kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

বিদেশফেরতদের ঝুঁকিপূর্ণ সময় শেষ হয়ে আসছে

► প্রতিদিনই প্রায় সাড়ে চার হাজারজনের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ হচ্ছে
► যাদের মেয়াদ শেষ হয় অন্যদের মতোই নিরাপদ তারা

তৌফিক মারুফ   

৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদেশফেরতদের ঝুঁকিপূর্ণ সময় শেষ হয়ে আসছে

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটার প্রধান কারণ বিদেশফেরত লোকজন। চীনের বাইরে অন্য দেশগুলোতেও ছড়িয়েছে একই প্রক্রিয়ায়। ঝুঁকি এড়াতে চীন, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষের ওপর নজরদারি বাড়াতে শুরু করে সরকার, যাদের বেশির ভাগই প্রবাসী বাংলাদেশি। এ ছাড়া অন্যান্য দেশের কিছু নাগরিক রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় বিভিন্ন বন্দরে স্ক্রিনিং কার্যক্রম। তখন থেকে যাদের প্রাতিষ্ঠানিক বা হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয় তাদের কারো কারো ঝুঁকিপূর্ণ সময় শেষ হয়েছে। কারো কারো শেষ হওয়ার পথে। তবে যাদের কোয়ারেন্টিন শেষ হয়েছে তাদেরও এখন, অর্থাৎ সাধারণ ছুটির সময় অন্যদের মতো ঘরে থাকতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুসারে, ২১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত চার ধরনের প্রবেশপথ দিয়ে দেশে ঢুকেছে মোট ছয় লাখ ৬৫ হাজার ৭৫৪ জন। এর মধ্যে আকাশপথে আসে তিন লাখ ২২ হাজার ৩৪৩ জন, সমুদ্রপথে আসে ১০ হাজার ৮৯৩ জন, রেলপথে আসে সাত হাজার ২৯ জন এবং সড়কপথে আসে তিন লাখ ২৫ হাজার ৪৮৯ জন, যাদের সবাইকেই বন্দরগুলোতে স্ক্রিনিং করা হয় বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রথম দফায় চীনের উহান শহর থেকে ফেরত ৩১২ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। পরে বাকিদের ক্ষেত্রে অনেকটা শিথিল ব্যবস্থাপনায় বেশির ভাগ বিদেশফেরত ব্যক্তিদের নিজ নিজ আবাসন ব্যবস্থায় নিজ দায়িত্বে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়। আর আর বন্দর দিয়ে প্রবেশপথে যাদের শরীরে তাপমাত্রা বেশি পাওয়া যায় তাদেরই কেবল নেওয়া হয় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুসারে, চলতি মাসের প্রথম দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে আসে দুই লাখ ৭৭ হাজার ৪৮ জন। এর মধ্যে যাদের সঙ্গে আগেই কোয়ারেন্টিন কাটিয়ে আসা ও করোনামুক্ত সনদ পাওয়া গেছে তাদের বাদে ৫৮ হাজার ১০১ জনকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বা নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া বা থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২১ জানুয়ারি থেকে যারা এসেছে তাদের মধ্যে আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি ছয় লাখের বেশি বিদেশফেরত মানুষের গত মাসের মধ্যেই তাদের সুপ্তিকাল মেয়াদ শেষ করে নিরাপদ হয়ে গেছে। এ ছাড়া গত ৮ মার্চ থেকে ৫৮ হাজার ১০১ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়, তাদের মধ্য থেকেও ৩৩ হাজার ৯৮৮ জনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।’ তিনি জানান, গতকাল পর্যন্ত কেবল ২৪ হাজার ১১৩ জন কোয়ারেন্টিনে ছিল, যাদের মধ্যে ১২৮ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে এবং বাকিরা সবাই হোম কোয়ারেন্টিনে ছিল। আর প্রতিদিনই চার থেকে সাড়ে চার হাজার লোকের কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ফলে যাদের মেয়াদ শেষ হয় তাদের বাড়তি ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই বা তাদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করা ঠিক হবে না। তারা এখন দেশের অন্যদের মতোই আছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, মানুষের মধ্যে এখনো বিদেশফেরত সবার প্রতি এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব রয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বিদেশফেরত বেশির ভাগেরই বিদেশ থেকে করোনাভাইরাস বহন করে নিয়ে আসার ঝুঁকিপূর্ণ সময় আরো আগেই পার হয়ে গেছে। ফলে সব বিদেশফেরত ব্যক্তিকেই এখনো কেউ যদি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করে, সেটা ঠিক হবে না। কেবল সর্বশেষ ১৪ দিনের মধ্যে যারা এসেছে তারা ওই ঝুঁকিতে আছে। আগে যারা এসেছে তারা এখন দেশের অন্য সব মানুষের মতোই সাধারণ ঝুঁকির আওতায় রয়েছে। তাই তাদের হোম কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হলেও তারা সরকারের সার্বিক নির্দেশনার আওতায় এখনো ঘরবন্দি থাকবে।

এ বিষয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ১৪ দিন করে যাদের কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে তারা এখন আর বিদেশফেরতজনিত ঝুঁকিতে নেই। তারা যদি বিদেশ থেকে করোনাভাইরাস বহন করে নিয়েও এসে থাকে তার সুপ্তিকাল শেষ হয়ে গেছে আগেই। তাদের মধ্যে যারা আক্রান্ত হয়েছে, তাদের কয়েকজনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেওয়ায় আইসোলেশনে বা সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশ থেকে আসার পর বেশির ভাগই এখন ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে। এখন যারা ঝুঁকিতে আছে তাদের সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু সতর্কতার কারণে বিষয়টাকে ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে দেখতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বরং আমরা সবাইকেই এখন সমানভাবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘরে থাকার কথা বলেছি এবং সেটাই সবাইকে করতে হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা