kalerkantho

শনিবার। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৫ ডিসেম্বর ২০২০। ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে ভারতীয় হাইকমিশনার

মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছে ভারত

মেহেদী হাসান, কক্সবাজার থেকে   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছে ভারত

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে ভারত মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে ভারতের পক্ষ থেকে পঞ্চম দফা ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান। ভারতের হাইকমিশনার যখন কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছিলেন তখন নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করছিলেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট।

এদিকে গতকাল কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে ভারতের ত্রাণ সহায়তা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন, সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাশার কথাও ভারতীয় হাইকমিশনারকে জানান। প্রতিমন্ত্রী  বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলে দিয়েছেন যে আজকের দিনে যেন আমি আবার ভারতীয় হাইকমিশনারকে বলি, তিনি যেন আমাদের পাশে থাকেন, আমরা যেন বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের ফেরত পাঠাতে পারি। আমি আশা করব, ১৯৭১ সাল থেকে আমরা ভারত থেকে যে সাহায্য-সহযোগিতা পাচ্ছি, যে বন্ধুসুলভ সাহায্য ও সহযোগিতা করে যাচ্ছে ভারত, তা অব্যাহত থাকবে এবং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের নীতি হলো আমরা দ্রুত প্রত্যাবাসন চাই। আমাদের প্রতিবেশী দেশ, আমাদের বন্ধু ভারতের সরকার যদি আমাদের পাশে থাকে, আমাদের সমর্থন দেয় এবং তাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকে, আমরা খুব দ্রুত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সফল হব।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গারা তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে চায়। আমরা চাই, যত দ্রুত সম্ভব তারা তাদের ভূমিতে ফিরে যাক।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে আমরা যে সহযোগিতা ভারত থেকে পেয়েছিলাম, এখনো আমরা ভারত থেকে সে সহযোগিতা আশা করি। আমরা সেই সহযোগিতা দাবি করি। আশা করি, হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস আমাদের এ বার্তা তাঁদের সরকারের কাছে পৌঁছে দেবেন এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবটি বিবেচনা করে দ্রুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আপনারা ব্যবস্থা নেবেন।’

অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গাদের প্রতি সমবেদনা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাশে আছে। যত দিন না প্রত্যাবাসন হয় তত দিন আপনারা সব সুবিধা পাবেন।

এদিকে ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভারতের কাছে অগ্রাধিকার। ভারতের কাছে প্রতিবেশীই প্রথম। আর প্রতিবেশীদের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম।

তিনি বলেন, ভারত সব সময় বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জে পাশে আছে। রাখাইন রাজ্যের বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রতি ভারতের সমর্থন আছে। ফিরে যাওয়া বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের জন্য ভারত মিয়ানমারের রাখাইনে প্রিফ্যাব্রিকেটেড বাড়ি নির্মাণ করেছে।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি ভারতের ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের সহযোগিতার প্রশংসা করছে ভারত। এই শরণার্থীরা বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল চাপ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে ভারত বাংলাদেশের পাশে আছে।

গতকাল ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল এবং শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার বক্তব্য দেন। ত্রাণ সহায়তার পঞ্চম চালানে ভারত পেডালযুক্ত এক হাজার সেলাই মেশিন, ৩২টি অফিস তাঁবু, ৩২টি উদ্ধার সরঞ্জাম এবং ৯৯টি পারিবারিক তাঁবু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করেছে।

 

 

মন্তব্য