kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

প্রকাশকের মেলা

বইমেলা নিয়ে কিছু প্রস্তাব

রবীন আহসান

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




বইমেলা নিয়ে কিছু প্রস্তাব

বইমেলা করার জন্য বাংলা একাডেমি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পাওয়ার পরও মাঠজুড়ে বইমেলা বসায় মানুষ স্টল খুঁজে পাচ্ছে না। বইমেলায় আপনি যে গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন, তার কাছাকাছি গেট দিয়ে বের হবেন। প্রবেশ এবং বের হওয়ার সময় চোখের সামনে সব প্রকাশনা সংস্থার স্টল পড়বে, এমন একটি ব্যবস্থা করা গেলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু তা না করে পার্কের মতো ফাঁকা রেখে মাঝখানে মাঝখানে স্টল করায় লোকজন এখন বইমেলায় বই কিনতে নয়, ঘুরতে যাচ্ছে। কিন্তু উদ্যানে মানুষকে ঘুরতে নেওয়ার দায়িত্ব বইমেলা কর্তৃপক্ষের নয়।

বাংলা একাডেমির মনিটরিং না থাকায় গত কয়েক বছরে মেলায় নিম্নমানের বই এবং প্রকাশকে সয়লাব হয়ে গেছে। বইমেলা চলাকালে আপনি জানতে পারবেন দেশে ৭০০ প্রকাশনা সংস্থা আছে। বাকি ১১ মাস এসব প্রকাশনা সংস্থা কোথায় থাকে, কটা বই প্রকাশ করে কেউ জানে না। প্রতি বইমেলায় গড়ে চার হাজারের বেশি বই প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু মেলা শেষে  ৪০টি ভালো বইও খুঁজে পাওয়া যায় না। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—তাহলে বইমেলার আয়োজন কি পার্ক সাজিয়ে মানুষজন ডাকা? মেলায় এসে বই না কিনে, হাতে বই নিয়ে সেলফি তোলা?

বইমেলাকে বইকেন্দ্রিক ভাবতে হবে। লেখক-প্রকাশক-পাঠকের সঙ্গে কিভাবে বই নিয়ে যোগাযোগটা বাড়ানো যায় সে ভাবনার মধ্যে না থাকলে একুশে বইমেলায় ভালো বইয়ের বিক্রি বাড়বে না। আমার মনে হয়, বইমেলায় ভালো বই, ভালো লেখককে নিয়ে প্রচার-প্রচারণা হয় না। শ্রাবণ ভালো বই প্রকাশের চেষ্টা করছে। বইমেলার বাইরে সেসব বই বিক্রি ও প্রচারের ব্যবস্থাও করেছে। শ্রাবণ প্রকাশনী ১৪ মাস ধরে বইগাড়িতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই নিয়ে ভ্রাম্যমাণ বইমেলা করছে দেশজুড়ে। পুরো দেশে নতুন পাঠক তৈরি করছে। এ বছর আমরা বঙ্গবন্ধুবিষয়ক পাঁচটি বই প্রকাশ করেছি।

 Sheikh Mujibur Rahman and Bangladesh The Quest for a State (1937-71), By-Afsan Chowdhury, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ ও গণমাধ্যম ভাবনা-শেখ আদনান ফাহাদ, ১০০ কবিতায় বঙ্গবন্ধু-সম্পাদক নাজমুল আহসান, বিশ্বজয়ী বঙ্গবন্ধু-অম্লান দেওয়ান, খোকার জীবনে রেণু-মো. সাখাওয়াত হোসেন।

একুশে বইমেলা আর পুরনো ধাঁচে চলতে পারে না। মেলার মাঠ বড় হয়েছে কিন্তু পাঠক আসছে না নানা কারণে। এর মধ্যে প্রধান কারণ, ঢাকার যানজট। মেলায় প্রতিদিন পাঠক-ক্রেতা আনতে পাবলিক বাসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাহলে উত্তরা-গাজীপুর- নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ-মানিকগঞ্জ  থেকে লেখক-পাঠকরা তাঁদের পরিবারসহ মেলায় আসতে পারবেন। বইমেলা উপলক্ষে ট্রেন-লঞ্চেও সুলভ টিকিটের ব্যবস্থা করে বইয়ের পাঠক বাড়ানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। এসব অসংখ্য কারণে এবার শ্রাবণ প্রকাশনী বইমেলায় অংশগ্রহণ করেনি।

লেখক : প্রকাশক, শ্রাবণ প্রকাশনী

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা