kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৬  মে ২০২০। ২ শাওয়াল ১৪৪১

দীঘিনালার প্রত্যন্ত গ্রামে হামের প্রকোপ, আক্রান্ত অর্ধশতাধিক শিশু

১ জনের মৃত্যু

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি   

৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দীঘিনালার প্রত্যন্ত গ্রামে হামের প্রকোপ, আক্রান্ত অর্ধশতাধিক শিশু

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার প্রত্যন্ত গ্রামে হামে (স্থানীয় ভাষায় লুতি) আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেখানে আক্রান্ত হয়েছে আরো অর্ধশতাধিক শিশু, যাদের সবার বয়স ১০ বছরের নিচে। স্থানীয় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ধ্বনিকা ত্রিপুরা (৯) শনিবার বিকেলের দিকে মারা যায়। সে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ত্রিপুরা অধ্যুষিত দুর্গম রথিচন্দ্র কার্বারিপাড়ার অমি রঞ্জন ত্রিপুরার মেয়ে। খবর পেয়ে গতকাল রবিবার সকালে মেডিক্যাল টিম সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ। তাদের সঙ্গে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৮-১০ দিন আগে থেকে সেখানে শিশুদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দেয়। আক্রান্তদের শরীরে জ্বর এবং ত্বকে লালচে দানার উপস্থিতি দেখা যায়। দুর্গম এলাকা হওয়ায় এবং গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় কেউ উপযুক্ত চিকিৎসা নিতে পারেনি। স্থানীয়ভাবে শুধু প্যারাসিটামল খাওয়ানো হচ্ছিল আক্রান্তদের। কিন্তু শনিবার ধ্বনিকা ত্রিপুরার মৃত্যুর পর আতঙ্ক দেখা দেয় এলাকায়। এরপর বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়।

রবিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক শিশু নিয়ে চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল টিমের কাছে হাজির হয়েছেন অভিভাবকরা। এদের মধ্যে দু-এজন শিশুর শারীরিক অবস্থা ছিল নাজুক। উপস্থিত রোগীদের মধ্যে একমাত্র শনিতা ত্রিপুরার বয়স ১৭ বছর। বাকিদের সবার বয়স ১০ বছরের নিচে। গ্রামের বাসিন্দা সারেন্দ্র ত্রিপুরা (৪০) কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁর দুই ছেলে-মেয়ে খঞ্জন ত্রিপুরা (৭) ও মেরিনা ত্রিপুরা (৬) হামে আক্রান্ত।

এদিকে ডা. তনয় তালুকদার কালের কণ্ঠকে জানান, আক্রান্তদের লক্ষণ হামের সঙ্গে মিল রয়েছে; তবে পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তিনি আরো জানান, আক্রান্তদের মধ্য থেকে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে পান্থই ত্রিপুরাকে (৯) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া এলাকার অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োজনে সে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। জানা গেছে, পান্থই ত্রিপুরার চিকিৎসা ও যাতায়াতের খরচ বহন করছেন ডা. তনয় তালুকদার।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা