kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

কারখানা বন্ধের নির্দেশনা চান চট্টগ্রামের গার্মেন্ট মালিকরা

অনেক কারখানা সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে বন্ধ রাখছে

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কারখানা বন্ধের নির্দেশনা চান চট্টগ্রামের গার্মেন্ট মালিকরা

দেশে যে সময়ে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে ঠিক সে সময় কারখানা খোলা রাখা নিয়ে দ্বিধায় চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে গত শুক্রবার চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় পোশাক কারখানার মতো শ্রমঘন প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তাঁরা। এমন পরিস্থিতিতে গার্মেন্ট বন্ধ রাখার ব্যাপারে পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চান তাঁরা।

একাধিক গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতিতে কারখানা বন্ধ রাখার পক্ষে সবাই। গত দুই দিনে হঠাৎ করে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্তের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এবং চট্টগ্রামের একজন শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই তাঁরা আজ রবিবার কারখানা খোলা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। তবে কেউ নিজেরা এর দায় নিতে চান না। সাধারণ ছুটির মধ্যে পোশাক কারখানা খোলা রাখা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জনরোষের ভয়ও করছেন অনেক ব্যবসায়ী। কোনোভাবে যদি কোনো কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়ায় তাহলে তার পুরো দায়ভার কারখানা মালিকদেরই বহন করতে হবে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রামে আজ রবিবার সব কারখানা খুলছে না। অনেক কারখানা সরকারি ছুটির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দীর্ঘায়িত করেছে। চট্টগ্রাম ইপিজেডের জাপানি মালিকানাধীন কারখানাগুলো আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর বাইরে অনেক কারখানাও তাদের কর্মীদের ছুটি বাড়ানোর কথা জানিয়ে দিয়েছে।

বিদেশি মালিকানাধীন বাংলাদেশ স্পিনার্স অ্যান্ড নিটার্স লিমিটেডের (বিএসকেএল) ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও কমপ্লায়েন্স) কামরুল ইসলাম মাসুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারি ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত আমরা ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অনেক ব্যবসায়ী নেতাও তাঁদের কারখানার ছুটি দীর্ঘায়িত করেছেন। বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি ও চট্টগ্রামের ইনডিপেনডেন্ট অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবু তৈয়ব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কারখানা খোলার সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমার টেনশন বেড়ে গেছে। সত্যি কথা বললে আমার মন কিছুতেই সায় দিচ্ছে না। শ্রমিকদের কিছুতেই এই বিপদের মুখে ফেলতে পারি না। তাই এটা শিওর যে আপাতত আমার কারখানা এ সপ্তাহে খুলছি না। পরিস্থিতি আরো পর্যবেক্ষণ করে আগামী শনি বা রবিবারের দিকে কারখানা চালু করব।’

বিবেকবান কেউ এমন পরিস্থিতিতে কারখানা খোলা রাখতে চাইবে না উল্লেখ করে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও মিরাজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মাহবুব উদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘এ ব্যাপারে সরকার থেকেই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। কারণ গার্মেন্ট কারখানার পরিবেশ এমন যে চাইলেও সুরক্ষা কিংবা সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব নয়। এখানে আল্লাহ না করুন যদি একজনও কভিড-১৯ শনাক্ত হয়ে থাকে তাহলে এক ঘণ্টার মধ্যে পুরো কারখানায় তা ছড়িয়ে পড়বে। কারণ পোশাক কারখানার পুরো উৎপাদনপ্রক্রিয়া চেন সিস্টেমে চলে। তাই একবার ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘গার্মেন্ট কারখানা খোলা রাখার বিষয়টি মালিকদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। আগে তো মানুষের জীবন, তারপর অর্থনীতির চিন্তা। অন্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ হচ্ছে। সবাই একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত চায়।’

এ ব্যাপারে বিজিএমইএ সহসভাপতি এ এম চৌধুরী সেলিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিজিএমইএর বক্তব্য পরিষ্কার। যাঁরা লিডটাইম কিংবা জাহাজীকরণের চাপ আছে বলে কারখানা খোলা রাখতে চান তাঁরা অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। আমরা এই মেসেজটি বারবার দিচ্ছি সবাইকে। যদি বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিয়ে সন্তুষ্ট না হন তাহলে পরে কারখানা খুলুন। এ ব্যাপারে কারখানা মালিকরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নেবেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা