kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

‘মুক্তির উৎসব’

শিশুদের অন্য রকম আনন্দঘন সকাল-দুপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শিশুদের অন্য রকম আনন্দঘন সকাল-দুপুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে গতকাল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত মুক্তির উৎসবে স্কুল শিক্ষার্থীদের শপথ। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রিয় মানুষটির মুখের প্রশ্ন শুনে শিশু-কিশোররা সমস্বরে বলে উঠল—‘ভালো আছি।’ একটি একটি করে প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিল তারা। ‘পাকিস্তান’ শব্দটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রিয় মানুষ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বললেন, ‘আমি এই দেশটার নামও মুখে নিতে চাই না।’ গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ‘মুক্তির উৎসব’ অনুষ্ঠানে একদিকে যেমন স্বতঃস্ফূর্ত ছিলেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, অন্যদিকে প্রাণবন্ত ছিল অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোররা। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের শিক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল ১৯তম উৎসবের আয়োজন করা হয়।

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল শিশু-কিশোরদের একে একে প্রশ্ন করেন—‘আমাদের দেশের নাম কী’? ছোটরা জবাব দেয়—‘বাংলাদেশ।’ জাফর ইকবাল ফের প্রশ্ন করেন—‘একটা মানুষের নাম বলো, যে মানুষটার জন্ম না হলে আমাদের বাংলাদেশ হতো না।’ উপস্থিত শিশু-কিশোররা বলল—‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’

ড. জাফর ইকবাল এবার বললেন, ‘বঙ্গবন্ধুর যদি জন্ম না হতো, তাহলে আমাদের বাংলাদেশ হতো না। মনে রেখো, তিনি সবাইকে একত্র করেছিলেন, সবাইকে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।’ ‘আমাদের দেশ কোন দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল’—এমন প্রশ্ন শুনে ছোটরা জবাব দেয় ‘পাকিস্তান।’ উত্তরটি শোনার পর জাফর ইকবাল আরো বললেন, ‘আমি এই দেশটার নামও মুখে নিতে চাই না।’ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বিশাল প্যান্ডেলের নিচে হাজারো শিক্ষার্থীর এই মিলনমেলায় সবার মাথায় ছিল লাল-সবুজের টুপি। প্রত্যেকে পরেছিল নিজ নিজ স্কুলের পোশাক। কিছুক্ষণ পর পর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ভেসে আসছিল তাদের মুখ থেকে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আনন্দঘন এ অনুষ্ঠান চলে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আমিনুল ইসলাম খান, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি সারা যাকের, প্রথম বাংলাদেশি নারী এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত মজুমদার বক্তব্য দেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের জন্য মুক্তির উৎসবের এ আয়োজন। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগ ও অর্জনের গল্প তুলে ধরে বক্তব্য দেন দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্টজনরা। ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না।’ এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বঙ্গবন্ধুর চেতনা, নবীনের প্রেরণা’।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা