kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

জেরা ও শাস্তি বেশি প্রধান সড়কেই

► অলিগলিতে বেশি ভিড়
► ঘর থেকে বেশি বেরোচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ
► পাড়া-মহল্লা তদারকির দায়িত্ব নিতে পারেন জনপ্রতিনিধিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জেরা ও শাস্তি বেশি প্রধান সড়কেই

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশজুড়ে চলছে ‘ঘরে থাকুন’ নির্দেশনা। কিন্তু অনেকে হেঁটে অথবা গাড়ি করে বের হচ্ছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের রোধ করার চেষ্টা করছেন। গতকাল বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষের স্থানান্তর বন্ধ করতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল বেড়েছে। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। জরুরি কাজ ছাড়া রাস্তায় বেরোলেই জেরা ও অনেক ক্ষেত্রে জরিমানার মুখোমুখি হতে হচ্ছে মানুষজনকে। এর পরও কিছু মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে। রাস্তায় আছে কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি। তবে প্রধান সড়কের চেয়ে ভিড় বেশি অলিগলিতে। সেখানে নিম্ন আয়ের মানুষ অনেকটাই স্বাভাবিকভাবে রাস্তায় চলাচল করছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঘুরে দেখা যায়, প্রধান সড়কে রয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। রাস্তায় রয়েছে সেনাবাহিনীর টহল। প্রধান সড়কের পাশে বাজারগুলোতেও তারা টহলে যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় মাইকের মাধ্যমে জনগণকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু রাজধানীজুড়েই অসংখ্য অলিগলি। অনেক গলি রয়েছে যেখানে গাড়ি ঢোকাই কষ্টকর। সেসব অলিগলি মানুষে অনেকটাই জমজমাট। মূলত প্রধান সড়ক এবং বড়  বাজারগুলোতেই জেরা ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে মানুষকে।

এ ছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষ এখন ত্রাণের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছে। তারাই অনেক জায়গায় জটলা করে বসে থাকে। কোথাও ত্রাণ বিতরণের খবর পেলে একসঙ্গে যায়, আবার ফিরে আসে। আবার তাদের অনেকে এক কক্ষের বাসায় গাদাগাদি করে থাকে বলে তারা বাইরেই বেশি ঘোরাঘুরি করে। তাদের বেশির ভাগের মাস্কও পরা নেই।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট প্রচার চালানো হচ্ছে। যারা সচেতন তারা অনেকটাই ঘরবন্দি রয়েছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছে না। তবে যারা অসচেতন তারাই বেশি বের হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করে প্রয়োজনে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় তদারকির দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিরাই নিতে পারেন।

মিরপুর মডেল থানা বিট পুলিশিং পদ্ধতিতে থানা এলাকার সাতটি বিটের অফিসার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উদ্যমী স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধ প্লাটুন’ গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. মোস্তাজিরুর রহমান। এ ছাড়া হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা পরিবারের মধ্যে যারা খাদ্যকষ্টে আছে, তাদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ খাদ্য উপহার পাঠানো হয়েছে। বিপদাপন্ন লোকজন কল করলে তাদের বাড়িতে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য পৌঁছে দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। খাবার গ্রহণকারীদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

চুয়াডাঙ্গায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। সন্ধ্যা ৬টার পরপরই নির্দেশনা অনুযায়ী শহরের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ মোতায়েন ছিল। বাজারে ও রাস্তাঘাটে লোকসমাগম কম ছিল। অনেককে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। দু-একটি ইজি বাইক চলাচল করতে দেখা গেছে।

সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ঝালকাঠিতে সামাজিক দূরত্ব মানছে না অনেকেই। যানবাহনে একাধিক ব্যক্তির যাতায়াত, বিভিন্ন স্থানে জটলা, দোকানে ও বাজারে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে কেনাকাটার চিত্র গতকালও লক্ষ করা গেছে। তবে শহরের সব রাস্তায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে তল্লাশিচৌকি। অনেকেই মাস্ক ছাড়াই রাস্তায় বের হচ্ছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও মোটরসাইকেলে একাধিক ব্যক্তি যাতায়াত করছে।

কুড়িগ্রামের গ্রামাঞ্চলে জনসমাগম বন্ধে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাইকিং করা হলেও হাট-বাজারগুলোতে কেনাবেচা চলছে। গতকাল কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী হাটে দেখা যায়, বাজারের পূর্ব প্রান্তে সুপারি হাটে শত শত ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা কেউ মানছে না। গায়ে গা লাগিয়ে বেচাকেনা করছে। তবে বাইরের পাইকার কম আসায় সুপারির দাম কমে গেছে বলে জানান বিক্রেতারা। কুড়িগ্রাম-রংপুর সড়ক ঘেঁষে বসেছে সবজির বাজার। সেখানে কেনাবেচা চলছে দেদার। স্থানে স্থানে বেকার মানুষ বসে আড্ডা দিচ্ছে। পাশ দিয়ে বারবার মাইকিং করা হলেও কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না।

কাঁঠালবাড়ী বাজারের টিন ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান জানান, পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এলে অনেকেই দোকান বন্ধ করে, জনসমাগমও কমে যায়। তাঁরা চলে গেলে আবার সবাই সমবেত হয়। স্থানীয় কলেজছাত্র অনিক দেব জানান, গ্রামের মানুষ করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে না পারায় বিষয়টাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, হাট-বাজারে জনসমাগম কমাতে মানুষকে বিভিন্নভাবে সচেতন করা হচ্ছে। এ কাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ছাড়াও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনগণকে সরকার নির্দেশিত বিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পাশাপাশি মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। গতকাল জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পীযূষ কুমার চৌধুরীর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি টিম উপজেলার জগৎপট্টি, জগন্নাথকাঠি, মিয়ারহাট, ইন্দ্রেরহাট বন্দরসহ গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজার, সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সতর্কতামূলক প্রচার চালায়। নির্দেশনা না মানায় একাধিক দোকানদারকে জরিমানাও করা হয়।

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে গত বৃহস্পতিবার থেকে কঠোর অবস্থান নিয়ে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টহলদল। মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসানো হয় পুলিশের চেকপোস্ট। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা প্রবাসীদের বাড়িতে খোঁজখবর নিতে দেখা গেছে প্রশাসনকে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, ‘কিছু মানুষ অতি উৎসাহী হয়ে পথে বের হয়ে আসছে। তাদের রুখতে আমরা কঠোর অবস্থানে মাঠে আছি। অভিযানে আইন অমান্য করায় ১০ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষজনের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’

(তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা)।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা