kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

কোয়ারেন্টিন সময়

কী করছেন রাজনীতিকরা?

► বসে অফিস করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
► গুরুত্বপূর্ণ বই পড়ছেন তোফায়েল ও ফখরুল
► বই লিখছেন মোশাররফ ও মওদুদ
► বাসা থেকে দল সামলাচ্ছেন জি এম কাদের
► ইবাদতে সময় পার করছেন অলি

এনাম আবেদীন   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



কী করছেন রাজনীতিকরা?

বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দেশের বেশির ভাগ মানুষ কোয়ারেন্টিনে আছে। কিন্তু সারাক্ষণ যাঁরা সমবেত জনতা কিংবা নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত থাকতেন সেই রাজনীতিকরা এখন বাসায় কী করছেন?

এমন কৌতূহল থেকেই কালের কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাশাপাশি দেশের বিশিষ্ট কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে। আলাপকালে জানা যায়, তাঁদের বেশির ভাগই বাসায় বসে টেলিভিশন দেখার পাশাপাশি বই ও খবরের কাগজ পড়ছেন। কেউ বা লিখছেন বই। কেউ করছেন প্রার্থনা। আবার কেউ বাসায় বসেই অফিস করার পাশাপাশি পরিচালনা করছেন দল। 

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি খবরের কাগজ এবং বই পড়ে সময় পার করছেন। তবে ফোনে দলের নেতাকর্মীদের খবরও রাখছেন। মেয়ে সারা হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের অনেকে লন্ডনে রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওদের সঙ্গেও যোগাযোগ আছে। বর্তমান সময়ে কারও সঙ্গে দেখা করছি না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান এই নেতার মতে, ‘করোনার কারণে পৃথিবীতে এ ধরনের সংকট নজিরবিহীন। আমাদের সবারই সবার পাশে দাঁড়ানো উচিত।’ 

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানান, বাসায় বসে টেলিভিশনে নিজের দেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সব চ্যানেলে খবর দেখার পাশাপাশি ইন্টারনেটে নিউজ পড়া এখন তাঁর প্রতিদিনকার নিয়ম হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আগে তেমন সময় পাইনি। বঙ্গবন্ধুর দি আনফিনিসড মেমোরিজ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী) বইটি আবারও পড়ছি। আমার নিজের লেখা ‘অসহযোগ আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা’ সামনে আছে। এটিও আবার দেখছি।’

‘তবে খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ছি নেলসন ম্যান্ডেলা এবং মার্শাল টিটোর জীবনী’ জানালেন স্বাধীনতা আন্দোলনের ভূমিকা পালনকারী তুখোড় এই নেতা। তিনি বলেন, ‘স্ত্রীকে সময় দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি অনেক দিন পর। এই দুর্যোগে এলাকার জনগণের খবরও নিতে হচ্ছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘মেয়ে ও জামাই গুলশানে থাকছে। তবে ওপরের ফ্ল্যাটে ছেলে ও ছেলের বউ এবং তাঁদের বাচ্চারা আছেন। খাবার সময় একসঙ্গে সবাই খাই।’

পুরোপুরি কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে জানান, নিয়মিত ইবাদতের পাশাপাশি এখন তিনি পবিত্র কোরআনের তর্জমা অর্থাৎ বাংলা অনুবাদ পড়ছেন। সময় পেলে সিনেমাও দেখছেন। তবে অবসর এই সময়টাতে সবচেয়ে বেশি সময় পার করছেন বই পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের আলবার্ট আইনস্টাইন ইনস্টিটিউশন থেকে প্রকাশিত জেন সার্পের ‘ফ্রম ডিক্টেটরশিপ টু ডেমোক্রেসি’ বইটি পড়া এখন শেষ পর্যায়ে বলে জানান তিনি। বলেন ‘সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও সারা দেশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।’

করোনার এমন পরিস্থিতির মধ্যে বাসায় বসে অফিস করতে হচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে। গত রবিবার কালের কণ্ঠকে তিনি জানান, কোয়ারেন্টিনে থাকলেও যাঁদের বেশি প্রয়োজন তাঁরা ঠিকই বাসায় আসছেন। আবার মন্ত্রণালয় বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাঁদের প্রয়োজন তাঁদের ঠিকই বাসায় ডেকে আনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বাসাই আমার অফিস। এমনকি অতি প্রয়োজনে আমাকেও বের হতে হচ্ছে। কিছু করার নেই। তবে এটিও ঠিক, পত্র-পত্রিকা আগের চেয়ে বেশি পড়তে পারছি। পরিবারের সদস্যরা একটু সময় পাচ্ছেন।’

নিজের দেখা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে  একটি বই লেখার কাজ এগিয়ে চলছে বিএনপির প্রবীণ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের। কালের কণ্ঠকে তিনি জানান, কারাগারে থাকা ছাড়া এ ধরনের নির্বিঘ্ন সময় তিনি আর পাননি। তাই বইয়ের কাজ যতটা সম্ভব এগিয়ে নিতে চান।

প্রতিদিনের রুটিন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোরে ঘুম থেকে উঠে নামাজ  শেষে পত্রিকা পড়া। এরপর নাশতা খেয়ে দুপুর পর্যন্ত একটানা লেখার কাজ চলে। তবে লিখতে গেলে আবার পড়তে হয়। তাই প্রাসঙ্গিক বইগুলো পড়ি।’

‘আসরের নামাজের পর বিবিসি-সিএনএনসহ গুরুত্বপূর্ণ সব চ্যানেলে খবর দেখি। মাগরিবের পরে ছাদে হাঁটতে যাই। এরপর আরেক দফা খবর দেখে সম্ভব হলে আবারও লিখতে যাই।’

সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কোয়ারেন্টিনের নিয়ম তাঁর বাড়িতে অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়। ভিজিটর পুরোপুরি নিষিদ্ধ। বাসার কেউ বাইরে গেলেও সামনে হাত না ধুয়ে বাড়িতে ঢোকার নিয়ম নেই। সামাজিক দূরত্ব পুরোপুরি মেনে চলা হচ্ছে।

২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সালের রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে দুটি বই লেখার কাজ করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। কালের কণ্ঠকে তিনি জানান, ‘কোয়ারেন্টিনের এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে সাত-আট ঘণ্টা তিনি লেখার কাজে ব্যয় করছেন।’ বলেন ‘অফিস কিংবা কোর্ট খোলা থাকলে এ সময়টা আমি পেতাম না। তাই নিশ্চিন্ত মনে গবেষণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। দুটি বই প্রায় রেডি আছে। রোহিঙ্গাসহ কিছু সংকট নতুন উদ্ভব হয়েছে। তাই আবডেট করার কাজ চলছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী হাসনা মওদুদও অত্যন্ত ব্যস্ত। তিনিও পড়ছেন এবং লিখছেন। বাড়িতে কোনো ভিজিটর আসছেন না।’

এলডিপির সভাপতি অলি আহমেদ জানালেন, সব কিছু বাদ দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ সময় তিনি পার করছেন ইবাদত করে। তাঁর ভাষায়, ‘ঘরের ভেতর হাঁটাহাঁটি করি আর আল্লাহকে ডাকি। বর্তমান বিপদ থেকে মহান রাব্বুল আল আমিন ছাড়া আর কেউ রক্ষা করতে পারবে না।’  

একই ফ্লোরে থাকলেও ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয়স্বজন সবাইকে আপাতত নিজেদের মতো থাকতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সময় পেলে খবর দেখি। তবে পত্র-পত্রিকা সম্ভবত মহাখালী ডিওএইচএসে ঢোকা বন্ধ করে দিয়েছে। বাসায় তাই পাচ্ছি না।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এ সময়ে বাসায় বসেই অফিস করছেন বলে জানালেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে  জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আমরা সেল গঠন করছি। ওই সেল থেকে সারা দেশ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিকেলে এক্সসারসাইজও চলছে। তবে বই পড়ার পাশাপাশি আমি আবার বিভিন্ন পত্রিকায় লিখছিও। সময় পেলে টেলিভিশনে খবর দেখছি। লেখালেখি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনা প্রতিরোধে আমি কিছু দিকনির্দেশনা দিচ্ছি।’

টিভি দেখে ও বই পড়ে সময় কাটছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের। তবে তিনি জানালেন, ঢাকায় থাকলেও এলাকার জনগণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের দিকনির্দেশনা দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতির কারণে এলাকায় গরিব মানুষের তালিকা করে তাদের কিভাবে সাহায্য করা যায় সে বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তাঁর ছেলে-মেয়েরা বিদেশে রয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা