kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন

চট্টগ্রামকে স্বপ্নের নগর হিসেবে গড়তে চাই

রেজাউল করিম, আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রামকে স্বপ্নের নগর হিসেবে গড়তে চাই

বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও পরিকল্পিত স্বপ্নের নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চান আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী। আওয়ামী লীগ মনোনীত এই প্রার্থী বলেছেন, ‘৫২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কোনো দিন অর্থ-বিত্তের পেছনে ছুটিনি। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরে ভালো, আদর্শবান ও সৎ মানুষগুলো এগিয়ে আসুক—এটাই ছিল আমার প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও নেত্রীর আস্থা শতভাগ রক্ষা করব।’

নৌকা প্রতীকের এই মেয়র পদপ্রার্থী গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটে নিজ বাসভবনে একান্ত  সাক্ষাৎকারে কালের কণ্ঠকে এসব কথা বলেন। ১৯৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতির মাঠে যাত্রা শুরু করা এম রেজাউল করিম চৌধুরী বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

রেজাউল করিম বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার এই চট্টগ্রাম। বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত এ নগরে বিভিন্ন কারণে সৌন্দর্যহানি হচ্ছে। পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি কর্ণফুলী নদী দখল ও দূষণের কবল থেকে বাঁচাতে হবে। আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হলে চট্টগ্রামকে সুন্দর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত, জলাবদ্ধতামুক্ত, যানজটমুক্ত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।

এক প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করিম বলেন, ‘দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চট্টগ্রামের আনাচকানাচে এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে আমি যাইনি। সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। আমার ওপর চট্টগ্রামবাসীর অগাধ আস্থা ও ভরসা রয়েছে। তারা মনে করছে, আমি বিজয়ী হলে চট্টগ্রাম সুন্দর, বাসযোগ্য ও পরিকল্পিত আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে উঠবে।’

বিজয়ী হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোন কাজগুলো করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে এই মেয়র পদপ্রার্থী বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নের দাবিতে ১৯৮৩ সালে গঠিত চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ ও চাক্তাই খাল খনন সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও কমিটির চেয়ারম্যান ছিলাম। জলাবদ্ধতা এ নগরের প্রধান সমস্যা। আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই এই খাতে এগিয়ে এসে আট হাজার কোটি টাকার একটি মেগাপ্রকল্প দিয়েছেন। চলমান প্রকল্পটি যাতে যথাসময়ে শেষ হয় সে লক্ষ্যে কাজ করব। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নতুন একটি খাল খননের প্রকল্প দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেটিও যাতে দ্রুত শেষ হয় তা তদারকি করব।’

আওয়ামী লীগের এই মেয়র প্রার্থী বলেন, জলাবদ্ধতার পাশাপাশি নগরে আরো নানা সমস্যা রয়েছে। যানজট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেব। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলো দূরীকরণে কাজ করব। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক দূরীকরণে তৎপর হব।

নির্বাচনের মাঠে নিজ দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা পাচ্ছেন কি না জানতে চাইলে রেজাউল করিম বলেন, ‘সবার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। সংগঠনে কোনো বিরোধ নেই। বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে নেতৃত্বে প্রতিযোগিতা থাকবে, থাকাটা স্বাভাবিক। যাঁরা মনোনয়নপত্র নিয়েছেন তাঁরা সবাই যোগ্য। আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে আমাকে দল থেকে প্রার্থী মনোনীত করার পর সবাই নৌকা প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। সবার লক্ষ্য নৌকাকে বিজয়ী করে চট্টগ্রামের মেয়র পদটি নেত্রীকে উপহার দেওয়া।’

এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করব। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে চট্টগ্রাম লালদীঘি মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় আমাদের নেত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজ কাঁধে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একের পর এক মেগাপ্রকল্পসহ গত ১১ বছরে চট্টগ্রামে যে উন্নয়নকাজ করেছেন তা অতীতে হয়নি। আগামী চসিক নির্বাচনে জনগণ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পক্ষে রায় দেবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা