kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

পেঁয়াজ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলছে ভারত

বেড়েছে জোগান কমছে দাম

রফিকুল ইসলাম   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বেড়েছে জোগান কমছে দাম

১৫১ দিন পর পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এ সংবাদে দেশের বাজারগুলোতে বেড়েছে পেঁয়াজের জোগান। পাইকারি বাজারে কমতে শুরু করেছে দামও। রাজধানীর আড়তগুলোতে দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ২০ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম আগের দিনের মতো থাকলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সেটাও কমবে—এমনটাই বলছেন ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে পাইকারি বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

উত্পাদন কম হওয়ায় গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। নিজেদের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় তারা।

এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের কারণে রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির খাদ্যমন্ত্রী রাম বিলাস পাসোয়ান টুইট বার্তায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। গত বুধবার করা ওই টুইটে পাসোয়ান বলেন, যেহেতু পেঁয়াজের বাজার এখন স্থিতিশীল, ফলনও হয়েছে বাম্পার, তাই সরকার রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী মার্চে ভারতীয় কৃষকরা ক্ষেত থেকে ৪০ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ তুলবে। গত বছর এই পরিমাণ ছিল ২৮ লাখ ৪০ হাজার টন।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বেশির ভাগ খুচরা বাজারে এখন পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ রুপি। বাম্পার ফলনের কারণে দাম আরো কমতে পারে। এ সময় রপ্তানি করলে কৃষকরা ভালো দাম পাবে।

গত সেপ্টেম্বরে ভারত রপ্তানি বন্ধ করলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দর হু হু করে বাড়তে থাকে। ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজির পেঁয়াজের দাম ২৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। বেসামাল বাজার স্থিতিশীল করতে সরকার পেঁয়াজ আমদানিতে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু করে। কিন্তু পেঁয়াজের অগ্নিমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এখনো প্রতি কেজি পেঁয়াজ কমপক্ষে ১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, আগের বছরের চেয়ে বা এক বছর ব্যবধানে দেশে পেঁয়াজের দাম এখন ২৭৭ শতাংশ বেশি। রপ্তানির বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্তের পর এবার সার্কুলার জারি হলে ভারত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পেঁয়াজ রপ্তানি শুরু হবে।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজ আসা শুরু হলে দাম কমে যাবে। এরই মধ্যে দেশের ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে তোড়জোড় শুরু করেছেন। ওই দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন কেউ কেউ। সরকার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দিলেই দেশের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ আসা শুরু হবে।

শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজার দুটিতে পেঁয়াজের জোগান বেড়েছে। প্রতিটি আড়ত পেঁয়াজে ভরপুর। দামও কমতির দিকে। অন্তত পাঁচজন ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, আড়তে পেঁয়াজের জোগান বেড়েছে। মোকামের ব্যবসায়ীরাও এখন পেঁয়াজ নিতে তোড়জোড় করছেন। ভারত থেকে আসা শুরু হলে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে এটা ভেবে উত্পাদকদরা পেঁয়াজ বিক্রি করে দিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন। দেশেও পেঁয়াজের উত্পাদন ভালো রয়েছে। এখন পরিপক্ব পেঁয়াজ বাজারে আসছে। যদিও এর আগে বাড়তি দামের আশায় অপরিপক্ব দেশি পেঁয়াজে ভরে গিয়েছিল বাজার।

সরেজমিনে দেখা যায়, কারওয়ান বাজারে একপাল্লা (পাঁচ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। মানভেদে কোথাও কোথাও ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকাও চাওয়া হচ্ছে। আমদানি করা পেঁয়াজের মধ্যে মিয়ানমারের পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়তি থাকলেও মিসর ও চীনের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি।

গতকাল শ্যামবাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৬০-৬৫ টাকা। কেউ কেউ ৭০ টাকা করেও পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। যদিও আগের দিন বুধবার কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০-১২০ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দামও ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমলেও খুচরায় তেমন প্রভাব নেই। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার ও গুদারাঘাট খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভালোমানের প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম পড়ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের দিন পাইকারি বাজার থেকে যে পেঁয়াজ কেনা হয়েছে, সেটিই এখন বিক্রি চলছে। নতুন করে আড়ত থেকে পেঁয়াজ আনা হয়নি। বাড়তি দামে কেনা তাই দামও বেশি। পাইকারিতে কম দামে কিনতে পারলে কম দামে বিক্রি হবে।

কারওয়ান বাজারের একটি আড়তে বসে পেঁয়াজ বিক্রি করছিলেন সাজ্জাদ হোসেন। গতকাল তিনি বলেন, ‘মোকাম থেকে পেঁয়াজের জোগান আজ বেশি। ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি শুরু হলে দেশের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দামও কমে যাবে। গত দিনের চেয়ে প্রতি কেজিতে ১০-১৫ টাকা করে কমেছে। দেশি পেঁয়াজ এলে দাম আরো কমবে।’

শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মাজেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন বাজারে দেশি পেঁয়াজের জোগান ভালো। বাইরে থেকে আনা পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ এলে ভালো হবে। ভোক্তারা কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা