kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাংলাদেশের পাশে জ্যাক মা, আলিবাবা

৩০ হাজার টেস্ট কিট ও তিন লাখ মাস্ক আসছে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৩০ হাজার টেস্ট কিট ও তিন লাখ মাস্ক আসছে

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ৩০ হাজার টেস্ট কিট ও তিন লাখ মাস্ক দিচ্ছে চীনের জ্যাক মা ফাউন্ডেশন ও আলিবাবা ফাউন্ডেশন। ঢাকায় চীনা দূতাবাস গত শুক্রবার বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে পাঠানো জরুরি বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে চীন সরকার বাংলাদেশকে ১০ হাজার লোকের করোনাভাইরাস পরীক্ষার টেস্ট কিট, ১৫ হাজার সার্জিক্যাল মাস্ক, ১০ হাজার ‘মেডিক্যাল প্রসেসিং ক্লোদিং’ এবং এক হাজার ‘ইনফ্রারেড থার্মোমিটার’ দেওয়ার ঘোষণা দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল শনিবার দুুপুরে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘‘তারা (চীন) এরই মধ্যে ১০ হাজার টেস্টিং কিট ও ১০ হাজার ‘প্রোটেক্টিং ইকুইপমেন্ট’ তৈরি রেখেছে। যেকোনো সময়ে ভাড়া করা উড়োজাহাজে এসব চলে আসবে। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও আনার চেষ্টা করছে। প্রয়োজন হলে আমরা সেগুলোও আনার চেষ্টা করব।’’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চীনের জ্যাক মা ফাউন্ডেশন ও আলিবাবা ফাউন্ডেশন করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগকে সহযোগিতা করতে দান হিসেবে জরুরি সামগ্রী পাঠাচ্ছে। ঢাকায় চীনা দূতাবাসের অনুরোধে ও দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা জরুরি সামগ্রীগুলো পাঠাবে। জরুরি সামগ্রীর মধ্যে আছে ৩০ হাজার ‘নভেল করোনাভাইরাস টেস্টিং রিঅ্যাজেন্ট’ এবং ৩০ হাজার এন৯৫ মেডিক্যাল মাস্ক ও দুই লাখ ৭০ হাজার ‘সিঙ্গেল-ইউজ সার্জিক্যাল মাস্ক’সহ মোট তিন লাখ মাস্ক।

ঢাকায় চীনা দূতাবাস জ্যাক মা ফাউন্ডেশন ও আলিবাবা ফাউন্ডেশনের ওই দান গ্রহণ করার ব্যাপারে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে সম্মতিপত্র যত দ্রুত সম্ভব পাঠাতে অনুরোধ করেছে। চীনা দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে, জ্যাক মা ফাউন্ডেশন ও আলিবাবা ফাউন্ডেশন জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীগুলো কিনে ফ্লাইটযোগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে আসবে। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ওই জরুরি সামগ্রী কাস্টমস ছাড়, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

এদিকে চীনের আলিবাবা গ্রুপের নির্বাহী চেয়ারম্যান জ্যাক মা গতকাল শনিবার এক টুইট বার্তায় বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, লাওস, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম হিসেবে ১৮ লাখ মাস্ক, দুই লাখ ১০ হাজার টেস্ট কিট ও ৩৬ হাজার প্রোটেক্টিভ সুইটন, ভেন্টিলেটর ও থার্মোমিটার দিচ্ছে। দ্রুত সরবরাহ সহজ নয়। তবুও তাঁরা এটি করবেন।

এদিকে গত মধ্যরাত থেকে যুক্তরাজ্য, চীন, থাইল্যান্ড ও হংকং ছাড়া বাংলাদেশমুখী সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আসা বন্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে সরকার। প্রতিবেশী ভারত ও নেপালও আজ রবিবার থেকে আন্তর্জাতিক সব ফ্লাইট উড্ডয়ন-অবতরণ বন্ধ করে দিচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যাত্রীবাহী নিয়মিত ফ্লাইটগুলো বন্ধ হচ্ছে। তবে পণ্যবাহী ফ্লাইট বা কার্গো বিমান চলাচল করতে পারবে। এ ছাড়া বিদেশিদের ফিরে যাওয়ার জন্য অনুমতি সাপেক্ষে বিশেষ ফ্লাইটেরও সুযোগ থাকবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল দুপুরে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দেখেছি, করোনাভাইরাসটা মোটামুটি সংক্রমিত হয়েছে বিদেশফেরত লোকজনের মাধ্যমে। যে ২০ জন সংক্রমণের শিকার হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকেই বিদেশ থাকা আসা লোকজনের সান্নিধ্যে এসেছেন বলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে আমরা কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ওমান, সিঙ্গাপুর ও ভারত এই ১০টি গন্তব্য থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ আসা রহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এ সময়ে যুক্তরাজ্য, চীন, থাইল্যান্ড ও হংকং এই চার রুট চালু রেখেছি। বিশেষ প্রয়োজন হলে লোকজন ওই রুটগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফেরা পিছিয়ে দিতেও তিনি অনুরোধ জানান।

মন্তব্য