kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৬  মে ২০২০। ২ শাওয়াল ১৪৪১

উপযুক্তদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ

লম্বা ছুটিতে হঠাৎ গ্রামে যাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের তালিকা নেই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হ ১০ টাকা কেজি দরে চালের ওএমএসের সিদ্ধান্ত হয়নি

বাহরাম খান   

৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উপযুক্তদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ

বন্যা, খরার মতো সাধারণ দুর্যোগকালে কারা সহযোগিতা পাবে, তা ভিজিডি, ভিজিএফ, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পূর্বপ্রস্তুতকৃত তালিকা অনুযায়ী নিশ্চিত করা হয়। করোনার কারণে হঠাৎ দীর্ঘ ছুটিতে ‘দিন এনে দিন খাওয়া’ শহরের এমন অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ গ্রামে চলে গেছে, যাদের তালিকা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নেই। এর বাইরে দেশব্যাপী নদীভাঙনসহ বিভিন্ন দুর্যোগের কারণে প্রতিনিয়ত কিছু মানুষ ভাসমান হচ্ছে। তাদেরও ঠিকমতো চিহ্নিত করে খাদ্য সাহায্য দেওয়া এই সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করা শ্রমিক, রিকশাচালক, ফুটপাতের দোকানদার, কাজের বুয়াসহ বিভিন্ন খাতে ঠিকা কাজের সঙ্গে যুক্তরা সরকারি সাহায্য পাবেন। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের এসব শ্রমিকের জন্য করোনাকালীন ছুটিতে ২৪ মার্চ থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত ৩১ হাজার ২১৭ টন চাল এবং আট কোটি ৮৯ লাখ ২৬৪ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণ করছে। চালের সঙ্গে আলু, তেল, সাবান কিনে দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের জন্য খাবার কিনতে টাকা দেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মহসিন গতকাল কালের কণ্ঠকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনে পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া আছে, সরকারের কাছেও যথেষ্ট খাদ্যশস্য মজুদ আছে।

দেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ২০ শতাংশ অর্থাৎ তিন কোটি ৪০ লাখ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এর মধ্যে প্রায় দুই কোটি মানুষের অবস্থান অতি দারিদ্র্যসীমার নিচে। তাদের কাছে খাদ্য সাহায্য পৌঁছে দিতে কাজ করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোকজন। টাঙ্গাইলের একটি উপজেলার ইউএনও কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার কারণে পাওয়া খাদ্য সাহায্য বণ্টনে আলাদা কোনো তালিকা নেই। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষকে সাহায্য দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য এবং আমাদের নিজস্ব বিবেচনা থেকেই খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এখন অন্য কাজের চাপে তালিকা তৈরি করে খাবার দেওয়া সম্ভব নয়।’

দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে ছয় কোটির মতো শ্রমিক আছেন। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন এক কোটির মতো। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজে যুক্ত পাঁচ কোটির মতো শ্রমিকের বড় অংশ কৃষিকাজে যুক্ত। করোনার সময়ে শহুরে অনেক অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক গ্রামে চলে গেছেন। এসব মানুষকে চিহ্নিত করে তাদের কাছে খাবার পৌঁছানো কঠিন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ্্ কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিশ্চয় এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের সমন্বয়ে যে চেইন আছে তাতে উপকারভোগী চিহ্নিত করতে খুব বেশি সমস্যা হবে বলে মনে করি না।’

এরই মধ্যে খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের চেয়ে খাদ্যসংকট যেন বড় না হয়ে ওঠে, সেদিকে সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে।  যেকোনো সময় করোনা পরিস্থিতির চরম অবনতি হতে পারে।’

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে ওএমএসের (খোলাবাজারে বিক্রি) চালের দাম প্রায় বাজারদরের সমান হওয়ায় ডিলাররা শুধু আটার ওএমএস কার্যক্রম চালাচ্ছেন। করোনার সময়ে ১০ টাকায় ওএমএসে চাল বিক্রির একটি আলোচনা হলেও সরকার এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। খাদ্য অধিদপ্তরের ডিজি সারোয়ার আলম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওএমএসের চাল বিক্রিতে ডিলারদের অনাগ্রহ আছে, এটা সত্য। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ওএমএসের চালের দাম কমানোর কোনো সিদ্ধান্ত আজ (গতকাল) পর্যন্ত পাইনি।’

অর্থনীতিবিদ ও অগ্রণী ব্যংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চলমান লম্বা ছুটিতে মধ্যবিত্তকে ঘরে রাখা সহজ। ছুটি আরো লম্বা হলে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষকে ঘরে রাখা কঠিন হবে।’ তিনি বলেন, সরকারের হাতে পর্যাপ্ত খাবার আছে। এখন প্রশাসনের দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে সঠিক উপকারভোগীদের কাছে সেই খাদ্য পৌঁছানো। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা