kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচন

দুই দলেই জয়ে বাধা ‘দ্বন্দ্বের কাঁটা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই দলেই জয়ে বাধা ‘দ্বন্দ্বের কাঁটা’

বড় দুই দলের জন্যই একই সমীকরণ! ‘দ্বন্দ্বের কাঁটা’ উপড়ে নিতে পারলেই মিলবে জয়ের দেখা। তাই সেয়ানে সেয়ানে লড়াইয়ের আভাস মিলছে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের উপনির্বাচনে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বড় দুই দলেই ঘরোয়া বিরোধ থাকায় জয়ের ব্যাপারে কেউই নিশ্চিত হতে পারছে না। নেতাকর্মীরা মনে করছেন বড় দুই দলের প্রার্থীই নতুন, সে কারণে তাঁদের আগে দলীয় আগুন নেভাতে হবে। তা না হলে ভরাডুবি নিশ্চিত।

বেশ আগেভাগেই বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সদ্যঃপ্রয়াত সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মান্নানের সহধর্মিণী ও সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান। গত সোমবার দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আহসানুল তৈয়ব জাকির। আগামী ২৯ মার্চ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গত ১৮ জানুয়ারি বগুড়া-১ আসনের টানা তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান মারা যান। পরে আসনটি শূন্য হলে ওই আসনে দল থেকে মনোনয়ন পেতে অনেক নেতাকর্মী দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। উভয় দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলীয় প্রার্থীর জন্য কাজ করার ঘোষণা দিলেও ভেতরে ভেতরে দ্বন্দ্বের বিষয়টি স্পষ্ট। উভয় দলের অনেক নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, প্রার্থী ঘোষণার ক্ষেত্রে ত্যাগী নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। তৃণমূলের মতামতকেও উপেক্ষা করা হয়েছে।

সারিয়াকান্দিতে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট পড়েছিল এক লাখ ৪৭ হাজার। কিন্তু গত ১৮ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকায় ভোট পড়ে মাত্র ২১ হাজার। অর্থাৎ নৌকায় এক লাখ ২৬ হাজার ভোট কম পড়ে।

সারিয়াকান্দির রাজনীতিবিদ মুনজিল আলী সরকার টানা ৩৯ বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। মুনজিল আলী সরকার বলেন, ‘এলাকার কোনো বিষয়েই সাহাদারা মান্নান তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন না। এমনকি এবার মনোনয়ন পেয়েও তিনি মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এখানে দলীয় কোন্দল অনেকটাই স্পষ্ট। তিনি কাদের নিয়ে কিভাবে কাজ করবেন, সেটি তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’

এদিকে বগুড়া-১ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা শোচনীয়। দীর্ঘদিন ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে দুই উপজেলা। এ ছাড়া রয়েছে দলের মধ্যে একাধিক গ্রুপ। এবারের উপনির্বাচনে আগের প্রার্থীরাও পিছুটান দিয়েছেন। ২০০৮ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচন করেন শোকরানা। তিনি পাঁচ হাজার ভোটে পরাজিত হওয়ার পর দুই উপজেলায় দলের হাল ধরেন। দলের পেছনে খরচও করেন বিপুল টাকা। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনে তাঁকে মনোনয়ন না দিয়ে দেওয়া হয় সাবেক সংসদ সদস্য কাজী রফিককে। গুঞ্জন রয়েছে নির্বাচনের সময়ই লন্ডনে থাকা তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। এ কারণে তিনি নির্বাচনের পর দল থেকে পদত্যাগ করে নিজেকে গুটিয়ে নেন। তাঁর ছোট ভাই এরফানুর রহমান রেন্টু সারিয়াকান্দি বিএনপির সাবেক সভাপতি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ আসনের একাধিক বিএনপি নেতাকর্মী জানান, নানা ভাগে বিভক্ত বিএনপি এখন ‘দুর্বল বাঘ’। কোন্দল না মিটিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে ধানের শীষের প্রার্থী আহসানুল তৈয়ব জাকির বলেন, ‘জনগণের ভোটের মাধ্যমে নিজ দলকে এ আসনটি পুনরায় উপহার দেব। এ ব্যাপারে আমি যথেষ্ট আশাবাদী।’

অন্যদিকে নৌকার মাঝি সাহাদারা মান্নান বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বিভেদ ভুলে সবাই কাজ করবে। এখানে নৌকা বিজয়ী হবে।’

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ দিনে চারজন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের সাহাদারা মান্নান, বিএনপির আহসানুল তৈয়ব জাকির, জাতীয় পার্টির অধ্যক্ষ মোকসেদুল আলম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজুর রহমান। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে আগামী রবিবার। মনোনয়ন নিয়ে আপিল করা যাবে আগামী সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ৮ মার্চ। বগুড়া-১ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ আট হাজার ৯০২ জন। এর মধ্যে সারিয়াকান্দির ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৬৭ হাজার ৭৮২ এবং সোনাতলায় এক লাখ ৪১ হাজার ১২০।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা