kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

পাপিয়ার অবৈধ সম্পদের সন্ধানে নেমেছে দুদক

খোঁজ নিচ্ছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাও

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পাপিয়ার অবৈধ সম্পদের সন্ধানে নেমেছে দুদক

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই মধ্যে একজন উপপরিচালককে প্রধান করে অনুসন্ধান কমিটি করেছে দুদক। তারা পাপিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্তসংশ্লিষ্ট ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ—ডিবি ও র‌্যাবের সহযোগিতা নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে পাপিয়ার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বিশেষ করে তাঁর নামে কোনো ব্যাংক হিসাব আছে কি না, থাকলে হিসাবগুলোতে কত টাকা জমা আছে, অর্থ স্থানান্তর হয়েছে কি না সে ব্যাপারে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করছে দেশের কেন্দ্রীয় এই আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা।  জানতে চাইলে বিএফআইইউর প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাপিয়ার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। তাঁর নামে ব্যাংক হিসাব আছে কি না সে ব্যাপারে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি।’ 

ডিবি ও র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে তারা পাপিয়া ও তাঁর স্বামী সুমন চৌধুরীর অবৈধ অর্থ ও সম্পদের যেসব তথ্য পেয়েছে তা দুদককে দিয়ে সহযোগিতা করছে।

পাপিয়ার অবৈধ সম্পদ ও অর্থের তথ্য জানতে বিভিন্ন ব্যাংকসহ ঢাকার একটি পাঁচ তারা হোটেলকে চিঠি দিয়েছে দুদক। গতকাল সোমবার দুপুরে এ চিঠি পাঠানো হয়। দুদকের অনুসন্ধান কমিটির প্রধান, উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজ ওই চিঠি পাঠান বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দুদক কর্মকর্তা বলেন, ‘অবৈধ অর্থের সন্ধান করা হচ্ছে পপিয়ার। সে জন্য ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া অতিথিদের নাম ও সব বিল-ভাউচারের কপি চেয়ে গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলের স্বত্বাধিকারীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

দুদক সূত্র জানিয়েছে, উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজকে প্রধান করে গত রবিবার পাপিয়ার অবৈধ সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করতে কমিটি গঠন করে দুদক। দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই ওই হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়া হলো। পাপিয়া সম্পত্তি ও তাঁদের ব্যক্তিগত সহকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি মামলার কপিও সোমবার পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ডিবির কাছ  থেকে সংগ্রহ করেছেন দুদকের এই কর্মকর্তা।

ডিবি ও র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, পাপিয়া ও তাঁর স্বামী সুমন অনৈতিক ব্যবসার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা, চাকরির তদবির, জমির দালালি, দখল, সিএনজি পাম্পের লাইসেন্স প্রদান, গ্যাস লাইনের সংযোগ স্থাপন, তদবির করে কোটি কোটি টাকা ও অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এ ছাড়া দেশের বাইরেও তাঁদের সম্পদ রয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের ভেতরে ঢাকার ফার্মগেটের ২৮ ইন্দিরা রোডে ‘রওশন ডমিনো রিলিভো’ ভবনে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের তথ্যের পাশাপাশি নরসিংদী শহরের দুটি ফ্ল্যাট ও একটি বিলাসবহুল বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নরসিংদীর বাগদী এলাকায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ছয় কাঠা ও ১০ কাঠার দুটি প্লট, তেজগাঁও এফডিসি এলাকায় কার এক্সচেঞ্জ নামের একটি গাড়ির শোরুমে প্রায় এক কোটি টাকা বিনিয়োগ, নরসিংদী জেলায় কেএমসি কার ওয়াশ অ্যান্ড অটো সলিউশন নামের প্রতিষ্ঠানে ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ, তাঁর শ্বশুরবাড়ি ব্রাহ্মণদীতে একটি দোতলা বাড়ি, চলাফেরা করার জন্য তাঁদের কালো ও সাদা রঙের দুটি হাইয়েস মাইক্রোবাস, একটি হ্যারিয়ার, এটি নোয়া ও একটি প্রাইভেট কারের তথ্যের পাশাপাশি পাপিয়ার বাসা থেকে উদ্ধার করা ৫৮ লাখ টাকার উৎস, রাজধানীর বিভিন্ন পাঁচ তারা হোটেলে নারীদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করা এবং রেলওয়ে ও পুলিশে এসআই পদে চাকরির কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া অবৈধ তথ্যের অনুসন্ধান করছে দুদক।

এদিকে রিমান্ডে পাপিয়া ও তাঁর স্বামী সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাপিয়ার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে আসা বিভিন্ন অভিযোগ আমরা যাচাই করে দেখছি। এরই মধ্যে তাঁর বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া  গেছে। মূলত নরসিংদীভিত্তিক তাঁর প্রভাব ছিল বেশি।’ 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে অল্প দিনেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন পাপিয়া। পাপিয়া ফ্যান্টাসি খুব পছন্দ করতেন। তাই তাঁর অবৈধভাবে আয় করা টাকা দিয়ে গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে বিলাসী জীবন যাপন শুরু করেছিলেন। ওই হোটেলেই এক ব্যক্তির সঙ্গে কিছুদিন আগে পাপিয়ার ঝামেলা বেধেছিল। ওই দিন হোটেলরুমে অনেক হট্টগোল হয়। আর এ ঘটনাসহ হোটেলকেন্দ্রিক পাপিয়ার বিষয়ে সব কিছু জানার জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবি কর্মকর্তা।

রিমান্ডে পাপিয়া প্রতিদিনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন জানিয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, পাপিয়া ডিবিকে বলেছেন, যুব মহিলা লীগের নেত্রী ও সাবেক এক এমপির মদদে তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ওই নেত্রীদের মাধ্যমেই সরকারদলীয় বড় নেতাদের সঙ্গে তাঁর সখ্য তৈরি হয়। হোটেলে তাঁর টাকা খরচ দেখে সবাই তাঁকে সম্মান করত। এসব দেখে নিজেকে সে রানি ভাবতে শুরু করে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা