kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

সিলেট নগর

যন্ত্রণার আরেক নাম মশা

সিলেট অফিস   

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যন্ত্রণার আরেক নাম মশা

বর্ষা মৌসুমের এখনো অনেক বাকি। কিন্তু এখনই মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সিলেটবাসী। দিনের বেলায় দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও মশার হাত থেকে মুক্তি মিলছে না। রাতে অবস্থা আরো খারাপ হয়। বাড়িঘর, অফিস থেকে শুরু করে ফুটপাত সব জায়গাই যেন মশাদের দখলে। দীর্ঘদিন ধরে মশার উপদ্রব সীমা ছাড়ালেও এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ নগরবাসীর। তবে সিটি করপোরেশন বলছে, মশা নিধনে এবার তারা দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। 

নগরের চৌকিদেখি, মদিনা মার্কেট, আখালিয়া, শিবগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমার  বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে মশা নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা জানায়, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মশার উত্পাত সীমা ছাড়িয়েছে। নগরের তাঁতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী সালমা পারভিন বলেন, ‘মশার যন্ত্রণায় দিনের বেলাও জানালা খুলতে ভয় হয়। জানালা বন্ধ রেখেও রেহাই মিলছে না।’ একই অভিযোগ করেন নগরের করেনপাড়া এলাকার রনেন সরকার রনি। তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই মাস আগে থেকে মশার উত্পাত ক্রমে বাড়ছে। এখন পরিস্থিতি ভয়ানক।’

সিটি করপোরেশন এ দুর্ভোগ থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘মশা যে হারে বাড়ছে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে তা ভয়াবহ রূপ নেবে। অথচ এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের কোনো তত্পরতা চোখে পড়েনি।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, ‘সিলেট নগরের কিছু অংশ বাদে বাকিটা যেহেতু টিলা, চা বাগানে ঘেরা, সেহেতু এখানে অন্য অঞ্চলের তুলনায় এখানে মশার বিস্তার বেশি হয়।’ মশা বেড়ে যাওয়ার জন্য সিটি করপোরেশনকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাসে মশক নিধনে সিটি করপোরেশনের কোনো কার্যক্রম আমার চোখে পড়েনি। তা ছাড়া নগরজুড়ে উন্নয়নকাজের কারণে ড্রেনগুলো খোলা অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে ড্রেনের মশাগুলোও ছড়িয়ে পড়েছে।’

এ বিষয়ে খোঁজ নিতে সিসিকের মশক নিধন পরিদর্শক মোহাম্মদ উল্লাহ বুলবুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন যে মশা উত্পাত করছে সেগুলো এডিস নয়, কিউলেক্স মশা। কিউলেক্স মশা ময়লা ও বদ্ধ পানিতে বংশবিস্তার করে। বাড়ির আশপাশে যেন ময়লা পানি জমে না থাকে সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।’

মশা নিধনে সিটি করপোরেশন এবার দীর্ঘ পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ শুরু করেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা নগরের ১ নম্বর থেকে ৫ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত কাজ শুরু করেছি। প্রাথমিকভাবে আমরা মশার প্রজনন রুখতে লার্ভিসাইড স্প্রে করছি। এটি শেষ হলে মশা নিধনে স্প্রে করা শুরু করব। আশা করি দ্রুতই নগরবাসী ফল পাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা