kalerkantho

শনিবার। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৫ ডিসেম্বর ২০২০। ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন

শাহাদাতের মাথায় ৪৮ মামলা, দায়দেনামুক্ত রেজাউল

মেয়র প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শাহাদাতের মাথায় ৪৮ মামলা, দায়দেনামুক্ত রেজাউল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০টি বিচারাধীন মামলা মাথায় নিয়ে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচন করেছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। এক বছর তিন মাসের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রাক্কালে তাঁর মামলার তালিকায় নতুন করে আরো আটটি যোগ হয়েছে। তবে এ সময়ে আয় বেড়েছে এই বিএনপি নেতার। পক্ষান্তরে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া আওয়ামী লীগ মেয়র পদপ্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অর্থবিত্তে কিছুটা পিছিয়ে তিনি। তবে মামলা ও দায়দেনা মুক্ত নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরেছেন রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রের হলফনামায়।

মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ১১ জন। তাঁদের মধ্যে গতকাল দাখিল করার শেষ দিনে ৯ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন, আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির সোলায়মান আলম শেঠের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থবিত্তে অন্যদের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছেন শেঠ। মূলত পৈতৃক সম্পত্তির ওপর ভর করে অনেকটাই রাজসিক জীবন যাপন করেন তিনি। স্থাবর সম্পদের যে তালিকা জমা দিয়েছেন তার মূল্যই ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া খাগড়াছড়িতে থাকা জমির মূল্য আরো ৫৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তাঁর হাতে নগদ টাকা আছে এক কোটি ৪১ লাখ ২৮ হাজার ৫০০। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে জমা আছে আরো তিন লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এর বাইরে বন্ডে বিনিয়োগ রয়েছে আরো ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা। সোলায়মান শেঠ ব্যবসা থেকে বছরে আয় দেখিয়েছেন ১০ লাখ ৩২ হাজার ৪০০ টাকা। পাশাপাশি গাড়ির ঋণ রয়েছে ৯২ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৭ টাকা। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসনে নির্বাচন করা জাতীয় পার্টির এই নেতার আইএফআইসি ব্যাংকে ঋণ ছিল তিন কোটি ২৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে এবারের হলফনামায় কোনো ঋণের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

শেঠের তুলনায় অর্থবিত্তে পিছিয়ে থাকলেও জমা দেওয়া হলফনামায় অনেকটাই স্বচ্ছ আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। যেহেতু প্রথমবারের মতো প্রার্থী হয়েছেন তাই তাঁর আগের হলফনামার সঙ্গে বিশ্লেষণের সুযোগ নেই। নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউলের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। ব্যবসায়ী এই নেতার আয়ের মূল উৎস বাড়িভাড়া। এই খাতে বছরে তাঁর আয় চার লাখ ১৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যবসা থেকে আয় সাড়ে তিন লাখ টাকা। পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে বাড়ির আর্থিক মূল্য দেখিয়েছেন এক লাখ টাকা। আর পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে পাওয়া চারটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ধরেছেন এক কোটি ৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া নিজের ও স্ত্রীর নামে ব্যাংকে আছে ৪০ লাখ টাকা। নগদ হাতে আছে আরো চার লাখ ৫১ হাজার টাকা।

তবে বিত্তে অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও সন্তানদের সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন রেজাউল। বড় মেয়ে তানজিনা শারমিন নিপুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ফার্মেসি বিভাগের সহকারী শিক্ষক। মেজো মেয়ে সাবিহা তাসনিম তানিম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করেছেন। আর ছোট ছেলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রির চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের আয়ের চেয়ে দেনার পরিমাণ বেশি। উত্তরা ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্টে তাঁর দেনার পরিমাণ তিন কোটি দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে দেনা রয়েছে ২৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা। বিপরীতে পেশায় চিকিৎসক এই নেতার বছরে আয় ১৭ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকা। এ ছাড়া বাড়িভাড়া থেকে আয় তিন লাখ ৫৩ হাজার টাকা। ব্যাংক, বন্ড ও নগদে এই নেতার হাতে আছে প্রায় ৫৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া আটতলা বাড়ি এবং অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ধরা হয়েছে এক কোটি দুই লাখ টাকা।

তবে এই শাহাদাতকে বেশি ভোগাচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪৮টি মামলা। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি ৪০টি বিচারাধীন মামলার কথা উল্লেখ করলেও গতকাল জমা হলফনামায় ৪৮টি মামলার হিসাব দিয়েছেন। তবে সব মামলাই বিচারাধীন।

 

মন্তব্য