kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

করোনাভাইরাসের ঝুঁকি

তিন বিমানবন্দর নিয়ে বিশেষ সতর্কতা

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিন বিমানবন্দর নিয়ে বিশেষ সতর্কতা

চীনের পরে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কেভিড-১৯) ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা। এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তজার্তিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বন্দর দিয়ে যেকোনো মুহূর্তে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বাংলাদেশে ঢুকে পড়তে পারে। এই প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তর হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অন্যান্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার গত সপ্তাহে দেওয়া ওই প্রতিবেদনে ওসমানী বিমানবন্দরকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্টেশন ম্যানেজার হাফিজ আহমেদ বলেন, বিমানবন্দরের স্ক্যানার মেশিনটি দেড় বছর ধরে নষ্ট। সেটা সচল করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি  পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তা এখনো ঠিক করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে হ্যান্ডহেল স্ক্যানার দিয়ে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আগত যাত্রীদের পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস আক্রান্তদের দেশে প্রবেশ ঠেকানোর যথেষ্ট সরঞ্জাম নেই দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে শুধু শাহজালাল বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে যাত্রীদের শরীরে তাপমাত্রা পরিমাপের মাধ্যমে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার সচল নেই। সেখানে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের সব বিমানবন্দরে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ডেস্কে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতে হবে। বিশেষ করে চীন থেকে আসা সরাসরি তিনটি ফ্লাইটসহ সন্দেহজনক অন্যান্য ফ্লাইটের যাত্রীদের নিবিড়ভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। কারো আক্রান্ত হওয়ার গুজবে কান না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণসহ পরীক্ষার মাধ্যেমে তা নিশ্চিত হতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়. স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে করোনাভাইরাস সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচারের উদ্যেগ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের লক্ষণ ও সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ ও গণমাধ্যমে প্রচার চালানোর ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের সব স্থল ও নৌ ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আগত যাত্রীদের যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে কর্মরত সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (দেশের তৃতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) ব্যবহার করা যাত্রীদের অধিকাংশই প্রবাসী বাংলাদেশি এবং যুক্তরাজ্যে বসবাস করা সিলেট বিভাগের লোকজনের বংশধর।

প্রতিবেদন তৈরির সঙ্গে যুক্ত একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের করোনাসংক্রান্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো বাড়াতে হবে। কারণ চীনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক আছে। অন্যদিকে ২৩ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ‘ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটি ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২০’ স্থগিত হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় চীনের ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ করার কথা ছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা