kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

ক্রেতা-বিক্রেতা আর পণ্য থাকলেও দাম চড়া

দুপুরের পর ফাঁকা হয়ে যায় নিত্যপণ্যের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ক্রেতা-বিক্রেতা আর পণ্য থাকলেও দাম চড়া

রাজধানীজুড়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সুনসান নীরবতা থাকলেও কাঁচাবাজারগুলোয় ছিল ভিন্ন চিত্র। অন্য দিনের মতো বাজারে মাছ, মাংস, চাল, ডাল, সবজিসহ সব পণ্যের দোকানই ছিল খোলা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্রেতাসাধারণের ভিড়ও ছিল যথেষ্ট। তবে সব ধরনের পণ্যের দাম ছিল চড়া।  গতকাল চাল, ডাল, তেল ও ডিমের সঙ্গে নতুন করে বেড়েছে

গরুর মাংস, মাছ ও কয়েকটি সবজির দাম। কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ব্রয়লার মুরগি ও পেঁয়াজের দামে। বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহনসংকটে স্বাভাবিক সরবরাহ না থাকায় দাম বাড়ছে পণ্যের। আর পাইকাররাও অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁরা আরো বলছেন, আজ শুক্রবার থেকে সব ধরনের পণ্যের দোকান বন্ধ হয়ে যাবে—এমন আশঙ্কা রয়েছে অনেকের মাধ্যে। ফলে শুক্রবার যারা সপ্তাহিক বাজার করে, গতকাল বৃহস্পতিবার ছুটি পেয়ে তারাও এসেছে বাজারে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। 

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় মুগদা কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই ব্যস্ত। স্বাভাবিক ছুটির দিনের মতো জমজমাট বাজার। মাছ, মাংস, সবজিসহ সব ধরনের পণ্যের দোকানে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর গোপীবাগ, মালিবাগ, মানিকনগর, খিলগাঁও, বাসাবো, মধ্যবাড্ডাসহ প্রায় সব বাজারেই দেখা গেছে একই অবস্থা। বাজারে আসা ক্রেতাদের অধিকাংশ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত। তবে নিত্যপণ্য ও ওষুধের দোকান ছাড়া বন্ধ ছিল অন্য সব ধরনের পণ্যের দোকান। নিত্যপণ্যের বাইরে মিষ্টি ও বেকারিসামগ্রীসহ কিছু কিছু দোকান দুপুরের পর বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। পাড়া-মহল্লায় মাইকিং করে সবাইকে বাসায় থাকার নির্দেশনা দিচ্ছিল পুলিশ। এর ফলে দুপুরের আগেই নিত্যপণ্যের বাজার সেরে বাসায় চলে যায় অনেকে। এ অবস্থায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফাঁকা হয়ে যায় নিত্যপণ্যের বাজার। গতকাল বিকেলে নিত্যপণ্যের দোকান খোলা থাকলেও বেচাবিক্রি তেমন একটা হয়নি।

সকাল সাড়ে ১০টায় মুগদা কাঁচাবাজারে প্রবেশ করতেই এক ব্যক্তিকে দেখা গেল টক দইয়ের দোকান খুঁজছেন। কাছে গিয়ে জানতে চাইলে আকরাম হোসেন নামের ওই ব্যক্তি জানান, বাসায় মেহমান এসেছে। তাই রান্না করতে টক দই প্রয়োজন। এক ঘণ্টা ঘুরে ওই বাজারে লোকের কমতি দেখা যায়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার আগের দিনের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে সব ধরনের চাল। মিনিকেট ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা, নাজিরশাইল ৬০ থেকে ৬৪ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। মোটা চালের মধ্যে বিআর-২৮, স্বর্ণা ও পাইজাম বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। মসুর ডাল আগের বাড়তি দামেই বিক্রি করা হচ্ছিল। বড় দানার মসুর ডাল ৭০ টাকা, আর ছোট দানার মসুর ডাল ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, ছোলা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ভোজ্য তেলের মধ্যে সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৯৬ টাকা, পাম অয়েল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা লিটার। এ ছাড়া চিনি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোয় সব ধরনের সবজিই বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৫০ টাকার ওপরে। ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটোল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শিম ৫০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া লাউ প্রতি পিস ৫০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কমেনি লেবুর দাম। প্রতি হালি মাঝারি আকারের লেবু ৫০ টাকা হালি দরে বিক্রি হয়েছে। তবে কিছুটা কম টমেটো ও আলুর দাম। টমেটো ২৫ থেকে ৩০ টাকা, আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

পেঁয়াজ ও রসুনের দাম স্থির রয়েছে। পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি, দেশি রসুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

ব্রয়লার মুরগির দাম কমে ১০০ টাকা কেজিতে নামলেও অস্বাভাবিক বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। আগের দিনের চেয়ে ৩০ টাকা বেড়ে ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে গরুর মাংস। আগের বাড়তি দাম ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে ডিম। মানিকনগর বাজারের একজন মাংস বিক্রেতা নাম না জানিয়ে বলেন, ‘সব গাড়ি বন্ধ। আমরা গরু আনতে পারছি না। আজ তো তাও পাচ্ছেন, কাল থেকে দোকান বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।’ 

গতকাল বাজারগুলোয় ১০ টাকা বেড়ে তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, পাঙ্গাশ ২০ টাকা বেড়ে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, রুই ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া বেড়েছে ইলিশের দামও। ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে গতকাল ইলিশ।

মধ্যবাড্ডা পাঁচতলা বাজারে মাছ কিনতে আসা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রেজা মাহবুব বলেন, ‘আমার বাসায় ফ্রিজ নেই, তাই বেশি করে মাছ কিনে রাখতে পারিনি। অন্যান্য পণ্য বেশি করে কিনে রাখার প্রয়োজনও মনে করিনি। তাই নিয়মিত পণ্য কিনতেই বাজারে এসেছি। চাল ও ডালের দাম অস্বাভাবিক। তবে মাছের দাম কিছুটা কম দেখলাম।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা