kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

প্রাণের মেলা

ক্রীড়াবিষয়ক বইয়ে আগ্রহ

নওশাদ জামিল   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ক্রীড়াবিষয়ক বইয়ে আগ্রহ

ফুটবল অনেক আগে থেকেই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেট অন্যতম জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের নানা খেলার ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনেও জড়িয়ে আছেন অসংখ্য মানুষ। খেলা জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে বেড়েছে ক্রীড়াবিষয়ক বইয়ের আগ্রহ ও চাহিদা। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রতিবছরই ক্রীড়াবিষয়ক নানা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। গল্প, কবিতা, উপন্যাসের পাশাপাশি ক্রীড়াবিষয়ক বইয়ের ক্রেতা-পাঠকও কম নয়। তবে মেলায় ক্রীড়াবিষয়ক বই খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। কারণ এ সম্পর্কিত প্রকাশনা তেমন বেশি নয়।

শুধু ক্রিকেট আর ফুটবল নয়, আমাদের গ্রামীণ খেলাগুলোও বেশ সমৃদ্ধ। দুঃখজনক হলেও সত্যি, সভ্যতার ক্রমবিকাশ ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার  ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা। খেলাকে জনপ্রিয় করতে হলে পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি এই মাধ্যমে লেখালেখিও বাড়ানো দরকার।

ক্রীড়া সাংবাদিক ও লেখক মোস্তফা মামুন বলেন, ‘পেশাগত দিক থেকে ক্রীড়া সাংবাদিকতা ও ক্রীড়াবিষয়ক লেখালেখি আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে এ সম্পর্কিত বই লেখা বেশ কঠিন ও শ্রমসাধ্য। এ ধারায় গবেষণামূলক লেখালেখি কম হওয়ার বড় কারণও এটি। অবশ্য তরুণ লেখক ও গবেষকদের অনেকেই ক্রীড়াবিষয়ক লেখালেখিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আশা করা যায়, এ ধারায় মানসম্মত বই ও প্রকাশনা বাড়বে।’  

মোস্তফা মামুন আরো বলেন, ‘প্রতিটি দেশে সফল ক্রীড়াবিদরা লেখালেখি করেন। তুলে ধরেন তাঁদের জীবন, সাফল্য ও ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতার বয়ান। আমাদের সফল ক্রীড়াবিদ আছেন অনেকেই। তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা লিখলে তরুণ প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের বইমেলায় ক্রীড়াবিষয়ক বই এসেছে হাতে গোনা কয়েকটি। অনন্যা প্রকাশনীর প্রকাশক মনিরুল হক বলেন, ‘ক্রীড়াবিষয়ক বইয়ের বেশ চাহিদা রয়েছে। তবে লেখকরা খেলাধুলার ওপর বই খুব কম লেখেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের সাবেক খেলোয়াড়রা এগিয়ে এলে প্রকাশনা বাড়বে।’

প্রকাশকরা জানান, ক্রীড়াবিষয়ক পুরনো তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণার অপ্রতুলতা আর সময় স্বল্পতাই ক্রীড়াবিষয়ক বই প্রকাশে অন্যতম অন্তরায়। পাশাপাশি ক্রীড়ার সমৃদ্ধ ইতিহাস মলাটবন্দি করতে, ক্রীড়াবিষয়ক লেখালেখিকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ফেডারেশনকেও এগিয়ে আসতে হবে।

গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত ক্রীড়াবিষয়ক চারটি বইয়ের তথ্য-পরিচিতি ছাপা হলো।

খেলার মাঠে মুক্তিযুদ্ধ : মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ক্রীড়াবিদ ও খেলোয়াড়রা। শরণার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহ, জনমত গঠন, বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তাঁরা নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। ভারতের বিভিন্ন স্থানে খেলেছেন ফুটবলাররা। বিশ্বরেকর্ড গড়ে তোলপাড় করেন সাঁতারুরা। একাত্তরে খেলার মাঠও হয়ে উঠেছিল মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য অংশ। মুক্তিযুদ্ধে ক্রীড়াবিদ ও খেলোয়াড়দের নিয়ে গবেষণামূলক বইটির লেখক দুলাল মাহমুদ। প্রকাশক বিশ্বসাহিত্য ভবন। দাম ১০০০ টাকা।

ক্রীড়াঙ্গনে বঙ্গবন্ধু : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু খেলাধুলা পছন্দ করতেন। ক্রীড়াকে তিনি বেশ অগ্রাধিকার দিতেন। ক্রীড়া নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছিল নানা স্বপ্ন ও উদ্যোগ। ইতিহাসনির্ভর বইটির লেখক শেখ মনিরুল ইসলাম আলমগীর। বইটিতে উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধুর জানা-অজানা নানা অধ্যায়। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন সাধনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা উঠে এসেছে বিশদভাবে। গ্রন্থটি ক্রীড়াঙ্গনসংশ্লিষ্টসহ সব বয়সী পাঠকের জন্য অপরিহার্য। প্রকাশক পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস লিমিটেড। দাম ৬৫০ টাকা।

শেখ কামাল : ক্রীড়াঙ্গনের ধূমকেতু : সাংবাদিক ও লেখক সনৎ বাবলার ইতিহাসনির্ভর গবেষণাগ্রন্থ।  শেখ কামালের কর্মময় জীবনের ছবিই চিত্রিত হয়েছে এই গ্রন্থে। তাঁর জীবন মাত্র ২৬ বছরের, তবে নানা রং-মাধুরীতে ভরপুর। ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে তিনি রেখে গেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। নিজেও যেমন খেলাধুলা করতেন, তেমনি খেলাধুলার প্রসারে কাজও করে গেছেন। আবাহনীসহ নানা ক্রীড়া সংগঠন ও ক্লাব গঠনে তাঁর ছিল অগ্রণী ভূমিকা। নিবিষ্ট গবেষকদের মতো লেখক বইটিতে তুলে ধরেছেন নানা অজানা তথ্য। বইটির প্রকাশক কথাপ্রকাশ। দাম ২০০ টাকা।

গ্রাম বাঙলার খেলা : কিশোর উপযোগী বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে দেশজ ও গ্রামীণ  নানা খেলার কথা। গ্রাম-মফস্বল কয়েক দশক আগেও ছিল খেলার জন্য বিখ্যাত। কালক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে নানা খেলা। গ্রামীণ খেলাকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে, গ্রামীণ খেলাকে জনপ্রিয় করতে, তরুণ প্রজন্মের কাছে খেলাকে তুলে ধরতে বইটি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। বইটির লেখক রোমিও হাবিব। প্রকাশক অনন্যা। দাম ১৭৫ টাকা।

হুমায়ুন আজাদ স্মরণে প্রতিবাদী সভা : বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদের ওপর মৌলবাদী চক্রের সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল অমর একুশে গ্রন্থমেলায় তাঁকে স্মরণ করা হয়েছে। ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মেলা থেকে বের হওয়ার পথে তিনি জঙ্গি হামলার শিকার হন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের সামনের খোলা চত্বরে লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভার শুরুতে তাঁর স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। আরো বক্তব্য দেন কবি কাজী রোজী, শিল্পী ফকির আলমগীর, শিশুসাহিত্যিক লুত্ফর রহমান রিটন, প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম ও হুমায়ুন আজাদের কন্যা মৌলি আজাদ। সভাপতিত্ব করেন প্রকাশক ওসমান গনি।

মেলায় তথ্যমন্ত্রী : ইমরান আকন্দের ‘বিপ্লবী নূর হোসেন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করতে গতকাল বইমেলায় এসেছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বাংলা একাডেমির পুকুরপারের মঞ্চে তিনি আরো দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। বইগুলো হলো— শিবুকান্তি দাসের ‘আমার বঙ্গবন্ধু আমার স্বাধীনতা’ এবং মোহাম্মদ হোসেনের ‘মৃত্তিকা থেকে আকাশ ছুঁয়েছে যে নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জীবন গড়ার জন্য এবং প্রত্যয়ী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে বইয়ের বিকল্প নেই। আমার রাজনীতিতে আসার পেছনেও বেশ কয়েকটি বইয়ের গুরুত্ব রয়েছে।’

নতুন বই : গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ১৫৫টি। মেলায় এ পর্যন্ত সব মিলে নতুন বই এসেছে চার হাজার ৩৯৪টি। এর মধ্যে কবিতার বই এসেছে এক হাজার ৩৯৯টি, উপন্যাস ৬৭৬, গল্প ৫৬৩, প্রবন্ধ ২৪৬, ছড়া ১০৪, শিশুতোষ ১৮৪, জীবনী ১৩১, মুক্তিযুদ্ধ ১৪১, বঙ্গবন্ধু ১২৬ ও অনুবাদ ৫১টি।

মেলামঞ্চে অনুষ্ঠান : বইমেলার মূল মঞ্চে গতকাল অনুষ্ঠিত হয় শামসুজ্জামান খান সম্পাদিত ‘বঙ্গবন্ধু নানা বর্ণে নানা রেখায়’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহমাদ মাযহার। আলোচনায় অংশ নেন সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, এনামুল করিম নির্ঝর ও আমীরুল ইসলাম। বক্তব্য দেন গ্রন্থের সম্পাদক শামসুজ্জামান খান। সভাপতিত্ব করেন মাহফুজা খানম।

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি রবীন্দ্র গোপ, বদরুল হায়দার, তপন বাগচী ও খালেদ উদ্-দীন। আবৃত্তি করেন সামিউল ইসলাম পোলক ও সংগীতা চৌধুরী। পুঁথি পাঠ করেন জালাল খান ইউসুফী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল যাত্রাপালা ‘রক্তে রাঙানো বর্ণমালা’। গতকাল লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন রফিকুর রশীদ, সালমা বাণী, মতিন্দ্র মানখিন ও নওশাদ জামিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা