kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

সবজিসহ অনেক পণ্যের দাম কমতির দিকে

► ছুটির দ্বিতীয় দিনে বাজার প্রায় ফাঁকা
► গরুর মাংসের দাম তিন দিন ধরে বাড়ছে
► এখনো চাল বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সবজিসহ অনেক পণ্যের দাম কমতির দিকে

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সারা দেশে নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া সবই বন্ধ। কিন্তু সেখানেও ক্রেতা কম, অলস সময় কাটাচ্ছেন দোকানিরা। গতকাল ভাটারাবাজার থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর মুগদা বাজারের সুলতান রাইস এজেন্সির মালিক সুমন আহমেদ গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় দোকান খুলেছেন। ভেবেছিলেন প্রতি শুক্রবারের মতো বিক্রি না হোক, তার অর্ধেক তো নিশ্চয়ই হবে। কিন্তু সকাল ১১টা পর্যন্ত এক কেজি চালও তিনি বিক্রি করতে পারেননি।

পাইকারি এই চাল বিক্রেতা বললেন, ‘খুচরা বিক্রেতাদের মাল শেষ হলে আমার কাছ থেকে নেয়। শেষ না হলে তো নিতে আসবে না। অর্থাৎ খুচরা দোকানগুলোতেও বিক্রি কম।’

সুমনের কথার সত্যতা মিলল মানিকনগর বাজারে গিয়েও। বাজারের রাফি স্টোরের সামনে আধাঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে তিনজন ক্রেতা দেখা গেল। একজন আধাকেজি চিনি, একজন এক লিটার তেল নিলেন, অন্যজন রসুনের দাম জেনেই চলে গেলেন। দোকানি মো. বাবুল জানালেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে শুক্রবার হলে এতক্ষণ আপনার সঙ্গে কথা বলার সময় পেতাম না, কিন্তু আজ কাস্টমারই নেই।’ তাঁর মতে, করোনার আতঙ্কে মানুষ কয়েক দিন যে পরিমাণে কিনেছে তাতে আর এক সপ্তাহ বাজারে না এলেও চলবে।

এমন চিত্র শুধু এই দুই বাজারেরই নয়, গোপীবাগ, খিলগাঁও, মালিবাগসহ সব এলাকারই। ক্রেতার অপেক্ষায় দোকান খুলে বসে আছেন বিক্রেতারা। সবজিসহ অনেক পণ্যের দামই কমতির দিকে রয়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে পণ্যের দাম আরো কমে যেত।

অবশ্য ক্রেতারা বলছেন, কয়েক দিন অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগে দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এখন বলছেন, পরিবহন সংকট। আবার কয়েক দিন পর বলবেন, পণ্যের চাহিদা না থাকায় সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন পাইকাররা। আসলে দাম বাড়ানোর এগুলো হলো অজুহাত।

বাজার ঘুরে ও বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীর বাজারগুলোতে গরুর মাংসের দাম আরো বেড়েছে। তিন দিন ধরে গরুর মাংসের দাম বাড়ছে। আগের দিন ৫৮০ টাকার মাংস গতকাল ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। আগের সপ্তাহের শুরুতে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

বিক্রেতাদের দাবি, গরুর সরবরাহ প্রায় বন্ধের উপক্রম। যা আসছে তা-ও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

তবে স্থির রয়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম, বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। আর ডজনে পাঁচ থেকে ১০ টাকা কমে ফার্মের মুরগির ডিম ৯৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১২০ টাকা বিক্রি হয়েছে কোনো কোনো বাজারে। মাছের দামও কিছুটা কমেছে, আগের দিন ১৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া পাঙ্গাশ ১৪০ টাকা, তেলাপিয়া ১০ টাকা কমে ১৪০ টাকা ও রুই ২০ টাকা কমে ২৮০ টাকা, পাবদা ৫০ টাকা কমে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

রাজধানীর বাজারগুলোতে গতকাল চাল বিক্রি হয়েছে আগের বাড়তি দামেই। মিনিকেট ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, নাজিরশাইল (কাটারি) ৬০ থেকে ৬৪ টাকা, দেশি নাজিরশাইল ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা, পাইজাম, স্বর্ণা, বিআর-২৮ বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। চিনিগুঁড়া চাল ১০ টাকা কমে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ডালের দাম কিছুটা কমে এসেছে। মোটা মসুর ডালের দাম পাঁচ টাকা কমে ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে রাজধানীর বাজারগুলোতে। ছোট দানার মসুর ডাল আগের মতো ১০০ থেকে ১২০ টাকাই রয়েছে। ভোজ্য তেল সয়াবিন লিটারে দুই টাকা কমে ৯৪ টাকা, পাম তেল ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, ছোলা ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবুর দামও কিছুটা কমেছে, আগের দিন ৪০ টাকা হালি বিক্রি হওয়া লেবু গতকাল ৩০ টাকায় পাওয়া গেছে। পেঁয়াজ ও রসুনের দাম আগেরটাই রয়েছে। পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, দেশি রসুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং আদা ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

কমে এসেছে সবজির দামও। রাজধানীর বাজারগুলোতে আগের দিনের তুলনায় গতকাল সবজির দাম গড়ে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। বাজারগুলোতে আলু পাঁচ টাকা কমে ২০ টাকা, করলা ১০ থেকে ২০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঢেঁড়স পাঁচ টাকা কমে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০ টাকা কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাসের আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়। অনেকেই বাড়তি পণ্য কিনে মজুদ করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে দাম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা