kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ১১ বছর

হাইকোর্টের রায়ের অনুলিপি পায়নি কোনো পক্ষই

এম বদি-উজ-জামান ও ওমর ফারুক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



হাইকোর্টের রায়ের অনুলিপি পায়নি কোনো পক্ষই

বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড দিবস আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। ১১ বছর আগে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তখনকার বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা, একজন সৈনিকসহ ৭৪ জন নিহত হয়েছিলেন। নিহত সেনা কর্মকর্তাদের আজ মঙ্গলবার এবং আগামীকাল বুধবার শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি।

পিলখানায় সংঘটিত ওই হত্যাযজ্ঞের মামলায় হাইকোর্টের ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় দেড় মাস আগে প্রকাশিত হলেও রায়ের অনুলিপি পায়নি কোনো পক্ষই। এ কারণে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করতে পারছে না রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ। ফলে এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আটকে আছে।

এদিকে হাইকোর্টের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপির জন্য আসামিপক্ষ ২০১৭ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩২৬টি আবেদন দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায়। এ ছাড়া রায়ের কপি পেতে দেরি হওয়ায় আসামিপক্ষ শুধু ফটোকপি দিয়ে আপিল করার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে আবেদন করেছে গত ৩ ফেব্রুয়ারি। তবে রায়ের কপি কবে নাগাদ সরবরাহ করা হবে তা বলতে পারছেন না সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত স্ট্যাম্পে ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের একটি সত্যায়িত অনুলিপি প্রস্তুত করতে কমপক্ষে ৯ লাখ টাকা খরচ হবে বলে জানা গেছে। আসামিপক্ষের দাবি, এভাবে রায়ের কপি দেওয়া হলে তা নিয়ে একটি আপিল প্রস্তুত করে দাখিল করতে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ হবে। আর ফটোকপিতে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প লাগিয়ে নিতে হলেও প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হবে। তবে শুধু ফটোকপি দিয়ে আপিল করার অনুমতি পেলে তাতেও প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হবে প্রতিটি আপিল প্রস্তুত করতে। সর্বশেষ উপায়টির জন্য আসামিপক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কাছে।

একই বিড়ম্বনার সম্মুখীন রাষ্ট্রপক্ষও। হাইকোর্ট যেসব আসামিকে খালাস দিয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ মামলায় হাইকোর্টে খালাস পাওয়া ২৮৩ জনের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, এটি একটি বিশেষ মামলা। এত বড় রায় আগে কোনো দিন কোনো মামলায় হয়নি। তাই কম খরচে এবং সহজভাবে রায়ের অবিকল নকল দেওয়ার একটি উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা হচ্ছে। দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এটি অনেক বড় রায়। এ রায়ের একটি অনুলিপির জন্য অনেক টাকা খরচ হবে। ফটোকপিতে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প লাগিয়ে যদি নিতে হয় তাহলে একটি সার্টিফায়েড কপিতে লাগবে এক লাখ ৭৫ হাজার ৫৫৪ টাকা। আর তাই কম খরচে সহজে যাতে কপি সরবরাহ করা যায় সেই চিন্তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় একটা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আসামিপক্ষে এই টাকা ব্যয় করা সম্ভব হবে কি না এটা একটা চিন্তার বিষয়। এর সমাধান কিভাবে করা যায় সে বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলব।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা রায়ের অনুলিপি চেয়ে আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো পাইনি। এ কারণে আমরা রায়ের ফটোকপি দিয়ে আপিল করার জন্য প্রধান বিচারপতির অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে একটি আবেদন দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানতে পারিনি। ফলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারছি না।’

ওই নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কারণে সরকার বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রেখেছে।

গতকাল সোমবার বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শহীদদের স্মরণে আজ শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হবে। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিজিবি সদর দপ্তরসহ সব রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটে কোরআন খতম, বিজিবির সব মসজিদে এবং বিওপি পর্যায়ে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় সকাল ৯টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান (সম্মিলিতভাবে), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক (একত্রে) শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ ছাড়া বিজিবির যেসব স্থানে রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলন হয় সেসব স্থানে বিজিবি পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং বিজিবির সব সদস্য কালো ব্যাজ ধারণ করবেন।

আগামীকাল বাদ আসর পিলখানার কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা