kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

প্রকাশকের মেলা

শিশুদের বই সুসম্পাদিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি

কামরুজ্জামান কাজল

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশুদের বই সুসম্পাদিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি

বইমেলা মানে বাঙালির এক অনন্য উৎসব। প্রাণের এই মেলায় পাঠক, লেখক আর প্রকাশকের আন্তরিক সমাবেশ ঘটে। নতুন লেখকের সঙ্গে পাঠক ও প্রকাশকের পরিচয় হয়। পাঠক কী চান, প্রতিষ্ঠিত লেখকরা কী লিখছেন—এসব জানার সুযোগ হয় নতুন লেখক ও প্রকাশকের। তাঁরা নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন পরের বছরের জন্য।

বইমেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসেন পাঠক-ক্রেতা। আর যাঁরা লেখালেখির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের কাছে তো বইমেলা এক তীর্থস্থান। সময় করে এক দিনের জন্য হলেও দূরের লেখকরাও মেলায় আসেন।

বইমেলার সব দিকই ইতিবাচক। এ বছর মেলার পরিসর বাড়িয়ে চমৎকার পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। আগের মতোই শিশুদের জন্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে আলাদা স্থান। অনেক প্রকাশক শিশুদের জন্য বই প্রকাশ করেন। তবে অনেক বই সুসম্পাদিত নয়। বিদেশি রঙিন বইয়ের ছবি স্ক্যান করে অনেক বইয়ে ব্যবহার করা হয়। এতে শিশুমনে বিদেশি সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটে। আবার কোন ধরনের বই বা গল্প কোন বয়সের শিশুর হাতে তুলে দেওয়া যাবে তারও বাছবিচার নেই। ফলে অনেক সময় শিশুদের মনোজগৎ সঠিকভাবে বিকাশ লাভ করে না। আর বানান ভুলের কথা বলতে গেলে বলে শেষ করা যাবে না। বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি অনুসরণ করে সবাইকে একই বানানের বই শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত। তা না হলে শিশুদের মনে বানান নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবে। প্রতিটি বইয়ের লেখক, সম্পাদক এবং প্রকাশকের এ কথা মনে রাখা জরুরি।

আমরা বেশির ভাগ বই প্রকাশ করি মেলাকে কেন্দ্র করে। এর ভালো এবং খারাপ—দুটি দিকই আছে। মেলায় বই প্রকাশ হবে, এ উত্তেজনায় লেখকরা বই লেখেন। বই কিনতে পাঠক আয়োজন করে মেলায় আসেন। পুরো বছর কিন্তু বইয়ের জন্য এই ভালোবাসা দেখা যায় না। আমাদের এখন উচিত, বছরজুড়ে বইয়ের প্রতি পাঠকের ভালোবাসা সৃষ্টি করা, বই পড়াকে আনন্দময় করা, অভ্যাসে পরিণত করা। পাঠক যদি বছরজুড়ে বই কেনেন, প্রকাশকরাও বছরজুড়ে বই প্রকাশ করবেন। এভাবেই কেবল প্রকাশনার কাজটি লাভজনক শিল্পে পরিণত হতে পারে। বই পুরো বছর আমাদের সবার সঙ্গী হোক—এটাই আমাদের কামনা।

চন্দ্রাবতী একাডেমি জন্মলগ্ন থেকে মানসম্মত বই প্রকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটা কেবল সুন্দর ছাপা ও বাঁধাইয়ের বেলায় নয়, বইয়ের মান নির্ধারণ, ভালোভাবে সম্পাদনা, বানান রীতি, প্রতিটি পর্যায়ে আমরা যত্নশীল। এ ছাড়া আমরা শিশু এবং শিশু সাহিত্যিকদের নিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠান করি। আমাদের প্রতিবছরের শিশু সাহিত্য উৎসবে এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণিল উৎসবের আয়োজন করে আমরা বছরটিকে শিশুদের জন্য স্বপ্নময় করে রাখতে চাই। আমরা চাই, মানসম্মত প্রকাশনার অন্য নাম হয়ে উঠুক চন্দ্রাবতী একাডেমি। শিশু সাহিত্য প্রকাশনার ক্ষেত্রে আমরা নেতৃত্ব দিতে চাই।

লেখক : প্রকাশক, চন্দ্রাবতী একাডেমি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা