kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

কৃষকের তরমুজও ‘লকডাউনে’

‘সরকার যদি তরমুজ কিনে ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করত, তাহলে ক্ষতি অনেকখানি পুষিয়ে নিতে পারতাম।’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৃষকের তরমুজও ‘লকডাউনে’

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তার ভুক্তভোগী হচ্ছেন বিভিন্ন জেলার তরমুজ চাষিরাও। পরিবহনের অভাবে এবং রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে মানুষ কম থাকায় বাজারে তরমুজের চাহিদা একেবারে কম। ফলে কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন ঋণ করে তরমুজ উৎপাদন করা অনেক কৃষক।

কালের কণ্ঠ’র পটুয়াখালী, গলাচিপা ও কলাপাড়া প্রতিনিধি জানান, জেলার রাঙ্গাবালী ছাড়াও তরমুজ চাষ হয় কলাপাড়া, গলাচিপা, দশমিনা ও বাউফল উপজেলায়। এসব এলাকায় এবার ১৪ হাজার ৮২২ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে।

গলাচিপা দরিবাহের চর এলাকার কৃষক আব্দুস ছালাম সরদার বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রভাবে পাইকার আসছে না, ট্রলার পাই না, ট্রাক নাই। ট্রাক, ট্রলার যা পাওন যায়, ভাড়া চায় অনেক বেশি। এ বছর আমাদের পথে বসার মতো অবস্থা।’

বাউফলের শৌলা এলাকায় ৫০০ একর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন ফরহাদ হোসেন টিক্কা। তিনি বলেন, ‘ট্রাক ভাড়া স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক তরমুজ পচে যাচ্ছে।’

রাঙ্গাবালীর তরমুজ চাষি মো. মনির হোসেন বলেন, ‘সরকার লঞ্চ বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে তরমুজ বিক্রি করতে পারছি না। সরকার যদি নির্ধারিত মূল্যে তরমুজ কিনে ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করত, তাহলে ক্ষতি অনেকখানি পুষিয়ে নিতে পারতাম।’

গলাচিপার বঙ্গবন্ধু উপশহরের চাষি হালিম খান বলেন, ‘ঢাকায় চার ট্রাক তরমুজ চার লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু প্রকৃত দাম ছিল ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। খরচ উঠবে কি না তা নিয়েই শঙ্কা আছে।’

কলাপাড়া কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে কৃষকের অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।’

গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ জানান, ‘এ বছর আমরা তরমুজ চাষে উৎসাহ দেইনি। ফলে অনেকেই বোরো ধান চাষ করেছেন। তবে যাঁরা তরমুজ চাষ করেছেন, তাঁদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত বলেন, ‘করোনার প্রভাবে বাজারজাত করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আশা করি এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

বরগুনা প্রতিনিধি জানান, আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া, হলদিয়া এবং চাওড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তরমুজের চাষ হয়েছে। হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর টেপুরা গ্রামের হেলাল গাজী (৪৫) জানান, প্রায় ২০ বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন। তাঁর ক্ষেতে প্রায় ১২ হাজার তরমুজ রয়েছে। এসব তরমুজ বাজারে বিক্রি করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

হলদিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবু সালেহ (৪০) বলেন, হলদিয়া, আঠারোগাছিয়া এবং চাওড়া ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামে তিন থেকে চার হাজার তরমুজ চাষি রয়েছেন। সবার একই অবস্থা। তিনি বলেন, ‘দু-এক সপ্তাহের মধ্যেও যদি পরিস্থিতির উন্নতি হয়, তাহলে তরমুজ চাষিরা হয়তো বাঁচবেন। নয়তো ক্ষেতের তরমুজ ক্ষেতেই পচে যাবে।’

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করীম বলেন, ‘তরমুজ চাষিসহ সারা দেশের কৃষকদের কথা বিবেচনা করে সরকার হয়তো সীমিত আকারে পরিবহন চলাফেরার অনুমোদন দেবে।’

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, উপজেলার অনেক চাষি তরমুজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বাংলাদেশে এবারই প্রথম ফুলপুরে পরীক্ষামূলক চীনা তরমুজ চাষ করেছেন অনেকে। কিন্তু লোকসান হলে ভবিষ্যতে তরমুজ চাষে আগ্রহ হারাবেন অনেক চাষি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা