kalerkantho

শুক্রবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৭ সফর ১৪৪২

সিএএবিরোধী বিক্ষোভের ছবি পোস্ট

বাংলাদেশি ছাত্রীকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশি ছাত্রীকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এক বাংলাদেশি ছাত্রীকে ১৫ দিনের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ‘সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশটিতে সহিংসতা উসকে দেওয়া নতুন নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (সিএএ) বিরোধিতা করা আন্দোলনের ছবি সম্প্রতি ফেসবুকে পোস্ট করার কারণেই ওই ছাত্রীকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই ছাত্রীর নাম আফসারা আনিকা মিম। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তিনি ২০১৮ সালে বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কলাভবনের চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইনে পড়তে পশ্চিবঙ্গে যান। গত ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একদল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সঙ্গে সিএএবিরোধী বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ মিছিলে তিনি অংশ নিয়েছিলেন।

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, সিএএবিরোধী বিক্ষোভের কয়েকটি ছবি সম্প্রতি ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকেই আফসারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ট্রলের’ শিকার হচ্ছেন। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদেশি নিবন্ধকের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে আফসারাকে নোটিশ পাঠিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়, স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে ভারতে পড়তে এসে ‘সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে’ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী আফসারা আনিকা মিম তাঁর ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন।

গত বুধবার নোটিশটি হাতে পেয়ে আফসারা শিক্ষা জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ২০ বছরের এই তরুণী বলেন, ‘বিভাগ থেকে চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চরম ক্ষতির এক ঘোর অনুভূতি আমাকে গ্রাস করেছে। শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন থেকে বিশ্বভারতীতে পড়তে আমি ভারতে এসেছিলাম। আমি জানি না এখন আমার কী হবে।’

তবে কী অপরাধে তাঁকে এমন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, তা এখনও বুঝতে পারছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কৌতুহলের বশে বন্ধুদের অংশ নেওয়া প্রতিবাদ মিছিলের কয়েকটা ছবি পোস্ট করেছিলাম। কিন্তু যখন আমি দেখলাম বিশেষ একদল লোক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে নিয়ে ট্রল করছে, সাথে সাথেই আমি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেছি। সত্যিই আমি কোনো দোষ করিনি।’

আফসারার এক বন্ধু  বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওই পোস্টে অন্তত আড়াইশ জন তাঁকে ‘অ্যান্টি ন্যাশনাল’ তকমা দিয়েছে।

বিশ্বভারতীর এক ছাত্র বলেন, ‘যদি বিদেশি ছাত্ররা প্রতিবাদ করতে না পারে বা তাঁর বন্ধুদের আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য না করতে পারে তাহলে আমরা কি একটি গণতান্ত্রিক দেশে বাস করছি?’

এক কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করে টেলিগ্রাফ বলছে, কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশন আফসারাকে ভারত ছাড়ার নোটিস দেওয়ার বিষয়ে কিছু জানে না। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা জানি তাকে নজরে রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঢাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এসব ক্ষেত্রে আমাদের খুব একটা করার থাকে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একটি অংশের সন্দেহ, আফসারার বিষয়ে কেউ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছে।

আফসারাকে কেন্দ্রীয় সরকার দুটি ই-মেইল পাঠিয়েছে বলে এক কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পাঠানো প্রথম মেইলে তাঁকে ১৯ ফেব্রুয়ারি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বলা হয়।  পরে ২০ ফেব্রুয়ারি আরেক মেইলে তাঁকে ২৪ ফেব্রুয়ারি কার্যালয়ে তলব করা হয়।

আফসারা বলেন, ‘আমি নিয়মিত মেইল খুলে দেখি না। আমি চিঠি পাওয়ার পর মেইল খুলে দেখেছি।’

এক শিক্ষক বলেন, ‘ওই ছাত্রীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়নি বা এমনকি কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। নোটিসের তারিখ দেওয়া আছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। এর অর্থ হলো মেয়েটিকে যখন দেখা করতে বলা হয়েছে তখনই সেটি প্রস্তুত করা হয়েছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা