kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ আষাঢ় ১৪২৭। ১৪ জুলাই ২০২০। ২২ জিলকদ ১৪৪১

সমন্বিত ত্রাণ বিতরণ

তালিকা হয়নি, চ্যালেঞ্জের মুখে মাঠ প্রশাসন

বাহরাম খান   

৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তালিকা হয়নি, চ্যালেঞ্জের মুখে মাঠ প্রশাসন

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ত্রাণ উপকারভোগীর তালিকা এখনো প্রস্তুত না হওয়ায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মাঠ প্রশাসন। যে যেভাবে পারছে সেভাবে ত্রাণ বিতরণ করছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করার আহ্বান সত্ত্বেও বেশির ভাগ রাজনীতিবিদ ও বেসরকারি উদ্যোক্তা সমন্বিত ত্রাণ বিতরণে সাড়া দিচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের ইতিবাচক সহযোগিতা ছাড়া প্রকৃত উপকারভোগী ঠিক করে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন।

গত ২৯ মার্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা তৈরির জন্য সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার মধ্যবিত্তদের মধ্যে যাঁরা লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে সংকোচ বোধ করেন, তাঁদের জন্যও তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এত অল্প সময়ে একাধিক তালিকা করা কতটা সম্ভব তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

যশোরের ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আরিফ গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সমন্বিতভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। বেসরকারি ত্রাণ বিতরণে কেউ কেউ আমাদের কাছে আসছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে সহায়তা করছি। অনেকে নিজেদের মতো ত্রাণ দিচ্ছেন। তাঁদের প্রতি আজকেও (শুক্রবার) প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করার আহ্বান জানিয়েছি।’

শফিউল জানান, বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে সময় লাগছে। আশা করি ঠিক হয়ে যাবে।

ময়মনসিংহ বিভাগের একটি জেলার ডিসি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, বেসরকারিভাবে যাঁরা ত্রাণ দিচ্ছেন, তাঁদের অনেকেই কথা শুনছেন না। বিশেষ করে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ প্রদানকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সঙ্গে কথা বলে ত্রাণ দিন। তাহলে একই জায়গায় বারবার ত্রাণ যাবে না। আবার কেউ বাদও পড়বে না।

যাঁরা লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে চান না, তাঁদের তালিকার বিষয়ে দিনাজপুরের ডিসি মাহমুদুল আলম জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে তালিকা তৈরি হচ্ছে তাতে লাইনে দাঁড় করিয়ে ত্রাণ দেওয়া হবে না। তালিকা অনুযায়ী উপকারভোগীদের বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে। তাই নতুন তালিকার প্রয়োজন হবে বলে মনে হয় না। তিনি বলেন, ‘তার পরও যদি কেউ বাদ পড়েন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বলতে লজ্জা বোধ করেন, তাঁরা আমাদের ফোনে তথ্য দিলে বাড়িতে ত্রাণ পৌঁছে দেব।’

মাহমুদুল আলম বলেন, ‘আপাতত দুটি তালিকা করা কঠিন হবে। আমরা যে প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছি, তাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা বাদ পড়বে না।’

দক্ষিণাঞ্চলের একটি জেলার ডিসি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছু জনপ্রতিনিধি দু-তিনতলা বাড়ির মালিকের নাম তালিকায় ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। এগুলো বাদ দিয়ে প্রকৃত উপকারভোগী ঠিক করতে চেষ্টা করছি আমরা।’ তিনি জানান, আপাতত পরিবহন শ্রমিক, রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, রিকশা-ভ্যানচালক—এমন ব্যক্তিদের ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। দু-তিন দিনের মধ্যে তালিকা প্রস্তুত হয়ে যাবে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়ে বেশি দুর্বল মানুষদের একটি তালিকা করাই আছে। এর সঙ্গে আরো কিছু উপকারভোগীকে যোগ করে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তাঁর মতে, এটা খুব কঠিন কাজ না। তিনি বলেন, ওয়ার্ড মেম্বার ও গ্রামের মুরব্বিরা কাদের ত্রাণ দিতে হবে তা ভালোভাবে জানেন। তবে তাঁরা যদি ঠিকমতো তথ্য না দেন তাহলেই সমস্যা।

তোফায়েল আহমেদ মনে করেন, এটা সাময়িক ত্রাণ কার্যক্রম, বড়জোর দুই থেকে তিন দফা ত্রাণ দিতে হবে। তালিকা করতে গিয়ে সময় নষ্ট না করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রকৃত উপকারভোগীদের ত্রাণ দিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা