kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

বেবিচকে শুদ্ধি অভিযান

চুনোপুঁটিদের পর এবার রাঘব বোয়ালের পালা

প্রধান প্রকৌশলী বাধ্যতামূলক অবসরে

মাসুদ রুমী   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুনোপুঁটিদের পর এবার রাঘব বোয়ালের পালা

ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তা এইচ এম রাশেদ সরকার। বাণিজ্যিক পাইলট পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য একজনের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের দায়ে বেবিচকের এই জুনিয়র লাইসেন্স ইন্সপেক্টর অ্যান্ড কনসালট্যান্টকে গত ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার করা হয়।

রানওয়ে সম্প্রসারণসহ ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে টার্মিনাল ভবন নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির দায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আমিনুল হাসিবকে বরখাস্ত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য চাহিদা মোতাবেক অর্থ যথাসময়ে জমা না দেওয়ায় সরকারের কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকার অপচয় হচ্ছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশের আকাশপথের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থায় এমন ঘুষ-দুর্নীতির ঘটনা নতুন নয়। এসবের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামীকে মঙ্গলবার বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। তাঁর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। নতুন প্রধান প্রকৌশলী নিযুক্ত করা হয়েছে মো. আব্দুল মালেককে।

বেবিচকে বিভিন্ন উন্নয়নকাজে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামীসহ ছয়জনকে গত ২০ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তলব করা অন্যরা হলেন বেবিচকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম মাকসুদুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম, মো. শহীদুজ্জামান ও মোকাব্বর আলী এবং উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী বায়েজীদ আহমেদ। সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী দুদকে হাজির হননি।

সুধেন্দু বিকাশকে তলব করে দেওয়া নোটিশে অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়, ‘বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী ও অন্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাঁকে দুদকে আসতে বলা হয়েছে।’

দুদকের নোটিশে বলা হয়, ‘সিভিল এভিয়েশনে মেইনটেন্যান্স, কনস্ট্রাকশন, কেনাকাটা ও ফান্ড ম্যানেজমেন্টে শত শত কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধভাবে বাড়ি-গাড়িসহ অঢেল সম্পদ অর্জন করেছেন। বেবিচকে কী কী প্রকল্পের কাজ হয়েছে এর তালিকা, গত দুই অর্থবছরে কেনাকাটা খাতে ব্যয়ের বিবরণ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সব ধরনের নিরীক্ষা প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুদকে হাজির থাকতে বলা হয়।’

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামীকে এর আগে গত বছরের ১৯ অক্টোবর জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। ওই সময় অভিযোগ ছিল, ৯টি প্রতিষ্ঠান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলীকে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ দিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের। এ ছাড়া ঢাকার হযরত শাহজালাল, ওসমানী, শাহ আমানত, শাহ মখদুম, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। একাধিকবার দুদক তাঁকে তলব করলেও সাড়া দেননি তিনি। অভিযোগের ব্যাপারে সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামীর বক্তব্য জানতে চেয়েও পাওয়া যায়নি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক বলেন, ‘প্রধান প্রকৌশলীকে অবসর দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয়গুলো দুদক দেখবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা