kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

কভিড-১৯ নিয়ে মডেলভিত্তিক বিশ্লেষণ

বয়স যত ঝুঁকি তত

মেহেদী হাসান   

৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বয়স যত ঝুঁকি তত

নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমণে মৃত্যুঝুঁকির সঙ্গে বয়সের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পেয়েছেন গবেষকরা। চীনের হুবেই প্রদেশে ও অন্যত্র মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশেরই বয়স ছিল ৫০ বছর বা এর বেশি। এ থেকে স্পষ্ট ধারণা মিলছে যে সংক্রমিত ব্যক্তির বয়স যত বেশি তার জন্য ঝুঁকির মাত্রাও তত বেশি। আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেটে গত সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণামূলক নিবন্ধে এসব তথ্য উঠে এসেছে। রবার্ট ভেরিটি, নিল এম ফার্গুসনসহ মোট ৩০ জন খ্যাতিমান সংক্রামক ব্যাধি গবেষক মিলে ওই গবেষণামূলক নিবন্ধ লিখেছেন।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা তাদের উপসর্গ দেখা যাওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত গড়ে ১৭ দশমিক ৮ দিন করে সময় পেয়েছে। অন্যদিকে করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থ হয়ে ছাড়া পেতে গড়ে সময় লেগেছে ২৪ দশমিক ৭ দিন। গবেষকদলটি গত ৮ ফেব্রুয়ারি চীনের জাতীয় ও প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কমিশন প্রকাশিত তথ্য থেকে হুবেই প্রদেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। অন্যদিকে চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের তথ্য (গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) ওই গবেষকদল সংগ্রহ করেছে ৩৭টি দেশ এবং হংকং ও ম্যাকাওয়ের সরকার বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ঘেঁটে। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে গবেষকদলটি উপসর্গ দেখা যাওয়ার পর থেকে পরিণতি (সুস্থ হওয়া বা মারা যাওয়া) পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান এবং রোগীর বয়স জানার চেষ্টা করেছে। চীনের বাইরের এক হাজার ৩৩৪ জন করোনা রোগী এবং চীনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া তিন হাজার ৬৬৫ জন রোগীর তথ্য গবেষকদলটি বিশ্লেষণ করেছে।

চীনের পরীক্ষাগারগুলোর করোনাভাইরাস নিশ্চিত হওয়া রোগীদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর হার ছিল ৩.৬৭ শতাংশ। চীনের হুবেই প্রদেশে করোনাভাইরাসে এক হাজার ২৩টি মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণ করে গবেষকদলটি দেখতে পেয়েছে, মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সীর সংখ্যা ৮২৯। অন্যদিকে ৬০ বছর বা এর কম বয়সী ব্যক্তির সংখ্যা ১৯৪।

গবেষকদলটি চীনে করোনাভাইরাস নিশ্চিত হওয়া ৪৪ হাজার ৬৭২ জন রোগীর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখেছে, সেখানে ৮০ বছর বা এর বেশি বয়সী রোগী ছিল এক হাজার ৪০৮ জন। তাদের মধ্যে ২০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৭০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী তিন হাজার ৯১৮ জন রোগীর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩১২ জনের। ৬০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী আট হাজার ৫৮৩ জন রোগীর মধ্যে ৩০৯ জনের এবং ৫০ থেকে ৫৯ বছর বয়সী ১০ হাজার আটজনের মধ্যে ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শূন্য থেকে ৪৯ বছর বয়সী রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশ কম পাওয়া গেছে ওই গবেষণায়।

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছয়টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন হওয়া বিদেশিদের মধ্যে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের হার ছিল ০.৮৭ শতাংশ। আরেক হিসাবে দেখা গেছে, ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে ১.১ শতাংশকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। ৮০ বছর বা এর বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তির হার ছিল ১৮.৪ শতাংশ। 

গবেষণা প্রতিবেদনের শেষ পর্যায়ে বলা হয়েছে, বিশ্ব এখন করোনা মহামারির প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। চীন মাত্র দুই মাসে ওই ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সফল হলেও বেশির ভাগ দেশেরই এ ক্ষেত্রে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে সারা বিশ্ব বড় ধরনের সংক্রমণের শিকার হবে। মৃত্যুর হার কতটা হবে তা নির্ভর করছে দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার ধরনের ওপর। নতুন ওই রোগের ব্যাপারে ক্লিনিক্যাল জ্ঞান যত বেশি হবে রোগের ফলাফলেও তার তত প্রভাব পড়বে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা