kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনার থাবা খামারে

চরম অনিশ্চয়তায় ডেইরি ও পোল্ট্রি মালিকরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার থাবা খামারে

করোনাভাইরাস আতঙ্কে পরিবহনব্যবস্থা সীমিত রয়েছে সারা দেশে। মানুষ ঘরেই ‘বন্দি’ থাকছে। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদিত সবজি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ডেইরি ও পোল্ট্রি মালিকরাও রয়েছেন বেকায়দায়। আবার পরিবহনব্যবস্থা না থাকায় অনেক এলাকায় সবজিসহ অন্যান্য পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ : 

ঈশ্বরদী (পাবনা) : দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রভাবে পদে পদে বিপাকে পড়েছেন দেশের বৃহৎ সবজি চাষ এলাকা ঈশ্বরদীর কৃষক ও সরবরাহকারীরা। গাজর, মুলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পাঠানো না যাওয়ায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা তা কিনছেন না কৃষকদের কাছ থেকে।

খুলনা : আলু, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, লাউ, কুমড়াসহ অন্যান্য সবজির দাম কমে গেছে খুলনায়। খুলনার বৃহৎ পাইকারি বাজারগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

নেত্রকোনা : দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে পাইকাররা সবজি নিচ্ছেন না নেত্রকোনায়। এ ছাড়া সবজির ক্রেতাও নেই। স্থানীয় কৃষকদের উত্পাদিত সবজিও বিক্রি হচ্ছে কম দামে।

বাঘারপাড়া (যশোর) : যশোরের বাঘারপাড়ায় সবজির সরবরাহ যথেষ্ট রয়েছে। দামও তুলনামূলক কম। দাম কম হওয়ায় সবজি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

গৌরনদী (বরিশাল) : বরিশালের গৌরনদীতে সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে, তবে ক্রেতা কম। সবজির দাম কিছুটা কমে গেছে।

হবিগঞ্জ : সরবরাহ বন্ধ থাকায় হবিগঞ্জের পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পের উদ্যোক্তারা বিপাকে পড়েছেন। পাওয়া যাচ্ছে না মুরগি ও গরুর খাবার। ব্রয়লার মুরগি ৮০ টাকায় আর ৩০ টাকা লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে।

যশোর : যশোরে পোল্ট্রি শিল্পে বিপর্যয় নেমে এসেছে। পোল্ট্রি মুরগির বাচ্চা একেবারেই বিক্রি হচ্ছে না। প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ মুরগির বাচ্চা মারা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : বাংলাদেশ দুগ্ধ উত্পাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্ক ভিটা) তিন দিন ধরে খামারিদের কাছ থেকে দুধ না কেনার কারণে বিপাকে পড়েছেন উত্পাদকরা। প্রায় ১১ হাজার গরুর খামারের দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা দরে।

নরসিংদী : করোনার কারণে বিক্রি না হওয়ায় নরসিংদীর পোল্ট্রি ও সবজি উত্পাদনকরা বিপদে পড়েছেন। যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কারণে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য প্রান্তে মুরগি ও সবজি পাঠাতে পারছেন না তাঁরা। স্থানীয় বাজারেও ক্রেতার উপস্থিতি কম। ফলে স্বল্প দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন উত্পাদনকারীরা। 

টাঙ্গাইল : লেবু ছাড়া অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে টাঙ্গাইলে। অল্প লেবু পাওয়া গেলেও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। মাছের সরবরাহ কম।

রংপুর : রংপুরের বদরগঞ্জে পাইকারি সবজি বাজারে করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে বেশ। খুচরা বিক্রেতা না থাকায় পাইকাররা পড়েছেন বেকায়দায়। তিন টাকা কেজি বেগুন, এক টাকায় খিরা বিক্রি করতে দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে রংপুরের পীরগাছায়। ক্রেতা মিলছে না উপজেলাটির বাজারে। 

গোপালগঞ্জ : সবজির দাম কমেছে গোপালগঞ্জের বাজারে। সবজির গ্রাম হিসেবে পরিচিত ২০টি গ্রামের চাষিদের মাথায় বাজ পড়েছে সবজি বিক্রি না হওয়ার কারণে। জেলার বেশির ভাগ এলাকার অবস্থা এমনই।

কুড়িগ্রাম : করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে। কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পেয়ে চরম হতাশায় রয়েছেন জেলার কৃষকরা। দুই টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে লাউ ও বেগুন। অন্যান্য সবজির দামও কম।

শরণখোলা (বাগেরহাট) : শাকসবজির আমদানি কমে গেছে শরণখোলায়। স্থানীয় কৃষকদের সবজি বাজারে এলেও তা চাহিদার জন্য যথেষ্ট নয়।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : পুলিশের নজরদারির কারণে সবজির বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। বেশি দামে বিক্রি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারে মানুষের উপস্থিতি কম।

ভাঙ্গুরা (পাবনা) : জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত মঙ্গলবার থেকে উপজেলার হাটবাজার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত শস্য দিয়ে মেটানো হচ্ছে চাহিদা।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : পরিবহনব্যবস্থা চালু না থাকায় দুধ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার খামারিরা। কম দামে দুধ বিক্রি করায় হাজার হাজার টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারের মালিকরা। স্থানীয় বাজারে দুধের চাহিদা কমছে। করোনার কারণে মানুষ বাইরে আসছে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা