kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

সালমান শাহ হত্যা মামলা

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন জমা

আদালতে যাবে পরিবার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন জমা

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তৃতীয় দফা তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গতকাল মঙ্গলবার এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এই তদন্ত প্রতিবেদন সঠিক হয়নি উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে আদালতে যাবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।

৬০০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম। আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখার ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসান ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আগামী ৩০ মার্চ নির্ধারিত তারিখে প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ মার্চ দিন ধার্য করা হয়।

পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি; তিনি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন। চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ‘অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা’সহ পাঁচটি কারণে আত্মহত্যার এই ঘটনা ঘটেছিল।

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার গত সোমবার বলেন, সংশ্লিষ্ট ৪৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। আর দশজন সাক্ষীর সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হয় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায়। পাশাপাশি ঘটনাসংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করা হয়। এসব বিষয় পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ পারিবারিক কলহের জের ধরে আত্মহত্যা করেছেন। হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।’

পিবিআইয়ের এই প্রতিবেদনের ব্যাপারে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আমি এই তদন্ত প্রতিবেদন মেনে নিতে পারছি না। সালমান যদি আত্মহত্যা করে, এর জন্যও স্ত্রী সামিরা ও নায়িকা শাবনূর দায়ী।’ লন্ডনে অবস্থানরত নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আমি আইনজীবীদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’ সালমানের মামা আলমগীর কুমকুম বলেন, ‘এই তদন্তও সঠিক হয়নি। এর বিরুদ্ধে আমরা আদালতে যাব।’

রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় প্রথমে এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ এনে পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি। এই অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। পরে ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়।

তবে সিআইডির এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত।

দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর এই মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে নারাজির আবেদন করেন।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা