kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

বসুন্ধরায় জাপান সড়কের উদ্বোধন

আবাসন খাতে জাপানকে বিনিয়োগের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবাসন খাতে জাপানকে বিনিয়োগের আহ্বান

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ফিতা কেটে জাপান স্ট্রিট-এর উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি হতো। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান সাদাত সোবহান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং জেমস্ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী জুয়েল। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশের আবাসন খাতে জাপানকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গোষ্ঠি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। তিনি বলেন, দেশে মধ্যবিত্ত মানুষের বিপুল ফ্ল্যাটের চাহিদা রয়েছে। কম সুদে জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) এই খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে। এজন্য সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জাপান স্ট্রিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো। অন্যদের মধ্যে ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান সাদাত সোবহান, জেমস্ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও জেসিএক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরী জুয়েল।

আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘আমি জাপানি বিনিয়োগকারীদের আশ্বাস দিচ্ছি আমরা আপনাদের দীর্ঘ মেয়াদে জমি দেবো। আমরা আশা করি, এখানে প্রতিবছর ন্যূনতম ৫ শতাধিক ফ্ল্যাট বিক্রি হবে।’

আবাসন খাতে সরকারের প্রণোদনার কথা উল্লেখ করে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের সরকারও ব্যবসাবান্ধব। আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা ভীষণ খুশি। প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন খাতে বিনিয়োগের জন্য ২০ বছর মেয়াদে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা এই খাতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।’

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশে আবাসন খাতে বসুন্ধরা সবচেয়ে বড় আবাসন প্রকল্প। এখানে কোনো অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা নেই। কোন সমস্যা হলেও আমাদের নিরাপত্তা কর্মীরা এ ব্যপারে সর্বদা সতর্ক থাকেন। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুন্দর পরিবেশ এখানে। আমাদের ব্যবস্থাপনাকে এমনভাবেই ঢেলে সাজানো হয়েছে।’

বাংলাদেশের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘আমি জাপানের রাষ্ট্রদুতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এখানে জাইকার মাধ্যমে ২ থেকে ৩ শতাংশ হার সুদে বিনিয়োগ করলেও, আপনাদের জন্য তা লাভজনক হবে।’

জাপান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতে বড় অংশীদার উল্লেখ করে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের অবকাঠামো, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় জাপানের জন্য নির্মাণাধীন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বড় বড় প্রকল্পে জাপানের বিনিয়োগ রয়েছে। এজন্য দেশটির কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি সাধারণত কোনো ধরনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাই না। যখন জাপানের কথা শুনেছি, তখন না এসে পারিনি।’

আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘ সময়ের পরিক্ষিত বন্ধু। আমাদের আশা, এই সম্পর্ক চিরদিন অটুট থাকবে। উদ্বোধন হওয়া এই সড়কে (জাপান স্ট্রিট) আমি প্রতিদিন হাঁটি। এখন এই সড়কটি জাপানের নামে উৎসর্গ করা হলো।’

জাপানের রাষ্ট্রদুত নাওকি ইতো বলেন. “জাপান বাংলাদেশের পরিক্ষিত অর্থনৈতিক বড় অংশীদার। আমার জানামতে, বাংলাদেশে ‘জাপান স্ট্রিট’ নামে কোন সড়ক নেই। এই সড়কের নামকরণের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এজন্য বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানসহ নেপথ্যে যারা সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞ। এটা জাপান-বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইল ফলক।’

জাপানের রাস্ট্রদুত বলেন, ‘এই বছর মুজিব বর্ষ। আগামী বছর বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী। আর এর পরের বছর অথাৎ ২০২২ সাল হবে জাপান-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর। আমাদের আশা, এই সময় থেকে আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক আরো  একধাপ এগিয়ে যাবে।’

বাংলাদেশ সম্ভাবানময় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল উল্লেখ করে নাওকি ইতো বলেন, জাইকা বাংলাদেশে আবাসন খাতসহ সম্ভাব্য সবখাতে  বিনিয়োগ করবে। জাইকা বাংলাদেশে বেশকিছু বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। মেট্রোরেল, আড়াইহাজার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল. মাতারবাড়ী কয়লা ভিত্তিক বিদুৎ কেন্দ্র, ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

জাপানের রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশে নিশ্চিত করতে হবে জাপানসহ সব বিনিয়োগকারী দেশের জন্য। এটা করা গেলে ২১ শতকের বাংলাদেশ হবে উন্নয়নের নতুন রোল মডেল।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ড. মুরশিদ কুলি খান, ব্যবসায়ীদের শীর্ষসংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি ও ইন্দো-বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি সবুর খান, নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ এ’র জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি আবদুল হক, বিজিএমইএ সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারুক হাসান প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা