জানান, আইসোলেশনে রাখা ওই রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বালিয়াকান্দি ও কালুখালীর দুজন করে এবং গোয়ালন্দের একজনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। উপজেলা এলাকার একজনের শরীরের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ওই সব রোগী নিজ নিজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্দি-কাশিসহ নানা রোগের আলামত নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছিল।

দেবীগঞ্জে তিনজন আইসোলেশনে : ঢাকা থেকে ফেরা তিন ব্যক্তিকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকালে উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের দুই ব্যক্তিকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়। এর আগে গাজীপুর থেকে ফেরা আরেক ব্যক্তিকে আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের র‌্যাপিড রেসপন্স টিমের প্রধান ডা. এনায়েতুর রহমান বলেন, ঢাকাফেরত ওই তিন ব্যক্তির শরীরে করোনার তেমন উপসর্গ নেই। স্থানীয়দের চাপে তাঁরা আইসোলেশনে ভর্তি হয়েছেন। তার পরও নমুনা সংগ্রহ করে রংপুরে পাঠানো হয়েছে।

হবিগঞ্জে হোম কোয়ারেন্টিনমুক্ত ৯৬ : হবিগঞ্জে হোম কোয়ারেন্টিন শেষ হয়েছে ৯৬ জনের। এখনো অবশিষ্ট আছে ১৩৭ জন। আইসোলেশন সেন্টারে আছে একজন। এদিকে জেলায় ২০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জল এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

টেকনাফে ১৫ বাড়ি-দোকান লকডাউন : কক্সবাজারের টেকনাফে শ্বশুরবাড়ি ঘুরে ঢাকায় ফিরে যাওয়া এক ব্যক্তি করোনাভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়ার পর তার সংস্পর্শে আসা সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়ায় শ্বশুরবাড়িসহ সাতটি বাড়ি ও আটটি দোকান লকডাউন করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

এদিকে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আব্দুর রহিম ওরফে লালাইয়া সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপে তাঁর পুরনো বাড়িতে যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে তাঁকেসহ বাড়িটিও লকডাউন করা হয়েছে।

রংপুরে আট বাড়ি লকডাউন : প্রশাসন গতকাল সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করিণী ইউনিয়নের জানকি ধাপের হাট এলাকায় আটটি বাড়ি লকডাউন করেছে। সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার রায় জানান, এখানে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি ঢাকায় নৈশপ্রহরীর কাজ করতেন। গত রবিবার তিনি ট্রাকে করে বাড়ি আসার পথে বগুড়ায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে মেয়ে জামাতা তাঁকে দেখতে বগুড়ায় যান। গত বুধবার আইইডিসিআর নমুনা সংগ্রহ করে জানতে পারে যে ওই ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাস রয়েছে। এদিকে আক্রান্ত ব্যক্তির জামাতা রংপুরে এসে শ্বশুরবাড়ি সদ্যপুষ্করিণীতে অবস্থান এবং পরিবার ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা করায় ওই এলাকার আটটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে ৯ পরিবার কোয়ারেন্টিনে : বন্দরে করোনায় মারা যাওয়া নারীকে দাফনের আগে গোসল দেন সিদ্ধিরগঞ্জে পাঠানটুলি এলাকার এক নারী। এ কারণে ওই এলাকায় একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাসহ ৯ পরিবারের ২৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক বলেন, ‘এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ায় আপাতত ৯টি পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দিয়েছি।’

এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের পুুরান পালপাড়া এলাকায় স্থানীয় এক যুবক জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যাওয়ার খবরে এলাকায় করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই বাড়ির বাসিন্দা মৃত ওই যুবকের চাচা জ্বরে আক্রান্ত হলে এলাকাবাসীর মাঝে এই আতঙ্কের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এ অবস্থায় গতকাল সকাল থেকে পুরো এলাকাটি অঘোষিত লকডাউন করে দিয়েছে আশপাশের লোকজন।

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, মারা যাওয়া যুবকের অসুস্থ চাচার নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এলাকাবাসীকেও হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শ্রীপুরে একজনের নমুনা সংগ্রহ : শ্রীপুর সদর ইউনিয়নের মুজদিয়া গ্রামে বিদেশফেরত এক ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গতকাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এই নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

সূত্র জানায়, গত ১৭ মার্চ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার পর থেকে ওই ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। বাড়ি ফেরার সাত দিন পর থেকে তাঁর কাশি, গলা ব্যথা ও সামান্য শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এ জন্য তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই নমুনা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা. রইসুজ্জামান এই তথ্য জানান।

শরীয়তপুরে ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টিনে ১৮৭ : সদর হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক নারীর মৃত্যুর পর তার সংস্পর্শে আসা চারটি পরিবারের সাতজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নড়িয়া উপজেলার ঘরিষার ইউনিয়নের থিরপাড়া গ্রামে ৩৩টি পরিবারের ১৮০ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ পরিবারের মোট ১৮৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলে করোনা সংক্রমণ সন্দেহে কিশোরীকে সিলেটে প্রেরণ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে এক কিশোরীকে সিলেটে শহীদ শামসুদ্দিন আহম্মেদ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার বাড়ি শহরতলির মুসলিমবাগ আবাসিক এলাকায় চলাচল সীমিত করেছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘মেয়েটির শ্বাসকষ্ট রয়েছে। তাই করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে সন্দেহে তাকে সিলেটে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী হাকিম মাহমুদুর রহমান মামুন বলেন, ওই কিশোরীর বাড়ির প্রবেশপথে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। সিলেট থেকে রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তা টাঙানো থাকবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা