kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

করোনা সারাতে জাপানের ফ্লুর ওষুধ কার্যকর দাবি চীনের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা সারাতে জাপানের ফ্লুর ওষুধ কার্যকর দাবি চীনের

চীনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য জাপানে ব্যবহূত এক ধরনের ওষুধ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় কার্যকারিতার প্রমাণ পেয়েছে চীন। জাপানের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ঝাং শিনমিন বলেছেন, ‘ফেভিপিরাভির’ নামের ওই ওষুধটির উৎপাদনকারী জাপানের ফুজিফিল্ম কম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান টয়ামা কেমিক্যাল। তাদের এই ওষুধ চীনের উহান ও শেনজেন শহরে করোনা সংক্রমিত ৩৪০ জন রোগীর ওপর প্রয়োগ করে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে।

ঝাং শিনমিন বলেন, ‘এটা খুবই নিরাপদ এবং চিকিৎসায় এর স্পষ্ট কার্যকারিতা রয়েছে।’

জাপানের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে বলেছে, শেনজেনে যেসব করোনাভাইরাস রোগীকে এই ওষুধ দেওয়া হয়েছে, তারা চার দিনের মধ্যে সংক্রমণমুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে যাদের এ ওষুধ দেওয়া হয়নি তাদের রোগমুক্ত হতে লেগেছে ১১ দিন। এ ছাড়া এক্স-রেতে এই ওষুধ সেবনকারী রোগীদের মধ্যে ৯১ শতাংশের ফুসফুসের অবস্থার উন্নতি দেখা গেছে, যেখানে অন্যদের ক্ষেত্রে তা হয়েছে ৬২ শতাংশের।

তবে এই ওষুধের প্রস্তুতকারক ফুজিফিল্ম টয়ামা কেমিক্যাল (২০১৪ সালে নাম ছিল এভিজান) এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে বলে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গার্ডিয়ান বলছে, জাপানি চিকিৎসকরাও মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়া করোনাভাইরাস রোগীর চিকিৎসায় পরীক্ষামূলকভাবে এই ওষুধ ব্যবহার করেন। এতে অন্যান্য জটিলতা তৈরি থেকে রোগীকে রক্ষা করা যাবে বলে আশা করছেন তাঁরা। তবে এই ওষুধ গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে ততটা কার্যকর নয় বলে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ৭০ থেকে ৮০ জনকে এভিজান দিয়েছি। কিন্তু ভাইরাস সংক্রমণে অন্যান্য জটিলতা তৈরি হওয়া রোগীর ক্ষেত্রে এটা খুব কাজ দিয়েছে বলে মনে হয়নি।’

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এইচআইভি এন্টিরেট্রোভাইরালস লোপিনাভির ও রিটোনাভির মিশ্রণ ব্যবহারেও একই সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

২০১৬ সালে এবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় গিনিতে জরুরি সহায়তা হিসেবে ‘ফেভিপিরাভির’ ওষুধ পাঠিয়েছিল জাপান। মূলত ফ্লুর চিকিৎসার জন্য এই ওষুধ প্রস্তুত হওয়ায় তা কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় পুরোদমে ব্যবহারের জন্য সরকারের অনুমোদন লাগবে। জাপানের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেছেন, সব ঠিক থাকলে আগামী মে নাগাদ করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এই ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। তবে ক্লিনিক্যাল গবেষণার ফল আসতে দেরি হলে অনুমোদনেও দেরি হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা