kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

করোনাযুদ্ধে ফ্যাশনশিল্প

পোশাক নয় মাস্ক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পোশাক নয় মাস্ক

দোকান বন্ধ। সব ফ্যাশন শো বাতিল। করোনাভাইরাসের মহামারিতে বিশ্বজুড়ে ফ্যাশনশিল্পে নেমে এসেছে স্থবিরতা। তবে কাজ থামিয়ে গালে হাত দিয়ে বসে নেই কোনো ফ্যাশন ডিজাইনার বা সেলাইয়ের কারিগর। নিত্যনতুন নকশা আর কাটছাঁটের পোশাক বাদ দিয়ে তাঁরা এখন নেমেছেন অন্য এক যুদ্ধে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য তৈরি করছেন মাস্ক আর পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই)। ফ্যাশনের মক্কা বলে পরিচিত প্যারিস থেকে পুরো ইউরোপ এবং আমেরিকাজুড়ে এখন একই চিত্র।

অবশ্য গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোরও একই অবস্থা। ফোর্ড বা জেনারেল মোটরস বা টেসলার মতো খ্যাতিমান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন যান নয়, বানাচ্ছে জান বাঁচানোর চিকিৎসাসামগ্রী। সবার লক্ষ্য একটাই—করোনাকে প্রতিহত করো।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যকর্মীরা বেশ কিছুদিন থেকেই অভিযোগ করে আসছেন, সুরক্ষা সরঞ্জামে ঘাটতি রয়েছে। বহু স্বাস্থ্যকর্মী তাঁদের মাস্ক একাধিকবার ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। একই পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যে পড়ছে রোগী ও সন্দেহভাজন আক্রান্তরাও। নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো টুইটারে গিয়ে সাহায্যের আবেদন জানান, ‘আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কারা তৈরি করতে পারেন?’ তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে প্রথম এগিয়ে আসে প্রজেক্ট রানওয়ে নামের একটি ফ্যাশন কম্পানি। এরই কর্ণধার ক্রিস্টিয়ান সিরিয়ানো বলেন, ‘নিউ ইয়র্ক গভর্নর যদি চান আমার দল সাহায্য করতে প্রস্তুত। আমার একটি পূর্ণ দর্জির দল আছে। এবার বাড়ি থেকেও কাজ করতে পারবে।’ এর কয়েক দিনের মধ্যেই মাস্ক বানাতে শুরু করে তাঁর দল। উৎপাদিত পণ্য এরই মধ্যে চিকিৎসা সেবাকর্মীদের হাতে পৌঁছাতে শুরু করেছে।

আরো এগিয়ে আসেন নেপলসের মার্কিন ডিজাইনার প্রবল গৌরঙ্গ। তিনিও মাস্ক ও পিপিই বানাতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই কাতারে আছেন ব্র্যান্ডন ম্যাক্সওয়াল—মিশেল ওবামা এবং লেডি গাগার জন্য পোশাক ডিজাইন করেন তিনি। আছে বিলাসবহুল সাঁতারের পোশান তৈরিকারী ব্র্যান্ড কার্লা কোলেটো, লস অ্যাঞ্জেলেস অ্যাপারেলসসহ আরো বহু প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন অনেকেই অর্থ তহবিল জোগান দিতে শুরু করেছে। ইউরোপ থেকে আমেরিকা—সরকারের আহ্বানে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই তাদের নিয়মিত কাজ বাদ দিয়ে মাস্ক তৈরি করছে।

বিখ্যাত ব্র্যান্ড গুচি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ১১ লাখ মাস্ক এবং ৫৫ হাজার পিপিই প্রদান করবে ফ্রান্স সরকারকে। আগামী চার সপ্তাহে ক্রিস্টিয়েন ডিওর দেবে চার কোটি মাস্ক।

গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও এগিয়ে এসেছে একই কাজে। যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল মোটরস বা ফোর্ডের মতোই জাপানের নিসান বা যুক্তরাজ্যের ফর্মুলা ওয়ান বানাচ্ছে জীবন রক্ষাকারী ভেন্টিলেটর। তাদের গাড়ি উৎপাদন অবশ্য এমনিতেই করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ। তবে জরুরি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রী তৈরির জন্য তারা তাদের উৎপাদন ইউনিট বন্ধ করে দেয়নি। ফোর্ড এরই মধ্যে চেহারা সুরক্ষা দানকারী স্বচ্ছ শিল্ড তৈরি করে প্রথম এক হাজার পিসের সেট ডেট্রয়েটের স্থানীয় হাসপাতালে দিয়েছে। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা