kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

‘মাটির নিচেও থাকতে পারে এনু-রূপনের টাকা’

লালমোহন সাহা স্ট্রিটেই তাঁদের সাত বাড়ি প্রয়োজনে আবারও রিমান্ডে নেওয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘মাটির নিচেও থাকতে পারে এনু-রূপনের টাকা’

গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক এনু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপন ভূঁইয়ার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনা। পুরান ঢাকায় তাঁরা যেখানেই বাড়ি পান সেটিই কিনে নেন। দ্বিগুণ দাম হলেও সমস্যা নেই। শুধু ওয়ারী থানার লাল মোহন সাহা স্ট্রিটেই রয়েছে তাঁদের সাতটি বাড়ি, যার মধ্যে একটি বাড়ি নিজেরা নির্মাণ করেছেন। বাকি ছয়টি পুরনো বাড়ি কিনেছেন।

গতকাল বুধবার তাঁদের বাড়ির খোঁজ নিতে গেলে এলাকাবাসী জানায়, তাদের জানা মতে লাল মোহন সাহা স্ট্রিটেই রয়েছে তাঁদের সাত-আটটি বাড়ি। সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, তারা দুই ভাইয়ের সাতটি বাড়ির সন্ধান পেয়েছে। বাড়িগুলোর হোল্ডিং নম্বর হচ্ছে ১০৫, ১০৬, ১০৩, ১১৬, ১১২, ১২০ ও ১১৯/১ নম্বর লাল মোহন সাহা স্ট্রিট।

গত সোমবার রাতে র‌্যাব ৩-এর সদস্যরা গোয়েন্দা তথ্যর ভিত্তিতে ১১৯/১ নম্বর বাড়ির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে নগদ সাড়ে ২৬ কোটি টাকাসহ আরো সম্পদ উদ্ধার করেন। ওই বাড়ির পাশেই তাঁদের মালিকানাধীন লাল মোহন সাহা স্ট্রিটের ১০৬ নম্বর ১০ তলা বাড়ি। এই বাড়ি তাঁরা জমকালোভাবে তৈরির চেষ্টা করেছেন। গেট থেকে শুরু করে ভেতর পর্যন্ত নানা কারুকার্য রয়েছে।

এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, এনু-রূপনের এত সম্পদ রয়েছে সেটা প্রথমে ভাবা  যায়নি। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় টাকার গুদাম পাওয়া যাওয়ার কারণে ধারণা করা হচ্ছে তাঁদের আরো নগদ টাকা রয়েছে। তাঁদের সম্পদ মাটির নিচেও থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ১০ তলা বাড়িটি এনু-রূপনের রংমহল হিসেবে বানানো হয়েছিল। এ বাড়িতেই থাকত তাঁদের ক্যাডাররা। এ বাড়িতে রয়েছে সোনালি রঙের টয়লেট। যেগুলো দেখতে সোনা দিয়ে বানানো হয়েছে এমন মনে হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য ছিল এনু-রূপন সোনার টয়লেট ব্যবহার করেন। পরে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান সেগুলো আসলে সোনার নয়। তবে সোনালি রঙের দামি টয়লেট।

এনু-রূপনদের বাবার ছিল টিনশেড বাড়ি। সেই বাড়িতেই বড় হয়েছে তাঁর সাত ছেলে। সেখান থেকে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো কারবারে যোগ দিয়ে এনু-রূপন পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ। সেই থেকে শুধু তাঁদের দুজনের সম্পদ নয়, তাঁদের পরিবারের অন্যরাও বিত্তশালী হয়ে ওঠেন। সাত ভাইয়েরই রয়েছে পুরান ঢাকায় নিজস্ব একাধিক বাড়ি। এক ভাইয়ের স্ত্রী বর্তমানে এনু-রূপনের বাসা ভাড়াসহ সম্পদ দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের ভাইদের রয়েছে ১০-১২ জন ছেলে। দয়াগঞ্জের পাশে বিএনপি একটি অফিস দখল করে আওয়ামী লীগের অফিস বানিয়েছিলেন এনু-রূপন। সেটিতে প্রায় দিনই তাঁরা গাড়িবহর নিয়ে বিকেলের দিকে হাজির হতেন। গতকাল গিয়ে দেখা গেছে, সেই কার্যালয়টি এখন বন্ধ। স্থানীয়রা জানায়, এনু-রূপন গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ অফিসটি বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে এনু-রূপনের বিরুদ্ধে তিনটি মানি লন্ডারিং মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে তারা। সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় তাদের আরো টাকার সন্ধান মেলায় সিআইডি আবারও তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

জানতে চাইলে সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রয়োজন হলে আবারও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এনু-রূপন টাকা ব্যাংকে না রেখে ভল্টের ভেতর ভরে বাসায় রাখতেন। তাঁদের প্রতিদিন ক্যাসিনো থেকে পাঁচ-দশ লাখ টাকা আয় হওয়ার কারণে সেই টাকা রাখার জায়গা পেতেন না। ফলে কয়েক কোটি টাকা হলেই তাঁরা একটি বাড়ি কেনার দিকে ঝুঁকে যেতেন।

এলাকার এক বাসিন্দা জানান, লাল মোহন সাহা স্ট্রিটের যে বাড়িটির নিচতলা থেকে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা পাওয়া গেছে সেই বাড়ি তিন বছর আগে কিনেছেন তাঁরা। বাড়িটির মালিক তিন কোটি টাকা পেলেই বিক্রি করে দিতেন। কিন্তু এনু-রূপন বাড়িটি কেনেন চার কোটি টাকা দিয়ে। তারা জমি ও পুরনো বাড়ি কিনতেই বেশি পছন্দ করতেন। গতকাল দেখা যায়, অনেক মানুষ এসেছে বাড়িটি দেখতে।

অন্যদিকে গতকাল বিকেলে এনু-রূপনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা টাকা, স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রা ওয়ারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা