kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

করোনার ত্রাণে এমপিদের খবরদারি থাকছে না

► বন্ধ দপ্তরের গাড়ি ডাক্তার-নার্সদের বরাদ্দ
► মূলধারার সংবাদমাধ্যম সঙ্গে রাখুন
► মৃতদের সম্মানজনক দাফন

বাহরাম খান   

৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার ত্রাণে এমপিদের খবরদারি থাকছে না

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) কোনো খবরদারি রাখা হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় বরাদ্দ জেলা-উপজেলা হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের কাছে যাবে। সেখান থেকে সরাসরি উপযুক্ত উপকারভোগীদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো হবে। ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকছে জেলা প্রশাসনের হাতে। চাইলেও কোনো এমপি বা স্থানীয় নেতা উপবণ্টনের জন্য আলাদা ত্রাণপণ্য বা টাকা পাবেন না।

গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী একেবারে সর্বশেষ স্তর পর্যন্ত অর্থাৎ ওয়ার্ড পর্যায় থেকে ত্রাণবণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিক ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করবে জেলা প্রশাসন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করবে স্থানীয় প্রশাসন। তবে নির্দেশিত চেইনের বাইরে কেউ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে পারবেন না।

সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এমপিদের তদারকির দায়িত্ব থাকলে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যানসহ নানা ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণে সমস্যা হয়। তাই প্রয়োজনীয় ত্রাণ সাহায্য যাতে কোনো বাধা ছাড়াই মানুষের কাছে পৌঁছে যায় সে জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গতকালের আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স সকাল সোয়া ১০টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষ থেকে শুরু হয়ে প্রায় দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলে। এ সময় বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেন মন্ত্রিপরিষদসচিব। অন্যদিকে কমিশনারদের পক্ষ থেকেও কয়েকটি সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস। তিনি দোকানদার, রিকশাওয়ালা, ফেরিওয়ালা, চায়ের দোকানদার, রেস্টুরেন্ট শ্রমিকসহ এমন মানুষদের প্রকৃত তালিকা করে দ্রুত খাদ্য সহযোগিতা পৌঁছে দিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদসচিব তাঁর দেওয়া নির্দেশনায় বলেছেন, ‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে তাঁর সত্কার বা দাফনে কোনো অবহেলা করা যাবে না। তিনি বলেন, কোনো জায়গায় দাফনে সমস্যা হলে সরাসরি আমাকে জানাবেন। প্রয়োজনে আমি নিজে গিয়ে জানাজায় অংশ নেব। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনাগুলো মেনে দাফন সম্পন্ন করতে হবে।’

সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকারি দপ্তরের যেগুলো ছুটিতে বন্ধ আছে সেসব অফিসের গাড়ি রিকুইজিশন করে ডাক্তার, নার্সদের ব্যবহারসহ জরুরি কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদসচিব। ত্রাণ কার্যক্রমসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজে মূলধারার গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের অবহিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। দৈনিক অন্তত একবার যেন জেলা পর্যায়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয় এমন নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত অপর একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভাগীয় কমিশনারদের বরাত দিয়ে কালের কণ্ঠকে জানান, গ্রাম এলাকার মানুষ ভাইরাসের ভয়াবহতা বুঝতে পারছে না। তাই তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হচ্ছে। অন্যদিকে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে সর্দি-জরের রোগী না দেখায় ভোগান্তি হচ্ছে। এসব বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ থেকে বলা হয়েছে, মানুষের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নরমে-গরমে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সেই সঙ্গে অযথা কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, কাজ করলে ভুল হবেই, এসব বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কী বলা হচ্ছে, তা দেখার দরকার নেই। সততার সঙ্গে মনোবল নিয়ে কাজ করুন, কেউ গুজব ছড়ালে দ্রুত সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

ভিডিও কনফারেন্সে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে করোনা উপলক্ষে গঠিত বিভাগীয় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী, সিনিয়র সচিবদের মধ্যে জননিরাপত্তা, স্থানীয় সরকার, ত্রাণসচিবসহ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), পুলিশের আইজিপি, তথ্যসচিব এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা