kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

সুনসান নগরে শঙ্কা জননিরাপত্তা নিয়ে

► রাতে জরুরি কাজে বের হতেও ভয় ► আশ্বস্ত করছে পুলিশ, ফোন করলেই মিলবে সহায়তা

এস এম আজাদ   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুনসান নগরে শঙ্কা জননিরাপত্তা নিয়ে

‘নগরের জনশূন্য রাস্তায় গাড়ি নেই। ভয়ে অনেকটা সময় বসে ছিলাম। পরে পুলিশকে জানালাম। তাদের টহল গাড়ির সঙ্গে কিছুদূর এলাম। বাকি পথটুকু হেঁটে কিছুটা নিরাপত্তার শঙ্কা নিয়েই বাসায় ফিরতে হয়েছে।’

গত বুধবার রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে মহাখালীর আরজতপাড়ার বাসায় ফেরার অভিজ্ঞতা জানাচ্ছিলেন মোর্শেদ আলম নামের এক চাকরিজীবী। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক নিকটাত্মীয়র পরিচর্যা শেষে বাসায় ফিরতে গিয়ে তিনি এমন আতঙ্কের পথ পাড়ি দিয়েছেন। একই রকম নিরাপত্তাহীনতা বোধ করার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন আরো কয়েকজন।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা মেনে দেশের অধিকাংশ মানুষই এখন ঘরে থাকছে। ঝিমিয়ে পড়া জনজীবনে গৃহবন্দি এসব মানুষ এখন ঘরের বাইরে যেতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কাও প্রকাশ করছে কেউ কেউ।

তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের এই বিশেষ সতর্কতার সময়ে প্রশাসন সব দিকেই বিশেষ নজর রাখছে। প্রতিটি এলাকায় সেনা টহলের পাশাপাশি পুলিশ ও র‌্যাব টহল দিচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে থাকলেই তাকে জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সবাই ঘরে থাকায় অপরাধের শঙ্কা বরং কমেছে।

এখন কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াও সহজ হবে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ সব সময় সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয় থানা ও র‌্যাবের ক্যাম্প আগের চেয়ে বেশি সজাগ।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কেন্দ্রের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন আমরা একইভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আজও (গতকাল) অনেক লোক ফোন করে পাড়া-মহল্লায় দোকানে আড্ডার তথ্য দিয়েছে। তবে অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ফোন কমে গেছে। এর পরও আমরা বলব, জরুরি কাজে বের হয়ে যেকোনো স্থানে কেউ বিপদে পড়লে আমাদের ফোন করুন। আমরা দ্রুত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করব।’

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাসেম বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয়ভাবে নেওয়া সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তায় র‌্যাবের প্রতিটি ব্যাটালিয়ন সচেষ্ট রয়েছে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘সরকারের প্রতিটি নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন।’

রাজধানীর উত্তর যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই এলাকায় আগে সারা রাত গাড়ি চলত। থাকত মানুষের ভিড়। এখন সন্ধ্যায়ই নেমে আসছে নিস্তব্ধতা। আমি একটি সংবাদমাধ্যমে কাজ করি। এ কারণে রাতে বাসায় ফিরতে হয়। প্রধান গেটে গাড়ি নামিয়ে দেয়। এরপর গলিপথটুকু কিভাবে যাব তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘দিনরাত আমাদের টহল আগের মতোই আছে। কারো সমস্যা হলে যোগাযোগ করলেই আমরা এগিয়ে যাব। এ ছাড়া সবাই এখন বাসায় থাকায় চুরি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ কমে গেছে। কারো ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’

কাফরুল থানার ওসি সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘অনেকে ফোন করে বাইরে আড্ডার খবর দেন। তবে অন্যান্য অপরাধের তথ্য নেই। এখন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ। কারণ ভালো মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের হবে না। এর পরও প্রতিটি মহল্লায় টহল জোরদার রেখেছি। গুজব নিয়ে কিছু হয় কি না তা-ও সতর্কভাবে দেখা হচ্ছে।’

পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা, বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, গুজব ছড়ানো, নাগরিক সেবা পেতে সমস্যা, বিদেশফেরত ব্যক্তির অবস্থান, বাসাবাড়িতে থাকা মানুষ ও জরুরি কাজে বাইরে বেরুনোদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাঁদের প্রধান কাজ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা