kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনাভাইরাস আতঙ্কে যাত্রী কম

রাজশাহী থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বাস চলাচল বন্ধ

রাজধানীতে রাস্তা ‘ফাঁকা’

জহিরুল ইসলাম, ঢাকা ও রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজশাহী থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বাস চলাচল বন্ধ

রাস্তাঘাট ফাঁকা। গণপরিবহনেও যাত্রীসংখ্যা নগণ্য। গতকাল বিকেলে পল্টন এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নতুন করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের কারণে যাত্রী কমে যাওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে রাজশাহী থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের পথে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। তবে আন্ত জেলার (রাজশাহী বিভাগ, রংপুর বিভাগ ও খুলনা বিভাগের মধ্যে) বাসগুলো চালু আছে।

একই আতঙ্কের কারণে রাজধানীতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছেন লাখ লাখ শিক্ষার্থী। এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর স্বাভাবিক পরিবেশে। অন্য কর্মব্যস্ত দিনে ঢাকার রাস্তায় যানজট থাকলেও কয়েক দিন ধরে গাড়ি ও লোকজন কম। রাস্তা বেশ ফাঁকা। সড়কে পর্যাপ্ত গণপরিবহন থাকলেও যাত্রী মিলছে কম। বাস এড়াতে অনেকেই ব্যবহার করছে অ্যাপভিত্তিক পরিবহন।

গতকাল অনেকটাই নীরবতা নেমে আসে রাজধানীর বেশির ভাগ সড়কে। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার রাজধানীতে থাকে তীব্র যানজট। অথচ গতকাল গণপরিবহন ও যাত্রী ছিল খুব কম। পরিবহন চালকরা বলছেন, করোনাভাইরাস আতঙ্কে লোকজন বাইরে বের হয় অনেক কম। এর প্রভাব পড়ছে সব জায়গায়। করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া রোধে জনসমাগম এড়িয়ে, পরিচ্ছন্নতার বিধি মেনে চলার পরামর্শের পর বদলে গেছে রাজধানীর চিত্র। অবশ্য মোহাম্মদপুর-আবদুল্লাহপুর ও মিরপুর-বাড্ডা সড়কে বাসে সিট না পেয়ে কিছু যাত্রীকে দাঁড়িয়েও গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, গুলিস্তানে দূরপাল্লার বাসের কিছু যাত্রী থাকলেও শহরের বিভিন্ন সড়কে চলা গণপরিবহন একেবারেই কম। গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়ায় দীর্ঘ সময় থেকে দেখা যায়, বিআরটিসি কাউন্টারে যাত্রী থাকলেও লোকাল বাসে যাত্রী নেই। ওই রুটে চলা আকাশ, ভিক্টর ক্লাসিক, গ্রামীণ শুভেচ্ছা, আজমেরী, বিহঙ্গ, সাভার পরিবহন, তানজিল, ৭ নম্বরসহ বিভিন্ন বাসে যাত্রী সংকট।

সদরঘাট থেকে দিয়াবাড়ীগামী আকাশ পরিবহনের এক চালক বুলু মিয়া বলেন, ‘সবাই চইলা যায়। অনেকেই শহর ছাইড়া গেছেগা। যাত্রী নাই ভাই। যারা আছে তারাও গালিগালাজ করতাছে। যাত্রী ছাড়া গাড়ি চালাইলে মালিকরে টাকা দিমু কী? আর আমরা বেতন পামু ক্যামনে?’

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির রহমান যাবেন দাউদকান্দি। তাই গুলিস্তান বিআরটিসি কাউন্টারে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, ‘কলেজ বন্ধ। বাসায় থাকতে বলা হয়েছে। তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি। ওখানেই নিজেকে নিরাপদ মনে হচ্ছে। রাজধানীর পরিবেশের কোনো বিশ্বাস নেই! কখন কী হয়।’

একই রকম পরিস্থিতি দেখা গেছে, গুলিস্তান, জিরো পয়েন্ট, পল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল, শান্তিনগর, রামপুরাসহ বিভিন্ন বাস স্টপেজে। জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল চালকদের। দরদাম করে বেশি হলেও অনেক যাত্রী গণপরিবহনে না উঠে মোটরসাইকেলকেই নিরাপদ মনে করেন। কথা হয় মগবাজারে একটি প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরিরত মোতালেব হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাসগুলোর ভেতরে যে ময়লা-আবর্জনা! উঠতে ভরসা পাই না। আবার অতিরিক্ত টাকা দিয়ে যাওয়ার সামর্থ্যও নেই। এর পরও অন্য খরচ কমিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছি।’

কাকরাইল মোড়ে ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা মাকসুদ জানান, ‘রাস্তায় গাড়ি কমলেও খুব বেশি কমেনি। যাত্রী কিছুটা কম হওয়ায় বাস মালিকরা হয়তো দুই-চারটা বাস বসিয়ে রাখতে পারেন। আগে বৃহস্পতিবার এলে গাড়ি সামলাতে দম বন্ধ হয়ে যাইত। আর আজকে তেমন হচ্ছে না।’

রাজশাহী থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বাস বন্ধ

রাজশাহী পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো বলেন, ‘যাত্রীদের মধ্যে করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে গত দুই-তিন দিনে অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে রাজশাহী থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটের যাত্রী। ফলে অব্যাহতভাবে লোকসান থামাতে এবং দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে যেসব রুটে এখনো বাস চলাচল করছে, সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

রাজশাহী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘সরকারের নির্দেশ পেলেও যেকোনো সময় বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় এরই মধ্যে কয়েকটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ।’

এদিকে হঠাত্ বাস বন্ধ করে দেওয়ায় রাজশাহী-ঢাকা রুটের যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। সাইদুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, ‘আমি প্রায় নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করি ব্যবসায়িক কাজে। বৃহস্পতিবার রাতেও ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল। তবে হঠাত্ করে বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছি। এখন ট্রেনই ভরসা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা