kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারত

দেশি মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসার সময় এলো এমন সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারত

প্রায় পাঁচ মাস পর পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করল ভারত। গতকাল সোমবার ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখার এক আদেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়। এর আগে গত বুধবার দেশটির আন্ত মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে পেঁয়াজ রপ্তানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আদেশে বলা হয়, আগামী ১৫ মার্চ থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কার্যকর হবে। ন্যূনতম রপ্তানি মূল্যের যে শর্ত ছিল, সেটিও প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থাৎ ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এখন যেকোনো মূল্যে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবেন।

মূলত চলতি মৌসুমে ভারতে বাম্পার ফলনের কারণে কৃষকের স্বার্থে ভালো দাম পেতে রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা। তাদের ওই সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজির পেঁয়াজ বাড়তে বাড়তে আড়াই শ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

গত বুধবার ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিলে এ দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে থাকে। ১০০ টাকার ওপরে থাকা দেশি পেঁয়াজের দাম কমে এখন প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভারত এমন সময়ে পেঁয়াজ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যখন এ দেশের চলতি মৌসুমে উত্পাদিত পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হলে দেশের কৃষক বা চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী গত জানুয়ারি মাসে এক অনুষ্ঠানে দেশের পেঁয়াজ উত্পাদন মৌসুমে ভারত থেকে আর পেঁয়াজ আমদানি না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই অবস্থায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলেও ভারত থেকে পেঁয়াজ আসবে কি না তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ রপ্তানির জন্য উত্সুক হয়ে আছেন। এখন আমাদের সরকার সেই পেঁয়াজ আনার অনুমতি দিবে কি না সেটাই প্রধান বিবেচ্য। কারণ মার্চের মাঝামাঝিতে দেশীয় পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে। এখন যদি পেঁয়াজ আমদানিতে সরকার শুল্ক আরোপ না করে তাহলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এবার যদি কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে পেঁয়াজের ফলন বাড়বে না।’

ব্যবসায়ীরা জানান, সামনে পেঁয়াজের ভরা মৌসুম। এ সময় পেঁয়াজ আমদানি নিয়ে সরকারেরও অনীহা আছে। সরকার পেঁয়াজ আমদানি করবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, পেঁয়াজ, টমেটোসহ বেশ কিছু পণ্য মৌসুমে যেন আমদানি না করা হয়, তার জন্য সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আবারও এই ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি না করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হবে।

রাজধানীর শ্যামবাজারের পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রাজবাড়ী ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী হাজি মো. আব্দুল মাজেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোনো কোনো ব্যবসায়ী দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আমদানির জন্য আবেদন করেছেন। ভারত সরকার রপ্তানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেই কার্যকর হবে।’

শ্যামবাজারের আমদানিকারক মোহাম্মদ রাকিব মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে আমদানিকারকরা অনুমতিপত্রের জন্য আবেদন করেছেন। ভারত সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর এসব অনুমতিপত্র কার্যকর হলেও আগামী ১৫-২০ দিনের আগে দেশের বাজারে পেঁয়াজ আসছে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা