kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক

স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা চালুর ঘোষণা

► কারখানা খুলতে পারে ৫ এপ্রিল : বিজিএমইএ সভাপতি
► বাংলাদেশ থেকে পিপিইসহ বিভিন্ন পণ্য নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র ও কুয়েত
► ৫ হাজার কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে পাবেন উদ্যোক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা চালুর ঘোষণা

স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের তৈরি পোশাক কারখানা চালুর কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল বুধবার সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত করোনাভাইরাস নিয়ে এক জরুরি বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বিকেএমইএ সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান ও অন্য ব্যবসায়ী নেতা ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, রপ্তানি খাতের কর্মীদের মজুরি ও বেতন পরিশোধের জন্য সরকার পাঁচ হাজার কোটি টাকার যে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে; এটি অনুদান নয়, উদ্যোক্তারা ২ শতাংশ সুদে তা ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন। আর এই টাকা নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে শোধও করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, করোনার এই সময়ে বিশ্বব্যাপী নতুন পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়েছে। সেই চাহিদা অনুসারে ওই সব পণ্য তৈরি করে রপ্তানি করার জন্য উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যেসব সুযোগ তৈরি হয়েছে; সেসব তথ্য ব্যবসায়ীদের দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে অফার আসছে; সুবিধাগুলো কাজে লাগাতে হবে। প্রণোদনার টাকা নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক জায়গায় এটা এসেছে অনুদান হিসেবে। প্রকৃত অর্থে এটা দান নয়।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতির আলোকে কত দিন সেনাবাহিনী কাজ করবে তা প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার যত দিন চাইবে, তত দিন সেনাবাহিনী থাকবে। এটা তো সরকার নির্ধারণ করবে। সরকার যেদিন বলবে আমরা চলে আসব।’

বৈঠক শেষে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক কালের কণ্ঠকে জানান, বৈঠকে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক কারখানায় আগামী দিনে পিপিই ও অন্য সুরক্ষা পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। এ ছাড়া সাধারণ ছুটির পর আগামী ৫ এপ্রিল থেকে কারখানা খোলা হতে পারে বলেও জানান তিনি। ক্রেতারা কাজ স্থগিত করার কথা বললেও বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কিছু ক্রেতা এখনো তাদের সঙ্গে কাজ করতে চান।

বিকেএমইএ জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, করোনাসংক্রান্ত কিছু উপকরণের বিশ্ববাজারে চাহিদা তৈরি হয়েছে। এসব চাহিদা কাজে লাগানোর জন্য বৈঠকে আলোচনা হয়। এসব উপকরণ তৈরিতে বৈঠকে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বলে আশ্বাস দেন ব্যবসায়ীদের। এ সময় সরকারের প্রণোদনার ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, প্রণোদনার টাকা সরাসরি কারখানার শ্রমিক এবং কর্মীদের ব্যাংক হিসাব বা বিকাশে পাঠানো হবে—সরকারের এ সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য সম্মানজনক নয়।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) সভাপতি ও বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বৈঠকের সূত্র ধরে জানান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে পিপিই এবং শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার বিশেষ যন্ত্র ভেনটিলেটর নিতে চায়। এ সময় সেনাপ্রধানও এসব পণ্যে কুয়েতের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা